২০১৮ সালের ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর বাসের বেপরোয়া চালনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে। যদিও তখন সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তবে ছয় বছর পরও সড়কব্যবস্থায় বাস্তব কোনো পরিবর্তন আসেনি। যানজট, ঝুকিপূর্ণ যানবাহন, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা এই সমস্যাটিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।
সমস্যার প্রধান কারণসমূহ:
১. শাসনব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা
- প্রশাসনিক অদক্ষতা ও দুর্বলতা
- দায়িত্বহীনতা এবং জবাবদিহির অভাব
- রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা
২. দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব
- ভুয়া লাইসেন্সধারী চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন
- বিআরটিএ, ট্রাফিক বিভাগ ও অন্যান্য দপ্তরে ঘুষ ও অনিয়ম
- পরিবহন মালিকদের সঙ্গে রাজনীতিকদের ঘনিষ্ঠতা
- শক্তিশালী পরিবহন সিন্ডিকেট এই খাতের সংস্কারকে বাধা দেয়
৩. প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়হীনতা
- ডিএমপি, বিআরটিএ ও ডিটিসিএ’র মধ্যে কোনো কার্যকর সমন্বয় নেই
- আলাদা কাজ করে, অথচ সিদ্ধান্তগুলো একে অন্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক
- সড়ক ব্যবস্থাপনায় একাধিক মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা, কিন্তু সমন্বয়ের অভাব
৪. নীতির সাথে বাস্তবতার অসঙ্গতি
- বাস রুট রেশনালাইজেশন বা ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ এর মতো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি
- মালিকপক্ষের চাপ ও ক্ষতিপূরণের অভাব
- নীতিনির্ধারকেরা বাস্তব দুর্ভোগ থেকে বিচ্ছিন্ন (ভিআইপি বহর, সাইরেন)
৫. অকার্যকর প্রকৌশল ও রোড ডিজাইন
- ভুল রোড-মার্কিং ও ট্রাফিক সাইন অনুপস্থিত
- প্রকল্পে প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাব
৬. দৃষ্টিনন্দনতার প্রাধান্য
- প্রকল্পে কার্যকারিতার বদলে দৃশ্যমানতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়
- জনগণের প্রয়োজন না বুঝে পরিকল্পনা করা হয়
৭. নাগরিকদের নিরুৎসাহ ও আত্মসমর্পণমূলক মানসিকতা
- মানুষ এখন পরিস্থিতিকে মেনে নিচ্ছে, পরিবর্তনের আশা হারাচ্ছে
- এটি ঢাকার মতো মেগাসিটিতে থাকার "মূল্য" হিসেবে মেনে নেওয়ার প্রবণতা
প্রস্তাবিত সমাধানসমূহ:
১. শাসনব্যবস্থার সংস্কার
- দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার করতে হবে
- জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে
২. দুর্নীতির লাগাম টানতে হবে
- ট্রাফিক ব্যবস্থার মূল অসুখ হলো দুর্নীতি, এটি নির্মূল করতে হবে
- রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে
৩. প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়
- ডিএমপি, বিআরটিএ, ডিটিসিএ এর মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে
- একীভূত নীতিমালা ও বাস্তবায়ন কাঠামো দরকার
৪. বাস্তবভিত্তিক নীতি প্রণয়ন
- সব অংশীজন (যেমন মালিক, চালক, যাত্রী) এর মতামত নিয়ে নীতি প্রণয়ন
- ক্ষতিপূরণ ও উদ্ভাবনী পদ্ধতির মাধ্যমে রুট রেশনালাইজেশন বাস্তবায়ন
৫. নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারক
- যাঁরা নীতিনির্ধারণ করেন, তাঁদের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বুঝতে হবে
- “ভিআইপি” সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে
৬. কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন
- ব্যবহারযোগ্য ও নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করতে হবে
- প্রকল্পে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি

0 comments:
Post a Comment