বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনুচ্ছেদ ৭০ এর প্রাসঙ্গিকতা ও বিতর্ক

একটি কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল শক্তি হচ্ছে মুক্তচিন্তা, মতের ভিন্নতা এবং সাংসদের স্বাধীনতা। কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংসদ সদস্যদের উপর দলীয় আনুগত্য আরোপ করে তাদের স্বাধীনতা খর্ব করে বলে অনেকের দাবি। আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সুরক্ষা বলেই মনে করেন।

সংবিধানে রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোট দানের কারণে আসন শূন্য হওয়া সংক্রান্ত ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-

ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা 

খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোট দান করেন,

তা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সে কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।

৭০ অনুচ্ছেদের পক্ষে যুক্তি:

১। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা: এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের দলত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়া রোধ করা যায়, যা সরকার পতনের আশঙ্কা কমিয়ে দেয় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

২। সংসদ সদস্য কেনাবেচা রোধ: অতীতে উপমহাদেশে সংসদ সদস্যদের কেনাবেচার (Horse Trading) মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত রয়েছে। ৭০ অনুচ্ছেদ এ ধরনের অনৈতিক ও দুর্নীতিপূর্ণ রাজনীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

৩। নির্বাচনকালীন প্রতারণা রোধ: দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে গিয়ে দলবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। ৭০ অনুচ্ছেদ জনগণের সেই আস্থার রক্ষা করে।

৪। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সুরক্ষা: অনুচ্ছেদটি রাজনীতিকে মূল্যবোধহীন ও কৌশলগত দলবদলের হাত থেকে রক্ষা করে। এটি রাজনৈতিক আদর্শের স্থায়িত্বে সহায়ক।

৭০ অনুচ্ছেদের বিপক্ষে যুক্তি:

১। ব্যক্তি স্বাধীনতা ও বিবেকের অধিকার লঙ্ঘন: সংসদ সদস্যরা তাদের বিবেক, চিন্তা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে ভোট দিতে পারেন না। এতে ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ হয় এবং তারা কার্যত দলের "ক্রীতদাসে" পরিণত হন।

২। সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে বাধা: সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ না থাকায় প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব হয় না।

৩। অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়: সরকার বা দল যদি কোনো অগণতান্ত্রিক বিল উত্থাপন করে, তা হলেও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে বাধ্য হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সদস্যরা এর বিরোধিতা করতে পারেন না।

৪। প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্ব বৃদ্ধি পায়: সংসদে সদস্যদের স্বাধীন মত না থাকায় প্রধানমন্ত্রী কার্যত সংসদের একক নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন, যা একনায়কতান্ত্রিক শাসনের ইঙ্গিত দেয়।

৫। সংসদের কার্যকারিতা হ্রাস পায়: আইন প্রণয়নে গঠনমূলক আলোচনা বা ভিন্নমত তুলে ধরার সুযোগ না থাকায় সংসদের কার্যকারিতা কমে যায়।

৬। দলের ভিতরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কমে যায়: ৭০ অনুচ্ছেদ থাকায় দলের ভেতরে নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও কেউ কথা বলে না, যার ফলে জবাবদিহিমূলক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে না।

পরিশেষে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করলেও এটি সংসদীয় গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং জবাবদিহিতার পথ রুদ্ধ করে দেয় বলে অনেকের মত। একদিকে এটি দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করে, অন্যদিকে সাংসদদের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক ভারসাম্যকে খর্ব করে।

বিসিএস লিখিত পরীক্ষার বিগত বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচন সংকলন


লিখিত বিগত বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচন প্রশ্ন

১০ তম বিসিএস

মাছের মার কান্না (মমতাহীন কান্না): কালোবাজারের কল্যাণে লাখ লাখ টাকা কামিয়েছ, গেলই বা কয়েক'শ টাকা, তাতে কী আসবে যাবে, মাছের মার আবার কান্না।

কান পাতলা (যে সব কথাই বিশ্বাস করে): তোমার মতো কান পাতলা লোক জীবনে উন্নতি করতে পারবে না।

কলির সন্ধ্যা (কষ্টের সূচনা): বন্যা এসে গেছে, জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, আরও যে কত বাড়বে তার ইয়ত্তা নেই, সবে তো কলির সন্ধ্যা।

লম্বা দেওয়া (চম্পট দেওয়া): গতরাতে রেডিওটা নিয়ে চাকর ছেলেটা লম্বা দিয়েছে।

সোনায় সোহাগা (সুন্দর মিলন): যেমন বর তেমন কনে, এ যেন সোনায় সোহাগা।

মিছরির ছুরি (মিষ্টি কথায় তীক্ষ্ণ আঘাত): তার কথাগুলো মিছরির ছুরির মতো বুকে বিঁধে।

মাকাল ফল (আন্তঃসারশূন্য লোক): পোশাকে পরিপাটি হলেও আসলে লোকটি একটি মাকাল ফল।

জিলাপির প্যাঁচ (কূটবুদ্ধি): যার পেটে এত জিলাপির প্যাঁচ, তাকে সব কথা বলা তোমার উচিত হয়নি।

তীর্থের কাক (অধির আগ্রহে প্রতীক্ষা): ভিখারিনীটি একটা শাড়ির আশায় সেই সকাল থেকে তীর্থের কাকের মতো বসে আছে।

তুলকালাম (বিরাট ব্যাপার): দুই পড়শির মধ্যে সামান্য ঘটনা থেকে কী তুলকালাম কাণ্ডই না ঘটে গেল।

 

১১ তম বিসিএস

দুধের মাছি (সুসময়ের বন্ধু): সুদিনে দুধের মাছির অভাব হয় না।

ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ (অপরিমিত অপব্যয়): পরের টাকায় ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ অনেকেই করে।

গোকূলের ষাঁড় (স্বেচ্ছাচারী): ডাক্তার বাবুর ছেলে গোকূলের ষাঁড়ের মতো ঘুরে বেড়ায়।

পাকা ধানে মই (বিপুল ক্ষতি করা): আমি কী তোমার বাড়া ভাতে ছাই দিয়েছিলাম যে, তুমি আমার পাকা ধানে মই দিলে?

ব্যাঙের আধুলি (অতি সামান্য ধন): তোমার এ ব্যাঙের আধুলিতে আমার কোন উপকার হবে না।

মান্ধাতার আমল (পুরনো আমল): তোমার সেই মান্ধাতার আমলের কলম নিয়ে আমি কলেজে যেতে পারব না।

দূর্বা গজানো (অত্যন্ত অলস): ছেলেটিকে কোনো কাজ করতে না দিয়ে হাড়ে দূর্বা গজানোর ব্যবস্থা করেছ।

সাপে নেউলে (শত্রু ভাব): নিজেদের মধ্যে সাপে নেউলে সম্পর্ক থাকলে শত্রুরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে।

রাবণের চিতা (চির অশান্তি): প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকতেই দ্বিতীয় বিয়ে করে সেলিমের সংসারে এখন রাবণের চিতা জ্বলছে।

মাকাল ফল (অন্তঃসারশূন্য): পোশাকে পরিপাটি হলেও আসলে লোকটি একটি মাকাল ফল।

 

১৩ তম বিসিএস

ক অক্ষর গোমাংস (বর্ণপরিচয়হীন): ছেলেটির বিদ্যা তো ক অক্ষর গোমাংস, তাকে নিয়ে এত অহংকারের কী আছে?

গণপিটুনি (প্রচণ্ড মার): গণপিটুনিতে কথিত চোরটা অক্কা পেল।

গোঁফখেজুরে (অত্যন্ত অলস): এমন গোঁফখেজুরে হলে জীবনে উন্নতি করা যায় না।

পর্বতের মূষিক প্রসব (বেশি প্রত্যাশায় সামান্য প্রাপ্তি): নির্বাচনি ওয়াদার প্রেক্ষিতে সরকার কর্তৃক সামান্য বেতন বৃদ্ধি যেন পর্বতের মূষিক প্রসব।

শিরে সংক্রান্তি (আসন্ন বিপদ): কাল আমাদের অনুষ্ঠান, এখন আমার শিরে সংক্রান্তি, তুমি এলে টাকা চাইতে।

চাঁদের হাট (আনন্দ সমাবেশ): বিয়ে বাড়িতে সব আত্মীয়ই এসেছে, যেন চাঁদের হাট বসেছে।

বিদুরের খুদ (শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সামান্য দান): দয়া করে বিদুরের খুদ গ্রহণ করে ধন্য করুন। কি ফেলনাকানার

একাদশে বৃহস্পতি (সুসময়): মুকুলের এখন একাদশে বৃহস্পতি, বন্ধুবান্ধবের যেন অভাব নেই।

 

১৫ তম বিসিএস

আলালের ঘরের দুলাল (আদুরে ছেলে): আদর দিয়ে ছেলেকে আলালের ঘরের দুলাল করে তুললে তার সর্বনাশই করা হয়।

উলুবনে মুক্তা ছড়ানো (অপাত্রে জ্ঞান দেওয়া): তোমার মতো নির্বোধকে উপদেশ দেওয়া আর উলুবনে মুক্তা ছড়ানো এক কথা।

গড্ডলিকা প্রবাহ (অন্ধ অনুকরণ): গড্ডলিকা প্রবাহে ভেসে চললে জীবনে উন্নতির কোনো আশা নেই।

গোড়ায় গলদ (শুরুতেই ভুল): ওহে, তোমার দিন তো খারাপ, তা নইলে কি গোড়ায় গলদ হয়?

উভয়-সংকট (দুই দিকে বিপদ): অফিসার সাহেবের কথা রক্ষা করলেই সত্যের খেলাপ হয় আর না করলে চাকরি রাখা কঠিন, আমার হয়েছে উভয় সংকট।

কড়ায়-গণ্ডায় (পুরাপুরি): আমার পাওনা আমি কড়ায় গণ্ডায় মিটিয়ে নেব।

আদা-জল খেয়ে লাগা (কোমর বেঁধে লাগা): আনোয়ার গতবার পরীক্ষায় ভালো করেনি তাই এবার আদা জল খেয়ে পড়তে লেগেছে।

আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ): আমড়া কাঠের ঢেঁকি কে ভোট দিলে এলাকার উন্নয়ন হবে কী করে?

 

১৭ তম বিসিএস

অহি-নকুল (চরম শত্রুতা): ভাইয়ে ভাইয়ে এরূপ অহি-নকুল সম্পর্ক আমি কখনও দেখিনি।

আকাশ কুসুম (অবাস্তব কল্পনা): বসে বসে আকাশ কুসুম ভেবে লাভ নেই, কাজ করো।

টনক নড়া (সচেতন হওয়া): সারা বছর খালেদ পড়াশোনা করেনি, ফেল করে টনক নড়েছে।

মগের মুল্লুক (অরাজক অবস্থা): একি মগের মুল্লুক পেয়েছ যে তোমার কথায় সবাইকে চলতে হবে।

জিলাপির প্যাঁচ (দুষ্ট বুদ্ধি): তোমার মধ্যে যে এত জিলাপির প্যাঁচ তা আমি জানতাম না।

ডামাডোল (গোলযোগ): যুদ্ধের ডামাডোলে সবাই কিছু না কিছু হারিয়েছে।

ঘোড়া রোগ (সাধ্যের অতিরিক্ত ব্যয় করা): রোজ ভাত জুটে না আবার সিনেমা দেখা, গরিবের যেন ঘোড়া রোগ।

কাষ্ঠ হাসি (কপট হাসি): ভদ্রতার খাতিরে বাদী কাষ্ঠ হাসি হেসে বিবাদীকে নমস্কার করল।

 

১৮ তম বিসিএস

লেজে গোবরে (বিশৃঙ্খলা): সেলিম সামান্য একটা কাজ করতে এক ঘণ্টা সময় নিয়েও শেষপর্যন্ত লেজে গোবরে করে ফেলল।

রাখঢাক (গোপন করা): সত্যকে রাখঢাক করে লাভ নেই, তা একদিন প্রকাশ পাবেই।

গা ছাড়া ভাব (গুরুত্ব না দেওয়া): তোমার সব কিছুতেই যেন একটা গা ছাড়া ভাব, কোন বিষয়ই গুরুত্বসহকারে দেখো না।

ঘাটের মড়া (অতিবৃদ্ধ): ঘাটের মড়া স্বামীকে নিয়ে মহিলাটি খুব বিপদে আছে।

পেট পাতলা (গোপনীয়তা রক্ষা করতে না পারা): পেট পাতলা লোকের কাছে গোপন কথা বলা উচিত নয়।

আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অকর্মণ্য): আসলে তুই একটা আমড়া কাঠের ঢেঁকি, কোনো কিছুই ভালো করে বুঝিস না।

কান পাতলা (সহজেই অন্যের কথায় বিশ্বাস করা): তোমার মতো কান পাতলা লোক খুব কমই চোখে পড়েছে।

 

২০ তম বিসিএস

আকাশ কুসুম (অলীক কল্পনা): বসে বসে আকাশ কুসুম চিন্তা করে লাভ নেই, কাজ করো।

অরণ্যে রোদন (নিষ্ফল আবেদন): মতিন সাহেবের নিকট এ বিষয়ে তোষামোদ করা আর অরণ্যে রোদন একই কথা।

আক্কেল সেলামী (বোকামির শাস্তি): বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ করতে গিয়ে ধরা পড়ে তার পঁচিশ টাকা আক্কেল সেলামী দিতে হলো।

খয়ের খাঁ (চাটুকারী): মীর জাফর ইংরেজদের খয়ের খাঁ গিরি করেও নবাবী টেকাতে পারেনি।

দহরম মহরম (মাখামাখি): দুজনের মধ্যে খুব দহরম মহরম দেখছি, শেষপর্যন্ত তা টিকবে তো?

কই মাছের প্রাণ (অত্যন্ত কষ্টসহিষ্ণু): প্রচণ্ড দারিদ্র্যের মধ্যেও তারা কোন রকমে বেঁচে আছে, এ দেখছি কই মাছের প্রাণ।

রাঘব বোয়াল (পদস্থ): সরকারি চাকুরেদের মধ্যে যারা রাঘব বোয়াল তারাই আজ বাড়ি-গাড়ির মালিক।

কান কাটা (সম্মান যাওয়া): ব্যাংক ডাকাতিতে ছেলে ধরা পড়ায় চেয়ারম্যান সাহেবের কান কাটা গেল।

পায়াভারী (অহংকারী): পায়াভারী স্বভাব পতন ডেকে আনে।

 

২১ তম বিসিএস

অকাল কুষ্মাণ্ড (অপদার্থ): অকাল কুষ্মাণ্ড লোকের কাছে উপকার আশা করা বৃথা।

শিরে সংক্রান্তি (আসন্ন বিপদ বা সমূহ বিপদ): আমার এখন শিরে সংক্রান্তি, রসিকতা ভালো লাগছে না।

আলালের ঘরের দুলাল (অতি আদরের অকর্মা সন্তান): আমরা তো আর আলালের ঘরের দুলাল নই যে পড়াশুনা না করে নবাবী কায়দায় চলতে পারব।

ইঁচড়ে পাকা (অকালপক্ব): ইঁচড়ে পাকা ছেলেদের কথা শুনলে আক্কেল গুড়ুম হয়ে যায়।

কপাল ফেরা (সৌভাগ্য লাভ হওয়া): লটারির পুরস্কার পেয়ে বাবরের কপাল ফিরেছে।

গুড়ে বালি (আশায় নৈরাশ্য): আশা করেছিলাম লটারির পুরস্কার পাব, কিন্তু টিকেট হারিয়ে এখন সে গুড়ে বালি।

কাঠের পুতুল (জড় পদার্থ): কাঠের পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে না থেকে কাজে নেমে পড়ো।

রাবণের চিতা (চির অশান্তি): প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকতেই দ্বিতীয় বিয়ে করে সেলিমের সংসারে এখন রাবণের চিতা জ্বলছে।

গোবর গণেশ (নিরেট মূর্খ): গোবর গণেশ লোককে দিয়ে কোনো কর্ম সাধন করা যায় না। ১২ঙ্গক্সায় ভক টাউ

অমাবস্যার চাঁদ (দুর্লভ বস্তু): কী ব্যাপার! তোমাকে দেখাই যায় না, একেবারে অমাবস্যার চাঁদ হয়ে গেলে যে।

 

২২ তম বিসিএস

কানাকড়ির সম্পর্ক (তুচ্ছ সম্পর্ক): ছেলেটি আমার আত্মীয় হলেও তার সাথে আমার কানাকড়ির সম্পর্কও নেই।

চোখের চামড়া (লজ্জা): অকৃতজ্ঞ লোকের কখনো চোখের চামড়া থাকে না, তারা যে কোন কাজ করতে পারে।

পায়াভারী (অহংকারী): পায়াভারী স্বভাব ছাড়ো, জানো না অহংকার পতনের মূল।

ব্যাঙের সর্দি (অসম্ভব ব্যাপার): জেলেকে দেখাও ঠাণ্ডা লাগার ভয় ব্যাঙের আবার সর্দি।

ষোলআনা (পুরাপুরি): তিনি তার স্বার্থ ষোলআনা উদ্ধার করে নিয়েছেন, এখন বিদায় হতে পারলে বাঁচেন।

কানপাতলা (যে সব কথাই বিশ্বাস করে): তোমার মতো কানপাতলা লোক খুব কমই দেখছি।

ঘোড়া রোগ (বিলাসিতা): দিনে দুবেলা ভাত জুটে না, অথচ গাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখে, গরিবের আবার ঘোড়া রোগ?

তালকানা (কাণ্ডজ্ঞানহীন): তালকানা লোক শুধু অন্ন ধ্বংস করতে পারে, তাকে দিয়ে কোনো ভালো কাজ আশা করা যায় না।

 

২৩ তম বিসিএস

অন্ধের যষ্টি (একমাত্র অবলম্বন): অন্ধের ষষ্টি দুঃখিনী মায়ের এই ছেলেটিই।

অরণ্যে রোদন (নিষ্ফল আবেদন): চৌধুরী সাহেবের নিকট সাহায্য চেয়ে তোষামোদ করা আর অরণ্যে রোদন একই কথা।

আষাঢ়ে গল্প (অবিশ্বাস্য কাহিনি): রাজিব আষাঢ়ে গল্প বলতে ওস্তাদ, তার সব কথা বিশ্বাস করতে নেই।

এলাহি কাণ্ড (বিরাট ব্যাপার): মতিন সাহেবের মেয়ের বিয়েতে যেন এলাহি কাণ্ড শুরু হয়েছে।

ভেজা বিড়াল (নিরীহ কিন্তু কূটবুদ্ধিসম্পন্ন): ভেজা বিড়াল লোকেরা যেকোনো সময় সর্বনাশ করতে পারে।

মগের মুল্লুক (অরাজকতা): তুমি কি মগের মুল্লুক পেয়েছ যে এককাপ চায়ের দাম বিশ টাকা?

মণিহারা ফণী (প্রিয় বস্তু হারানো অস্থির ব্যক্তি): ওসি সাহেব সদ্য চাকরিচ্যুত হয়েছেন, এখন আর তাকে কেউ ভয় পায় না, এ যেন মনিহারা ফণি।

শাপে বর (অকল্যাণ হতে কল্যাণ): কলেজের চাকরি না হয়ে আমার শাপে বর হয়েছে, কলেজটা শেষপর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেল।

সবেধন নীলমণি (একমাত্র অবলম্বন): বিধবার সবেধন নীলমণি ছেলেটি গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে।

 

২৪ তম বিসিএস

কড়ায়-গণ্ডায় (পুরাপুরি): আমার ভাগ আমি কড়ায়-গণ্ডায় চাই, নইলে তোমার বিপদ আছে।

আড়ি পাতা (গোপনে শোনা): টেলিফোনে আড়ি পাতা সংক্রান্ত বিলটি সংসদে পাস হয়েছে।

আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ): তোমার মতো আমড়া কাঠের ঢেঁকি দিয়ে কোনো কাজ হবে না।

কাঠের পুতুল (জড় পদার্থ): বিপদের সময় সাহায্য না করলে তোমার মতো কাঠের পুতুল আমার প্রয়োজন নেই।

উড়নচণ্ডী (অমিতব্যয়ী): বাবা ছিল কৃপণ অথচ তার একমাত্র ছেলে হয়েছে উড়নচণ্ডী।

গুঁড়ে বালি (আশায়-নৈরাশ্য): ভেবেছিলাম, তুমি বিপদে আমাকে সাহায্য করবে, এখন দেখছি সে আশায় গুঁড়ে বালি।

ইতরবিশেষ (পার্থক্য): ইসলাম ধর্মে ধনী-দরিদ্রে কোনো ইতরবিশেষ নেই।

জিলাপির প্যাঁচ (কূটবুদ্ধি): খুব বেশি জিলাপির প্যাঁচ খাটিয়ো না, ভবিষ্যতে পস্তাতে হবে।

 

২৫ তম বিসিএস

আঠারো মাসে বছর (দীর্ঘসূত্রতা): তোমাকে দিয়ে এ কাজ হবে না, তোমার তো আঠারো মাসে বছর।

কালনেমির লঙ্কাভাগ (দুর্লভ বস্তু লাভের আগে তা উপভোগ করার অলীক কল্পনা): এখনও এসএসসি পাসই করোনি, তাতেই ভবিষ্যতে সচিব হবার স্বপ্ন দেখছ, এ যে কালনেমির লঙ্কাভাগ।

ঘর জাত করা (অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করা): আগে নিজের ঘর জাত করো তারপর অন্যের বিষয়ে নাক গলাবে।

ঘাট মানা (দোষ বা ত্রুটি স্বীকার করা): ঘাট মানছি, এমন কাজ আর কখনো করব না।

চড় মেরে গড় (অপমানের পর সম্মান প্রদর্শন): সবার সামনে যাচ্ছেতাই বলে এখন আসছ মাফ চাইতে, তোমার চড় মেরে গড়ের ভণ্ডামি আমি বুঝি না ভেবেছ?

শিয়ালের ডাক (অশুভ লক্ষণ): এমনিতে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি, তার ওপর জঙ্গিবাদ, এ যে শিয়ালের ডাক।

হাড়-হদ্দ (ভালোভাবে জানা): আমি তার হাড়-হদ্দ চিনি, সে একটা বকধার্মিক।

অতি আশা বাঘের বাসা (অতিরিক্ত কোনোকিছুই ভালো না): বিসিএস-এ চাকরি হবে, এ ভরসায় অন্যকোনো চাকরিতে যোগ দিলে না, এ হচ্ছে অতি আশা বাঘের বাসা।

পেট গরম (খাবারে অরুচি হওয়া): এখন পেট গরম আছে, আর কিছুই খাওয়া সম্ভব না।

ছ আঙুলের আঙুল (অতিরিক্ত): ঘরজামাই থাকা মানে ছ আঙুলের আঙুল হয়ে বেঁচে থাকা।

 

২৭ তম বিসিএস

অকাল বোধন (অসময়ে আবির্ভাব): শীতকালেও বাজারে আম পাওয়া যায়, এ যেন অকাল বোধন।

ঈদের চাঁদ (কাঙ্ক্ষিত বস্তু): প্রবাসী ছেলেকে কাছে পেয়ে বৃদ্ধ মা যেন ঈদের চাঁদ হাতে পেলেন।

পাথরের পাঁচ কিল (অদৃষ্ট সুপ্রসন্ন): রফিক হঠাৎ চাকরি পেল। এখন তার পাথরের পাঁচ কিল।

আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ): আমড়া কাঠের ঢেঁকিরা দেশের বোঝা, তাদের মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল (প্রাপ্তির পূর্বেই ভোগের আয়োজন): আজাদ ডিভি লটারি পেলে গ্রামসুদ্ধ দাওয়াত করে খাওয়াবে বলে ঘোষণা দিয়েছে এ যেন গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।

চশমখোর (চক্ষুলজ্জাহীন): তোমার মতো চশমখোর ব্যক্তিই পারে এতিমের টাকা মেরে খেতে।

হাড়ে বাতাস লাগা (স্বস্তিবোধ করা): কুখ্যাত সন্ত্রাসী কালু মিয়া র‍্যাবের ক্রসফায়ারে মারা যাওয়ায় এলাকাবাসীর হাড়ে বাতাস লেগেছে।

রগচটা (বদমেজাজী): অফিসে বসের রগচটা স্বভাব কেউ পছন্দ করে না।

সোনার পাথর বাটি (অসম্ভব বস্তু): স্বপ্নে সোনার পাথর বাটির খোঁজ না করে কাজে নেমে পড় সাফল্য আসবে।

ছেঁড়া চুলে খোঁপা বাঁধা (বৃথা চেষ্টা): দুই নেত্রীকে সংলাপে বসানোর চেষ্টা মানে হলো ছেঁড়া চুলে খোঁপা বাঁধার চেষ্টা করা।

 

২৮ তম বিসিএস

যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ (ক্ষমতার জোরে মানুষের স্বভাব বদলায়): রাজনীতির মঞ্চে উঠলেই বোঝা যায়, যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ, আসলে ক্ষমতা মানুষকে বদলে দেয়।

 

২৯ তম বিসিএস

মাছের মায়ের পুত্রশোক (অবিশ্বাস্য হাহাকার): তোমার মুখে দেশপ্রেমের কথা! এ যে মাছের মায়ের পুত্রশোক।

 

৩০ তম বিসিএস

অতি দর্পে হত লঙ্কা (অহংকারে পতন অবশ্যম্ভাবী): তাঁর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই শেষমেশ তাঁকে ডুবিয়েছে, কথায় বলে অতি দর্পে হত লঙ্কা।

 

৩১ তম বিসিএস

যে সহে সে রহে (বিপদে ধৈর্য ধারণ বিফলে যায় না): শত সমস্যার মুখোমুখি হয়েও সে হাল ছাড়েনি, এইজন্যেই লোকে বলে যে সহে সে রহে।

 

৩২ তম বিসিএস

সে কহে বিস্তর মিছা, যে কহে বিস্তর (মিথ্যাবাদিরা বেশি কথা বলে): যে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কথা বলে, তার কথায় বিশ্বাস রাখা যায় না, কারণ সে কহে বিস্তর মিছা, যে কহে বিস্তর।

 

৩৩ তম বিসিএস

পুষ্প আপনার জন্যে ফোটে না (আত্মোৎসর্গেই ব্যক্তিজীবনের সার্থকতা): জীবনের সত্যিকারের সৌন্দর্য তখনই ধরা দেয়, যখন আমরা নিজেকে অন্যের সেবায় উৎসর্গ করি, কারণ পুষ্প আপনার জন্যে ফোটে না।

 

৩৪ তম বিসিএস

আগে-পিছে লন্ঠন, কাজের বেলা ঠনঠন (আয়োজনে বাড়াবাড়ি, কিন্তু কাজে একেবারে ফাঁকি): দশমিনিট পড়ার জন্য চা-কফি সব নিয়ে বসেছে, একেই বলে আগে-পিছে লণ্ঠন, কাজের বেলায় ঠনঠন।

টনক নড়া (সচেতন/সজাগ হওয়া): এলাকাবাসীর শত আবেদন সত্ত্বেও এবড়ো থেবড়ো রাস্তাটি মেরামত হয়নি। মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে।

ডামাডোল (গোলযোগ): এসব ডামাডোলের মধ্যে তোমার না যাওয়াই ভালো।

কাষ্ঠহাসি (কপট/কৃত্রিম হাসি): চতুর মানুষগুলো নিজেদের কাজ হাসিল করার জন্য কাষ্ঠ হাসি দিয়ে থাকে।

গোড়ায় গলদ (শুরুতেই ভুল): তুমি সফল হবে কীভাবে! তোমার যে গোড়ায় গলদ।

লেফাফা দুরস্ত (বাইরে পরিপাটি): শুধু লেফাফা দুরস্ত হয়ে থাকলে কি কাজ সমাধা হবে?

লেজে গোবরে (বিশৃঙ্খলা): দরিদ্রদের মাঝে শীত-বস্ত্র বিতরণ করতে গিয়ে মন্ত্রী মহোদয়ের লেজে গোবরে অবস্থা।

 

৩৫ তম বিসিএস

হরি ঘোষের গোয়াল (বহু বেকার লোকের আড্ডা): এই দোকানে এত ভিড় যে, মনে হয় হরি ঘোষের গোয়াল।

ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে (নিজের অবশ্যম্ভাবী বিপদ সম্বন্ধে অজ্ঞানতা): সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না বলে বৃদ্ধকে দেখে যেসব যুবক মশকরা করে তারা বোঝে না একদিন তারাও বৃদ্ধ হবে, আসলে ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে – এই সাধারণ কথাটা তারা ভুলে যায়।

চিত্রগুপ্তের খাতা (স্বচ্ছ ও নির্ভুল হিসাব): লোকটি এত কষ্ট পাচ্ছে, কারণ সে জীবনে অনেক খারাপ কাজ করেছে, এ তো চিত্রগুপ্তের খাতার ফল।

ওঝার ব্যাটা বনগরু (জ্ঞানী লোকের মূর্খ সন্তান): এত ভালো বংশের ছেলে, অথচ এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন! একেই বলে ওঝার ব্যাটা বনগরু।

শিখণ্ডী খাড়া করা (আড়ালে থেকে অন্যায় কাজ করা): লোকটা সবসময় অন্যদের শিখণ্ডী খাড়া করে নিজের ফায়দা লোটে।

থোর বড়ি খাড়া খাড়া বড়ি থোর (একঘেয়েমির চূড়ান্ত): প্রতিটি মিটিং-এই তারা একই কথা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বলছে, পুরো ব্যাপারটাই থোর বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোর।

 

৩৬ তম বিসিএস

উড়নচণ্ডী (অমিতব্যয়ী): এমন উড়নচণ্ডী হলে জমিদারি খোয়াতে বেশি দিন লাগবে না।

খণ্ড প্রলয় (তুমুল কাণ্ড): এমন সামান্য ঘটনা নিয়ে এমন খণ্ড প্রলয় হবে তা কখনো ভাবতে পারিনি।

আসলে মুষল নেই ঢেঁকি ঘরে চাঁদোয়া (উপযুক্ত ব্যবস্থা অবলম্বনের অভাব): ঘরে ভাত নেই হাতে স্মার্ট ফোন এ তো দেখছি আসলে মুষল নেই ঢেঁকি ঘরে চাঁদোয়ার মতো অবস্থা।

যার কর্ম তার সাজে অন্য লোকের লাঠি বাজে (পটু বা দক্ষ লোকের পক্ষে যা সহজ অপটু লোকের দ্বারা অসম্ভব): রিকসা চালককে দিয়ে বাস চালকের কাজ করালে ঝামেলা তো লাগবেই একেবারেই অসম্ভব। তাই কথায় বলে যার কর্ম তার সাজে অন্য লোকের লাঠি বাজে।

একাদশে বৃহস্পতি (সৌভাগ্যের বিষয়): লাল মিয়ার এখন একাদশে বৃহস্পতি; ছেলে দুজনই বিসিএস ক্যাডার হলো আবার নিজের পেনশনের টাকাটাও পেয়ে গেল।

আটে-পিঠে দড় তবে ঘোড়ার উপর চড় (প্রস্তুতি নিয়ে কর্মে প্রবৃত্ত হওয়া): রহিম পরীক্ষায় ফেল তো করবেই, কারণ আমি আগে তাকে বলেছিলাম, আটে-পিঠে দড় তবে ঘোড়ার উপর চড়।

 

৩৭ তম বিসিএস

হরিষে বিষাদ (আনন্দে হঠাৎ দুঃখ): বিয়ের অনুষ্ঠানে বরযাত্রীর বাস দুর্ঘটনার খবর শুনে বিয়ে বাড়িতে হরিষে বিষাদ দেখা দেয়।

সুলুক সন্ধান (খোঁজ খবর): ব্যবসার সুলুক সন্ধান তার বেশ ভালোই জানা আছে।

মন না মতি (অস্থির মন): জীবনে ভালো কিছু করতে হলে মন না মতি ভাব পরিত্যাগ করা উচিত।

সোনার কাঠি রূপোর কাঠি (বাঁচা মরার উপায়): সে সহজে আমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, কারণ তার ব্যবসার সোনার কাঠি রূপোর কাঠি যে আমার হাতে।

ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে (নিজের অবশ্যম্ভাবী বিপদ সম্বন্ধে অজ্ঞানতা): একই অফিসে কর্মরত শিহাবের অপমান দেখে নয়ন খিলখিল করে হাসছে অথচ সে জানে না ঘুটির পোড়া দেখে গোবর হাসার পরিণতি সুখকর হয় না।

বিড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়া (ভাগ্যক্রমে ঈপ্সিত সুযোগ মেলা): আমি জিতব লটারিতে, তবেই হয়েছে বিড়ালের ভাগ্যে কি শিকে ছেঁড়ে?

 

৩৮ তম বিসিএস

অক্কা পাওয়া (মারা যাওয়া): ছক্কা মিয়া অক্কা পেল মক্কা যাওয়ার পথে।

তালপাতার সেপাই (অতি কৃষ ও দুর্বল): আজগরের মতো তালপাতার সেপাই যুদ্ধে যাবে শুনে বসাই হেসে উঠল।

চাঁদের হাট (আনন্দ সমাবেশ): সৈয়দ সাহেবের মেয়ের বিয়েতে সব আত্মীয় আসায় বাড়িতে যেন চাঁদের হাট বসেছে।

তাসের ঘর (ক্ষণস্থায়ী): এ দুনিয়াটা তাসের ঘর কী নিয়ে আমরা বড়াই করছি।

সাক্ষী গোপাল (কর্তৃত্বহীন দর্শক মাত্র): ছেলেটা এমন সাক্ষী গোপাল কোনো কাজে পাঠিয়ে শান্তি নেই।

 

৪০ তম বিসিএস

আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ): আমাদের গ্রামের মেম্বার হচ্ছে আমড়া কাঠের ঢেঁকি, ওনাকে দিয়ে ত্রাণ বিতরণ সম্ভব নয়।

শাক দিয়ে মাছ ঢাকা (দোষ গোপনের বৃথা চেষ্টা): পড়ালেখা কর না স্বীকার কর, শাক দিয়ে মাছ ঢাক কেন?

তামার বিষ (অর্থে কু-প্রভাব): রাতারাতি বড় লোক বনে গিয়েছ, তাই তুমি তামার বিষের প্রভাবে প্রভাবিত।

মিছরির ছুরি (মধুর অথচ তীক্ষ্ণ): অনামিকার হাসি যেন মিছরির ছুরি, যাকে পায় তাকেই ঘাঁয়েল করে।

ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় (ভালো ব্যক্তি পাওয়াই মুশকিল): সামনে ইলেকশন মেম্বার প্রতিনিধি খুঁজতে ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়।

ননীর পুতুল (কোমল দেহ): একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর হয়, এ যেন ননীর পুতুল।

 

৪১ তম বিসিএস

জড়ভরত (অকর্মণ্য ব্যক্তি/নিষ্ক্রিয় ব্যক্তি): আলমের মতো জড়ভরত দিয়ে আর যাইহোক নিরাপত্তার কথা ভাবা যায় না।

হাড়হদ্দ (সব তথ্য/নাড়ি নক্ষত্র): আলোচিত রুমানা হত্যার হাড়হদ্দ উদ্ধার করতে তৎপর গোয়েন্দা বিভাগ।

ডাকাবুকো (নির্ভীক/দূরন্ত): সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণে সক্রিয়তা রাখতে পারে ডাকাবুকো যুবক শ্রেণির ছাত্রসমাজ।

সাত ঘাটের কানাকড়ি (অকিঞ্চিতকর সংগ্রহ): যে হারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তাতে সাত ঘাটের কানাকড়ি দিয়ে কোনো কিছু করা অসম্ভব।

উনা ভাতে দুনা বল (অল্প আহার স্বাস্থ্যসম্মত): বয়স চল্লিশ হয়েছে, এবার বুঝে শুনে চল, জানো তো উনা ভাতে দুনা বল।

বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড় (কর্তার চেয়ে কর্মচারীর দাপট বেশি/হুকুমদাতার চেয়ে পেয়াদার প্রভাব ফলানো/বাপের চেয়ে ছেলের তেজ বেশি): বর্তমান সমাজে সব ক্ষেত্রেই বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড় হয়ে উঠেছে।

 

৪৩ তম বিসিএস (০০১)

মাছের মার পুত্রশোক (অস্বাভাবিক ঘটনা): তোমার মুখে দেশপ্রেমের কথা! এ যে মাছের মায়ের পুত্রশোক।

গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল (প্রাপ্তির পূর্বেই ভোগের আয়োজন): খেলা শুরু না হতেই ট্রফির চিন্তা করছ, এ যে দেখি গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।

নাই কাজ তো খই ভাজ (নিষ্কর্মার করা মূল্যহীন কাজ): আজকে তো অফিসের কাজ নেই, তাই চলেন সবাই মিলে তাস খেলি। নাই কাজ তো খই ভাজ।

আপনা মাংসে হরিণা বৈরী (আপন গুণাবলির জন্যই মানুষ নিজে অন্যের শত্রু/নিজের মাংসের জন্যই হরিণ নিজের শত্রু): নিজের অতিরিক্ত পরার্থপরোতার কারণে সে আজ নিঃস্ব, এ যেন আপনা মাংসে হরিণা বৈরী।

অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট (বেশি মাতব্বর থাকলে কাজের উদ্দেশ্য বিফলে যায়): সামান্য অনুষ্ঠানের জন্যে বেশি লোক লাগানো ঠিক হবে না-শেষে অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট হবে।

সাপের হাঁচি বেদেয় চেনে (প্রকৃত লক্ষণ অভিজ্ঞ লোকেই বোঝে): সে যতই লুকানোর চেষ্টা করুক, তার আসল রূপ পুলিশ ঠিকই ধরে ফেলবে, কারণ সাপের হাঁচি তো বেদেয় চেনে।

 

৪৩ তম বিসিএস (০০২)

অষ্টরম্ভা (ফাঁকি): মাহিরের শুধু বড় বড় কথা, এদিকে কাজের বেলায় তো অষ্টরম্ভা।

ইঁদুর কপালে (নিতান্ত মন্দ ভাগ্য): আমার মতো ইঁদুর কপালে লোকের দাম এক কানাকড়িও না।

কচ্ছপের কামড় (যা সহজে ছাড়ে না): হা-ডু-ডু খেলায় সে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কচ্ছপের কামড়ের ন্যায় ধরেছিলো।

তুলসীবনের বাঘ (ভণ্ড): রফিক সাহেবকে সহজ-সরল মনে হলেও তিনি আসলে তুলসীবনের বাঘ।

গয়ংগচ্ছ (ঢিলেমি): গয়ংগচ্ছ ভাব করছ যেন তোমার হাতে এক বছর সময় আছে।

নাটের গুরু (মূল নায়ক): সবেদার এতো বাড়াবাড়ির নাটের গুরু ময়না বেগম ও তার পরিবার।

 

৪৪ তম বিসিএস (০০১)

আটকপালে (হতভাগ্য): আটকপালে যেদিকে চায় সাগর শুকিয়ে যায়।

এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ একবারই আসে না): আমাকে ফাঁকি দিলে, মনে রেখো, এক মাঘে শীত যায় না।

কুলকাঠের আগুন (তীব্র জ্বালা): পার্বতীর বিয়ে দেবদাসের অন্তরে কুল কাঠের আগুন জ্বালিয়ে দিল।

আঠারো মাসে বছর (দীর্ঘসূত্রতা): তসিলদার অফিসের কাজ মানেই আঠারো মাসে বছর, এ বলার অপেক্ষা রাখে না।

অজগরবৃত্তি (আলসেমি): তুমি কোনো বিষয়ই মনোযোগসহকারে নিলে না, সারাদিনই অজগরবৃত্তি করে কাটিয়ে দিলে।

নয়ছয় (অপচয়): বছরের পর বছর স্বামী বিদেশ থেকে টাকা পাঠালো আর বউ নয় ছয় করে শেষ করলো।

 

৪৪ তম বিসিএস (০০২)

কেউকেটা (নগন্য ব্যক্তি): হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার পর থেকে রকিব সাহেব পরিবারের নিকট কেউকেটা হয়ে গেছেন।

ঘরের শত্রু বিভীষণ (যে গৃহ বিবাদ বাঁধায়): ভাইদের মধ্যে ছোটটা ঘরের শত্রু বিভীষণ, তার কারণে সংসার তছনছ হয়ে গেল।

গো-মূর্খ (জড় বুদ্ধি): তোমার মত গো-মূর্খ দিয়ে আর যাই হোক বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়া সম্ভব নয়।

গড্ডলিকা প্রবাহ (অন্ধ অনুকরণ): গড্ডলিকা প্রবাহে যারা গা ভাসিয়ে দেয়, আমি তাদের দলে নেই।

জলে কুমির ডাঙায় বাঘ (উভয় সংকট): জামাই আর ভাগ্নে বাঁধিয়েছে ঝগড়া কারও পক্ষে একটা কথা বলার উপায় নেই, এ যেন জলে কুমির ডাঙায় বাঘ।

সাক্ষী গোপাল (কর্তৃত্বহীন দর্শক মাত্র): ছেলেটা এমন সাক্ষী গোপাল কোনো কাজে পাঠিয়ে শান্তি নেই।

 

৪৫ তম বিসিএস (০০১)

লেজে খেলানো (বশীভূত করে রাখা): আমাকে নিয়ে আর কতো লেজে খেলা খেলবে হিসাব একদিন দিতে হবে।

রথ দেখা কলা বেচা (একসাথে দুই কাজ করা): বাজার থেকে ফেরার পথে রোজ ছেলেকে স্কুল থেকে এনে 'রথ দেখা ও কলা বেচা' একসঙ্গে সারি।

মাছের মায়ের পুত্রশোক (অবিশ্বাস হাহাকার): তোমার মুখে দেশপ্রেমের কথা! এ যে মাছের মায়ের পুত্রশোক।

ভস্মে ঘি ঢালা (নিষ্ফল কাজ করা): লোকটি সারাদিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে অনেক কষ্ট করে ফসল ফলানোর চেষ্টা করলো, কিন্তু ফলন যা হলো, তাতে তার শ্রম যেন ভস্মে ঘি ঢালার মতোই হলো।

কৈয়ের তেলে কৈ ভাজা (অন্যের জিনিস দিয়ে তারই সন্তুষ্টি অর্জন): ছেলের বিয়েতে যৌতুক এনে মেয়ের বিয়েতে যৌতুক প্রদান, এ দেখছি কৈয়ের তেলে কই ভাজা।

নরকগুলজার করা (অসংযত স্ফূর্তিবাজদের আড্ডা বা প্রচুর খারাপ লোকের একত্রে সমাবেশে জমাট বাধা): মেলায় এত ভিড় যে, মনে হচ্ছিল নরক গুলজার করা অবস্থা!

 

৪৫ তম বিসিএস (০০২)

বিষ নেই কুলোপনা চক্কর (ক্ষমতাহীনের মৌখিক আস্ফালন): তোমার ক্ষমতার দৌড় আমার জানা আছে, বিষ নেই তার আবার কুলোপনা চক্কর।

গোদের ওপর বিষফোঁড়া (দুঃসহ বিপদ): গতকাল থেকে সর্দি জ্বর, আজ আবার শুরু হয়েছে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা এ তো দেখছি গোদের ওপর বিষফোঁড়া।

চণ্ডীপাঠ থেকে জুতোসেলাই (ছোট বড় যাবতীয় কাজ করা): নিতাইকে হাবাবোবা মানুষ ভাবলেও সে চণ্ডীপাঠ থেকে জুতোসেলাইতে পারদর্শী।

বানরের গলায় মুক্তোর হার (অপাত্রে মূল্যবান বস্তু): কুলাঙ্গার ছেলের ঘরে এমন রূপবতী শিক্ষিতা বউ যেন বানরের গলায় হার।

সব শেয়ালের এক রা (ঐকমত্য): মোদের দাবি মানতে হবে বলে সব শেয়ালের এক রা শোনা যাচ্ছে।

ত্রিশঙ্কু অবস্থা (অনিশ্চিত অবস্থায় পড়া ব্যক্তির দশা): একদিকে বাবার মৃত্যু অন্যদিকে চাকরির বয়স শেষ হওয়ায় খালেদ ত্রিশঙ্কু অবস্থার মধ্যে পড়েছে।

 

৪৬ তম বিসিএস (০০১)

অসারের তর্জন-গর্জন সার (ক্ষমতাহীন ব্যক্তির আস্ফালন): ওর চিৎকার-চেঁচামেচি দেখে ভয় পেয়ো না, ওর কিছুই করার সাহস নেই অসারের তর্জন-গর্জন সার।

গরিবের ঘোড়া রোগ (সাধ্যের অতিরিক্ত সাধ): শুনলাম আজকাল থিয়েটারে যাচ্ছ? তোমার মতো গরিবের এমন ঘোড়া রোগ হবার কারণ কি?

জুতোসেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ (ছোট বড় যাবতীয় কাজ করা): নিতাইকে সহজ সরল ভাবলেও সে চণ্ডীপাঠ থেকে জুতোসেলাই - সকল কাজে পারদর্শী।

বিড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়া (ভাগ্যক্রমে সুযোগ মেলা): আমি জিতব লটারিতে, তবেই হয়েছে! বিড়ালের ভাগ্যে কি শিকে ছেঁড়ে?

হিসেবের গরু বাঘে খায় না (হিসেব/যত্নে রাখা জিনিস নষ্ট হয় না): আমি সব সময় খরচের হিসেব লিখে রাখি, কারণ হিসেবের গরু বাঘে খায় না।

 

৪৬ তম বিসিএস (০০২)

এক যাত্রার পৃথক ফল (একই কাজের ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল): সবাই একই পরীক্ষা দিলাম, কিন্তু এক যাত্রায় পৃথক ফল হলো। কেউ ভাল নম্বর পেল, আবার কেউ ফেল করলো।

সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড় (সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পস্তাতে হয়): দেরি না করে এখনই পড়তে বসো। কারণ সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়।

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবন (ক্ষমতা লাভ করলে সবার স্বভাব এক রকমই হয়): রতনের মতো ভদ্রলোকও চেয়ারম্যান হবার পর দুর্ব্যবহার শুরু করেছে এ বুঝি, যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ।

শাক দিয়ে মাছ ঢাকা (অপরাধ গোপনের বৃথা চেষ্টা): শাক দিয়ে মাছ ঢেকে লাভ নাই, স্বীকার করে নে তুই চুরি করেছিস।

খালি কলসি বাজে বেশি (অভিজ্ঞতাহীন ব্যক্তি নিজেকে বেশি জাহির করার চেষ্টা করে): রাজনীতির 'র' ও বুঝে না, কিন্তু বড় বড় কথা বলে। এইজন্যেই কথায় বলে খালি কলসি বাজে বেশি।

পর্বতের মূষিক প্রসব (বেশি প্রত্যাশায় সামান্য প্রাপ্তি): নির্বাচনি ওয়াদার প্রেক্ষিতে সরকার কর্তৃক সামান্য বেতন বৃদ্ধি যেন পর্বতের মূষিক প্রসব।

 

৪৭ তম বিসিএস (০০১)

খালি কলসি বাজে বেশি (গুণহীন ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি আস্ফালন করে): ওর চিৎকার-চেঁচামেচি দেখে ভয় পেয়ো না, ওর কিছুই করার সাহস নেই। জানোই তো, খালি কলসি বাজে বেশি।

শাক দিয়ে মাছ ঢাকা (তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে অপরাধ গোপনের চেষ্টা): দুর্নীতির খবর ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা অনেকটা 'শাক দিয়ে মাছ ঢাকা'র মতো, কারণ সত্যিটা সামনে আসবেই।

গরু মেরে জুতো দান (কারো যথেষ্ট ক্ষতি করে পরে তার সামান্য উপকার করা): মোড়ল বিধবার লাখ টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়ে শেষে তাকে দু-মুঠো খেতে দিচ্ছে, এ যেন গরু মেরে জুতা দান।

যতনে রতন মেলে (পরিশ্রম করলে মূল্যবান কিছু অর্জন করা সম্ভব):  ব্যবসায় লস হলেও হাল ছেড়ো না, সততার সাথে কাজ চালিয়ে যাও, কথায় আছে যতনে রতন মেলে।

পচা শামুকে পা কাটা (ক্ষুদ্র বস্তু দ্বারা বড় ধরনের ক্ষতি হওয়া): পরীক্ষায় অনেক কঠিন প্রশ্ন সমাধান করেও অবহেলায় সহজ প্রশ্নের উত্তর ভুল করা, একেবারেই পচা শামুকে পা কাটা।

অনুরোধে ঢেঁকি গেলা (অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু করা): দলের সবার চাপে পড়ে সে এই দায়ভার নিয়েছে, এটা তার জন্য অনুরোধে ঢেঁকি গেলার মতোই।

 

৪৭ তম বিসিএস (০০২)

আমড়া কাঠের ঢেঁকি/অকালকুষ্মান্ড (অপদার্থ): ওকে দিয়ে কোনো কাজই হবে না, ও একটা (কলুর বলদ)।

যেমন কর্ম, তেমন ফল/অতি লোভে তাঁতি নষ্ট/ইট মারলে পাটকেল খাইতে হয় (কাজের ধরন অনুযায়ী ফল ভোগ করা): আমি জানতাম তার এই দুর্গতিই হবে, কথায় বলে না - (আঙুল ফুলে কলাগাছ)।

খোদার খাসি/ধর্মের ষাড় (অলস সময় কাটানো): এভাবে (বসন্তের কোকিল) এর মতো ঘুরো না, সামনেই কিন্তু চুড়ান্ত পরীক্ষা।

কেঁচো খুড়তে সাপ (সামান্য ঘটনার সূত্রে গুরুতর ঘটনা প্রকাশ): ছোট একটা তদন্তে হাত দিয়েছিলাম, এখন দেখছি (সাপের পাঁচ পা) বেরিয়ে এলো।

মুখে মধু অন্তরে বিষ/অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ (কপট ব্যক্তির ভদ্র সাজা): ওর এই বিনয় দেখে ভুলো না, জানোই তো (ধরি মাছ না ছুই পানি)।

বিনা মেঘে বজ্রপাত/মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়া (সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত বিপদ): এমন সময়ে এই সংবাদ শুনবো ভাবতেও পারছি না, ব্যাপারটা (যত গর্জে তত বর্ষে না) এর মতো।

পানি বিষয়ক কয়েকটি আন্তর্জাতিক সনদ ও কনভেনশন

বাংলাদেশ-ভারত পানি সমস্যা

  • আন্তর্জাতিক নদী আইন ও আন্ত-সীমান্ত নদীর পানি বন্টন আইনের প্রেক্ষিতে ভারত-বাংলাদেশ পানি বন্টণ ও প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংসে ভারত একতরফাভাবে দায়ী।
  • ভারত-বাংলাদেশ পানি বন্টন চুক্তি,  জয়েন্ট রিভার কমিশনের (JRC) গঠনের পরও ভারত কখনও আমাদের ন্যায্য হিস্যা প্রদান করেনি। এমনকি পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভারত,  বাংলাদেশে কৃত্রিম মরুকরণ ও ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে চলেছে।
  • যেহেতু ভারত উজানের দেশ এবং যথেচ্ছা পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভাটির দেশ বাংলাদেশের অধিকার হরণ করেছে এবং প্রাণ-প্রকৃতিকে হুমকীর মুখে ফেলে দিয়েছে, তাই বাংলাদেশ সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক আইনে ভারতের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া এবং সুসংগঠিত কূটনীতি পরিচালনার মাধ্যমে ভারতকে চাপে রেখে এই সমস্যার সমাধান করা।
  • এক্ষেত্রে ব্রহ্মপুত্রকে কেন্দ্র করে চীনকে যুক্ত করা, বাংলাদেশ-নেপাল-পাকিস্তান-ভারত-চীন-মিয়ানমার-ভূটান  এ ৭টি দেশ মিলে একটি নতুন নদী কমিশন গঠন করা যেতে পারে, যেন একতরফা পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রিত না হয়।
  • বাংলাদেশে ভারতের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদিতে ধীরে ধীরে কঠোর অবস্থানে যাওয়া।

হেলসিংকি সনদ - ১৯৬৬

হেলসিংকি সনদ ১৯৬৬ যা ১৯৭১ সালে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক নদী আইন হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই সনদের ৪ ও ৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী -
আন্তর্জাতিক নদী বা সীমান্ত নদীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো পানি বন্টনের ক্ষেত্রে পারস্পারিক ন্যায্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিবে।  উজানের দেশ এমন কোন পদক্ষেপ নিবেনা অর্থাৎ পানি প্রবাহকে এমনভাবে ব্যহত করবে না যাতে ভাটির প্রাণ-প্রকৃতি হুমকীর মুখে পড়ে। জরুরী অবস্থা বিবেচনায় পানি ছাড়ার ক্ষেত্রে উজানের দেশ ভাটির দেশের কোল্যাটেরাল ড্যামেজ যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে অবশ্যই ভাটির দেশকে আগেই জানিয়ে রাখবে।
এই ক্লজগুলো পরে ইউনেস্কো কতৃক স্বীকৃত হয় এবং সদস্য দেশগুলোকে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রামসার কনভেনশন - ১৯৭১

রামসার কনভেনশন হচ্ছে জলাভূমি সংরক্ষণ বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে স্বাক্ষরিত হয়। এর উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমিগুলোর সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ ১৯৯২ সালে এই কনভেনশনে যোগ দেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে দুটি রামসার সাইট রয়েছে:

  • সুন্দরবন, যা ১৯৯২ সালে অন্তর্ভুক্ত।
  • টাঙ্গুয়ার হাওর, যা ২০০০ সালে রামসার ভুক্ত হয়।

সমুদ্র আইন সম্পর্কিত UNCLOS III - ১৯৮২

জাতিসংঘ সমুদ্র আইন সম্মেলন বা UNCLOS (United Nations Convention on the Law of the Sea) হলো আন্তর্জাতিক সমুদ্র ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে অধিক স্বীকৃত কনভেনশন। এটি তিনটি পর্বে বিভক্ত: UNCLOS I (১৯৫৮), UNCLOS II (১৯৬০, কোনো নতুন চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি এবং এই সম্মেলন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ বলে বিবেচিত হয়) এবং UNCLOS III। এর মধ্যে UNCLOS III (১৯৮২) এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত সমুদ্র আইন কাঠামো। এটি প্রায় ১৬০টিরও বেশি দেশ মেনে চলে। এতে 
  • রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল
  • এক্সক্লুজিভ ইকোনমিক জোন (EEZ) ২০০ মাইল
  • এবং মহীসোপান ৩৫০ মাইল
পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক সমুদ্রতলের সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য International Seabed Authority (ISA) গঠন করা হয় এবং সমুদ্র সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য International Tribunal for the Law of the Sea (ITLOS) প্রতিষ্ঠা করা হয়।


জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ কনভেনশন - ১৯৯৭

জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ কনভেনশন (United Nations Convention on the Law of the Non-Navigational Uses of International Watercourses) ২১ মে ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। এই কনভেনশন আন্তর্জাতিক নদী ও পানিপ্রবাহ ব্যবস্থার ওপর নদী তীরবর্তী দেশগুলোর অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণে কাজ করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানির সরবরাহ, কৃষি, জলবিদ্যুৎ, ও পরিবেশ সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে সহযোগিতা, ন্যায্যতা ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

এই কনভেনশন অনুযায়ী, প্রতিটি দেশকে ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসংগত ব্যবহার, অন্য দেশের ক্ষতি না করা, এবং তথ্য বিনিময় ও পূর্ব সতর্কীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। ২০১৪ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়, যদিও এখনও অনেক নদীতীরবর্তী দেশ এই কনভেনশন অনুমোদন করেনি। এটি আন্তঃসীমান্ত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আইনি দলিল হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশ গত ২৩ জুন, ২০২৫ আনুষ্ঠানিকভাবে এই কনভেনশনে যোগ দেয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তবে ভারত এখনও এতে সাইন করে নি।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে নতুন বিশ্ব গড়তে ’তিন শূন্য’ তত্ত্বের ভূমিকা

থ্রি জিরো থিওরি নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রদত্ত একটি তত্ত্ব, যার লক্ষ্য একটি নতুন সমাজ গঠন। এই তত্ত্ব তিনটি শূন্যের কথা বলে: শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, এবং শূন্য কার্বন নিঃসরণ। তিনি বিশ্বাস করেন, সামাজিক ব্যবসা ও সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে এই তিনটি লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

১. শূন্য কার্বন নিঃসরণ : জলবায়ু রক্ষায় সরাসরি অবদান

কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইডসহ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌর, বায়ু, বায়োগ্যাস) ব্যবহারে উৎসাহ দিলে কার্বন নিঃসরণ কমবে। কার্বন নিঃসরণ ‘নিট শূন্যে’ নামানো গেলে বৈশ্বিক উষ্ণতা কমানো সম্ভব হবে।

২. শূন্য দারিদ্র্য : প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা

দরিদ্র মানুষ বেঁচে থাকার জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল (যেমন: জ্বালানি কাঠ, বন উজাড়)। দারিদ্র্য হ্রাস পেলে এই চাপ কমবে, বন রক্ষা পাবে, পরিবেশ সুস্থ থাকবে। ক্ষুদ্রঋণ, টেকসই কৃষি ও স্থানীয় শিল্পের মাধ্যমে মানুষ বিকল্প জীবিকা পাবে যা পরিবেশবান্ধব।

৩. শূন্য বেকারত্ব: সবুজ চাকরি ও পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন

নবায়নযোগ্য শক্তি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও সামাজিক উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুললে তারা পরিবেশবান্ধব পণ্য ও পরিষেবার দিকে ঝুঁকবে। সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে শুধু লাভ নয়, পরিবেশ ও সমাজের সমস্যার সমাধানেও অবদান রাখা সম্ভব।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগ/সফলতা


বিদ্যুৎ ও জ্বালানি একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং নাগরিক জীবনের গতিশীলতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা প্রশাসনিক রূপান্তরের সময়েও এই খাতদুটি যদি সুদৃঢ়ভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে তা কেবল রাষ্ট্রের সক্ষমতাই প্রকাশ করে না, বরং জনগণের আস্থার জায়গাটিকেও দৃঢ় করে। বাংলাদেশের বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার এমন এক সময় দায়িত্ব গ্রহণ করে, যখন দেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে উপনীত। নির্বাচনকালীন চাপ, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে থেকেও এই সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কয়েকটি তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। নিচে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের সফলতা / উদ্যোগ উল্লেখ করা হলো:

১. মোট বরাদ্দ ও খাতভিত্তিক বণ্টন:

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মোট ২২,৫২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের জন্য ২০,৩৪২ কোটি টাকা এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতের জন্য ২,১৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

২. বিতর্কিত আইন বাতিল:

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০১১) বাতিল করা হয়েছে। এই আইনটি টেন্ডার ছাড়াই কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করায় দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক ছিল।

৩. চুক্তি পর্যালোচনায় জাতীয় কমিটি:

বাতিল হওয়া আইনের আওতায় পূর্বে সম্পাদিত সব চুক্তি পর্যালোচনার জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগের অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৪. রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে অগ্রগতি:

রূপপুরে ২,৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা তৈরি করবে।

৫. বিদ্যুৎ মূল্য স্থিতিশীল রাখা:

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিদ্যুতের দাম আপাতত না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে।

৬. ভর্তুকি হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ:

বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে সাশ্রয়ী ও ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে সরকারের আর্থিক চাপ হ্রাসে সহায়ক হবে।

৭. নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাফল্য:

রমজান মাস ও ঈদ উপলক্ষে দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে জনগণের মধ্যে সন্তুষ্টি তৈরি হয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

৮. গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির পরিকল্পনা:

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে ৬৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট এবং ২০২৮ সালের মধ্যে ১,৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৯. বাপেক্সের মাধ্যমে অনুসন্ধান ও খনন:

সরকারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্স ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৭-২৮ মেয়াদে জরিপ কার্যক্রম চালাবে। এ সময়ের মধ্যে ৬৯টি কূপ খননের পাশাপাশি ৩১টি কূপের ওয়ার্কওভার বা পুনঃউৎপাদন কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সহজ ভাষায় প্যান্ডোরা বক্স (Pandora's Box)


Pandora's Box মানে হলো, এমন কিছু কাজ বা কিছুর শুরু, যেটা একবার খুলে দিলে বা শুরু করলে অনেক বিপদ বা সমস্যা একের পর এক চলে আসে।

প্রাচীন গ্রিকে একটি কাহিনী প্রচলিত আছে। প্যান্ডোরা (Pandora) নামের এক মেয়েকে দেবতারা একটা সুন্দর বাক্স দিয়েছিল। কিন্তু দেওয়ার সময় বলে দিয়েছিল,  "এটা কখনোই খুলবে না!" কিন্তু প্যান্ডোরা কৌতূহল সামলাতে পারলো না, সে একদিন সেই বাক্সটা খুলে ফেলল। তখনই ভিতর থেকে বের হয়ে এলো দুঃখ, রোগ, দুঃসহ কষ্ট, ঈর্ষা, অসুখ, হিংসা ইত্যাদি সব খারাপ জিনিস। দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়লো দুঃখ আর সমস্যা। শুধু একটাই ভালো জিনিস বাক্সে রয়ে গেল, "আশা" (Hope)।

আজকাল আমরা যখন বলি “Pandora’s Box খুলে গেছে”, তখন বোঝায়: এমন কিছু হয়েছে বা কেউ করেছে, যার ফলে অনেক সমস্যা বা বিপদ শুরু হয়ে গেছে। যেমন: "অমুক আইন বদলানোর সিদ্ধান্তটা ছিল একদম প্যান্ডোরার বক্স খোলার মতো, এখন একের পর এক সমস্যা শুরু হয়েছে।"

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে Pandora's Box এর প্রয়োগ:

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে Pandora’s Box টার্মটি ব্যবহার করা হয় যখন কোনো দেশ বা গোষ্ঠী এমন একটি সিদ্ধান্ত নেয় বা কোনো কার্যক্রম শুরু করে, যার ফলে অপ্রত্যাশিতভাবে একের পর এক সংকট, যুদ্ধ, সংঘাত বা রাজনৈতিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। যেমনঃ ২০১০ সালে আরব বিশ্বে গণতন্ত্রের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়, তা শুরুতে আশার আলো জাগিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনের মতো দেশে গৃহযুদ্ধ, শরণার্থী সংকট ও সন্ত্রাসের উত্থান দেখা যায়। এই ঘটনাগুলোকে অনেকে Pandora's Box এর মতো মনে করেন।

হায়াৎ মামুদ স্যারের ভাষা-শিক্ষা বইয়ের সকল বাগধারা ও প্রবাদ প্রবচন

বাগধারা (২০৩ টি)

১। অক্কা পাওয়া (মারা যাওয়া) - গুন্ডাটা অনেক জ্বালিয়েছে, এদ্দিন পরে গুলি খেয়ে সে অক্কা পেল। / এক্কাগাড়ির ধাক্কা খেয়ে ছক্কা মিয়া অক্কা পেয়েছে।

২। অগ্নিপরীক্ষা (কঠিন পরীক্ষা) - এ অগ্নিপরীক্ষায় সাফল্য লাভ করা আমার পক্ষে অসম্ভব।

৩। অকালকুষ্মাণ্ড (অপদার্থ/অকেজো লোক) - অকালকুষ্মান্ড ছেলেটার ওপর এ কাজের দায়িত্ব দিলে সব পণ্ড হয়ে যাবে।

৪। অগাধ জলের মাছ / গভীর জলের মাছ (খুব চালাক) - কাদের সাহেবের মতো অগাধ জলের মাছকে তুমি বুদ্ধিতে হারাতে চাও?

৫। অমাবস্যার চাঁদ (দুর্লভ) - চাকরি পেয়ে যে একেবারে অমাবস্যার চাঁদ হয়ে গেলে, তোমার দেখা পাওয়াই ভার।

৬। অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী (অহেতুক গর্ব) - অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী বলেই করিম ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর লেখার সমালোচনা করে।

৭। অরণ্যে রোদন (বৃথা আবেদন) - কৃপণের কাছে চাঁদা চাওয়া অরণ্যে রোদন মাত্র।

৮। অহিনকুল সম্পর্ক (ভীষণ শত্রুতা) - দু ভায়ের মধ্যে এমন অহিনকুল সম্পর্ক যে, কেউ কারো মুখ পর্যন্ত দেখে না।

৯। অন্ধের যষ্টি/নড়ি (একমাত্র সম্বল) - শেষ পর্যন্ত বিধবার অন্ধের যষ্টি ছেলেটাও মারা গেল।

১০। অর্ধচন্দ্র (গলাধাক্কা) - সাহায্য চাওয়াতে রহমান সাহেব লোকটাকে অর্ধচন্দ্র দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন।

১১। অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়া/মারা (আন্দাজে কাজ করা) - অন্ধকারে ঢিল না ছুঁড়ে কী হয়েছিল জানতে চেষ্টা কর।

১২। অগ্নিশর্মা (অত্যন্ত রেগে যাওয়া) - যেখানে সেখানে অত অগ্নিশর্মা হলে কপালে দুর্ভোগ আছে, জেনে রেখ।

১৩। অন্ধকারে থাকা (কিছু না জানা) - এত সব ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে কিছুই জানি না, আমি অন্ধকারে আছি।

১৪। অন্ধকার দেখা (বিপদে দিশেহারা হওয়া) - পড়াশোনা কর, নইলে পরীক্ষার সময় চোখে অন্ধকার দেখতে পাবে।

১৫। আকাশকুসুম (কাল্পনিক বস্তু) - কেটেছে একেলা বিরহেরই বেলা আকাশকুসুম চয়নে।

১৬। আদায় কাঁচকলায় (ঘোর শত্রুতা) - রহিম ও করিম দুই বন্ধুর এখন আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক চলছে।

১৭। আষাঢ়ে গল্প (আজগুবি গল্প) - কী এক আষাঢ়ে গল্প ফেঁদে বসেছ, এ সব কি বিশ্বাসযোগ্য কথা!

১৮। আকাশ থেকে পড়া (না জানার ভান করা) - আকাশ থেকে পড়লে যে, তুমি কি কিছুই জান না?

১৯। আক্কেল গুডুম (হতবুদ্ধি হওয়া) - ছেলের লটারি জেতার কথা শুনে বাবার তো আক্কেল গুড়ুম।

২০। আঁতে ঘা (দুর্বল জায়গায় খোঁচা) - সত্যি কথা বললে অনেকেরই আঁতে ঘা লাগে।

২১। আদিখ্যেতা (ন্যাকামি) - তোমার আদিখ্যেতা দেখলে গা জ্বলে যায়।

২২। আসরে নামা (আবির্ভূত হওয়া) - অনেক ভেবেই শফিক আসরে নেমেছে।

২৩। আক্কেল দাঁত (বুদ্ধির পরিপক্বতা) - এসব কথার সে কী জানবে, এখনো তার আক্কেল দাঁতই ওঠে নি।

২৪। আঁধার ঘরের মানিক (অত্যন্ত প্রিয়জন) - একমাত্র ছেলেটাই বুড়ো বাপের আঁধার ঘরের মানিক।

২৫। আঠারো আনা (বড় বেশি বাড়াবাড়ি) - কাজের কাজ কিছু না করলেও সর্দারি করে ষোলো আনার ওপর আঠারো আনা।

২৬। আট কপালিয়া / আট কপালে (হতভাগ্য) - আট কপালে মেয়েটার প্রথমে স্বামী, তারপর একমাত্র ছেলেটাও মারা গেল।

২৭। ইঁদুর কপালে (মন্দ ভাগ্য) - এমএ পাশ করেও চাকরি পেল না, এমন ইঁদুর কপালে লোক আর দেখিনি।

২৮। ঈদের চাঁদ (আকাঙ্ক্ষিত বস্তু) - হারানো ছেলেকে ফিরে পেয়ে মা যেন ঈদের চাঁদ হাতে পেলেন।

২৯। উড়নচণ্ডী (অমিতব্যয়ী) - যা উড়নচণ্ডী ছেলে- পৈতৃক সম্পত্তি দু দিনেই শেষ করে দেবে।

৩০। উড়ো কথা (গুজব) - উড়ো কথায় কান দিতে নেই।

৩১। উনপাঁজুরে (দুর্বল ও ব্যক্তিত্বহীন) - এই উনপাঁজুরে লোক কুস্তি লড়বে, তবেই হয়েছে।

৩২। এলাহি কাণ্ড (বিরাট আয়োজন) - বড় বাড়িতে বিয়ে, সে এক এলাহি কাণ্ড!

৩৩। একাদশ বৃহস্পতি (সুসময়) - পরীক্ষায় প্রথম হয়েছ, ভালো একটা চাকরিও পেয়েছ, তোমার তো একাদশ বৃহস্পতি।

৩৪। একচোখা (পক্ষপাতদুষ্ট) - একচোখা মানুষের কাছে সুবিচার আশা করা যায় না।

৩৫। ওজন বুঝে চলা (আত্মমর্যাদা রক্ষা) - ওজন বুঝে চল, নইলে তোমাকে অপমানিত হতে হবে।

৩৬। কানকাটা (নির্লজ্জ) - এমন কানকাটা লোকের আবার লোকভয় কিসের?

৩৭। কেতা-দুরস্ত (পরিপাটি) - লোকটাকে দেখতে কেতা-দুরস্ত মনে হলে কী হবে, আসলে সে একটা গোবর গণেশ।

৩৮। কান-পাতলা (সব কথাই বিশ্বাস করে যে) - করিম এত কান-পাতলা লোক যে, অপরের কথা শুনেই বিনা কারণে উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

৩৯। কাঁচা-পয়সা (নগদ উপার্জন) - কাঁচা পয়সা পাও কি না, তাই খরচ করতে বাধে না।

৪০। কপাল ফেরা (ভাগ্য সুপ্রসন্ন হওয়া) - ছেলে চাকরি পাওয়ায় বুড়ো-বুড়ির কপাল ফিরেছে।

৪১। কংস-মামা (নির্মম আত্মীয়) - কংস-মামার হাতে যখন পড়েছ, তখন তোমার কপালের দুর্ভোগ ঠেকাবে কে?

৪২। কলির সন্ধ্যা (মাত্র সূচনা) - তিন মাইল পথ হেঁটেই মুষড়ে পড়লে, এ তো সবে কলির সন্ধ্যা, এখনো পাঁচ মাইল পথ হাঁটতে হবে।

৪৩। কাঁঠালের আমসত্ত্ব (অসম্ভব বস্তু) - ক্লাস না করেও একবারে প্রথম বিভাগে পাশ! এ যে দেখছি কাঁঠালের আমসত্ত্ব।

৪৪। কান ভারী করা (কুপরামর্শ দান) - কানভারী করা করিমের স্বভাব, তার কাছে ভালো বুদ্ধি আশা করা যায় না।

৪৫। কাঁচা হাত (অপটু) - কাঁচা হাতের লেখা, দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

৪৬। কান্ডজ্ঞান (ভালোমন্দ বোধ) - এইটুকু ছেলের যা কাণ্ডজ্ঞান আছে, তা তোমারও নেই।

৪৭। কেঁচেগন্ডূষ (নতুন করে আরম্ভ করা) - অঙ্কটার বিসমিল্লায় গলদ, এখন কেঁচেগন্ডূষ করা ছাড়া উপায় কী।

৪৮। কেঁচো খুড়তে সাপ (বিপজ্জনক পরিণতি) - পরের বিচার করতে যেয়ে নিজের দোষ প্রমাণিত হলো; একেই বলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরুনো।

৪৯। কোণঠাসা করা (বেকায়দায় ফেলা) - সকলে মিলে আমাকে তো একেবারে কোণঠাসা করে ফেললে।

৫০। কূপমন্ডূক (সীমাবদ্ধ জ্ঞান) - দেশ ভ্রমণ না করলে জ্ঞান বাড়ে না, কূপমন্ডূক হয়ে থাকতে হয়।

৫১। কেউকেটা (বিশিষ্ট ব্যক্তি) - কী এমন কেউকেটা হয়েছ যে, তোমার নির্দেশ মতো চলতে হবে।

৫২। কাঠখোট্টা (নীরস ও অনমনীয়) - তোমার মতো এমন কাঠখোট্টা মানুষ আর দ্বিতীয়জন নেই।

৫৩। কলকাঠি নাড়া (গোপনে কুপরামর্শ দেয়া) - বড় সাহেব কলকাঠি নাড়ছেন, এবার নিজেকে সামলাও।

৫৪। খয়ের খাঁ (তোষামোদকারী) - তুমি তো বড় সাহেবের খয়ের খাঁ; তোমার প্রমোশন তো হবেই।

৫৫। খণ্ডপ্রলয় (তুমুল কান্ড) - সামান্য ব্যাপার নিয়ে দুভায়ের মধ্যে খণ্ডপ্রলয় শুরু হলো।

৫৬। খাবি খাওয়া (হিমশিম খাওয়া) - এ-কাজটা করতে গিয়ে একেবারে খাবি খেয়ে যাচ্ছি।

৫৭। খতিয়ে দেখা (বিবেচনা করা) - একটু খতিয়ে দেখলে আমার বিষয়টা বুঝতে পারবেন।

৫৮। খোদার খাসি (ভাবনাচিন্তাহীন) - খোদার খাসির মতো চলাফেরা করলে তো আর জীবন চলে না।

৫৯। গড্ডলিকা-প্রবাহ (অন্ধ অনুকরণ) - সবাই গড্ডলিকা-প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিলে সমাজের উন্নতি হবে না।

৬০। গোবরগণেশ (নিরেট মূর্খ) - না জানে লেখা-পড়া, না আছে বুদ্ধি, ছেলেটা একেবারে গোবরগণেশ।

৬১। গা ঢাকা দেয়া (পলায়ন করা) - দারোগা সাহেবকে দেখে ডাকাতটা গা ঢাকা দিলেও অবশেষে ধরা পড়েছে।

৬২। গুড়ে বালি (আশায় নিরাশ হওয়া) - তুমি ভেবেছ যে, তোমার শ্বশুর তোমাকে দুলাখ টাকা দেবেন, সে গুড়ে বালি।

৬৩। গলাকাটা (অত্যন্ত চড়া) - ওর দোকানে জিনিসপত্রের গলাকাটা দাম।

৬৪। গরিবের ঘোড়া রোগ (অবস্থার অতিরিক্ত অন্যায় ইচ্ছা) - পেটে ভাত নেই অথচ রোজ রোজ সিনেমায় যাওয়া, এ যে দেখছি গরিবের ঘোড়া রোগ।

৬৫। গায়ে পড়া (অযাচিত) - গায়ে পড়া লোক আমার পছন্দ নয়।

৬৬। গাছপাথর (হিসাবনিকাশ) - আমরা সেকেলে, আমাদের বয়সের কি কোনো গাছপাথর আছে!

৬৭। গোমূর্খ (অতি মূর্খ) - বাবা শিক্ষক হলে কী হবে, ছেলেমেয়েগুলো গোমূর্খ।

৬৮। গৌরচন্দ্রিকা (ভূমিকা) - এত গৌরচন্দ্রিকা না করে আসল কথা বলে ফেল।

৬৯। গোঁফ খেজুরে (অত্যন্ত অলস) - এমন গোঁফ খেজুরে লোক দিয়ে সমাজসেবা হয় না।

৭০। ঘুঘু চরানো (সর্বনাশ করা) - বেশি বাড়াবাড়ি করলে ভিটেয় ঘুঘু চরিয়ে ছাড়ব।

৭১। ঘাটের মড়া (মৃত্যু আসন্ন যার/অকর্মণ্য বৃদ্ধ) - ওই ঘাটের মড়ার সঙ্গে শেষ পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে ঠিক করলে!

৭২। ঘুণাক্ষর (সামান্য ইঙ্গিত) - এমনভাবে কাজটা করবে যেন ঘুণাক্ষরেও কেউ জানতে না পারে।

৭৩। ঘোল খাওয়ানো (জব্দ করা) - এসেছিল মোড়লি করতে, ঘোল খাইয়ে ছেড়েছি।

৭৪। চিনির বলদ (ভারবাহী কিন্তু ফলভোগী নয়) - রহিম মিয়া একটা চিনির বলদ, সারা বছর চৌধুরি সাহেবের কাজ করে গেল, কিন্তু কিছুই পেল না।

৭৫। চোখের পর্দা (লজ্জা) - চোখের পর্দা থাকলে ও কাজ কেউ করতে পারে না।

৭৬। চাঁদের হাট (সুখের সংসার) - সবাইকে নিয়ে রহমান সাহেবের সংসার যেন চাঁদের হাট।

৭৭। চিনির পুতুল (যে অল্প পরিশ্রমেই ভেঙে পড়ে) - চিনির পুতুল হলে জীবনে ব্যর্থতা আসবে; তাই মনকে শক্ত করে কাজ করে যাও।

৭৮। চশমখোর (নির্লজ্জ) - ভদ্রলোকের ছেলে এতটা চশমখোর, তা আগে জানলে ওর সঙ্গে মিশতাম না।

৭৯। চোখে সরষে ফুল দেখা (বিপদে দিশেহারা হওয়া) - বাবার মৃত্যুতে শরীফ চোখে সরষে ফুল দেখছে।

৮০। চোখের নেশা (মোহ) - চোখের নেশা দুদিনেই কেটে যাবে, তখন বুঝতে পারবে সবই ভুল ছিল।

৮১। চক্ষু চড়ক গাছ (বিস্ময়) - ওইটুকু ছেলের কথার মারপ্যাঁচ শুনে তো আমার চক্ষু চড়ক গাছ হয়ে যাবার জোগাড়!

৮২। চুনোপুঁটি (সামান্য ব্যক্তি) - বিচারে চুনোপুঁটিরাই ঠকে, সুবিধে পায় রুই কাতলারা।

৮৩। ছাই চাপা আগুন (সুপ্ত প্রতিভা) - রহিমের ছেলেটা যেন ছাই চাপা আগুন, ভবিষ্যতে সে সুখ্যাতি অর্জন করবেই।

৮৪। ছক্কাপাঞ্জা করা (বড়ো বড়ো কথা বলা) - তোমার ওই ছক্কাপাঞ্জা বিবরণে কারো আস্থা নেই, বুঝলে?

৮৫। ছা-পোষা (পোষ্য-ভারাক্রান্ত) - ছা-পোষা কেরানির সংসারে উদ্বৃত্ত আসবে কোথেকে?

৮৬। ছিঁচকাঁদুনে (সামান্যতে কেঁদে ফেলে) - এমএ পাশ করেও মেয়েটার ছিঁচকাঁদুনে স্বভাব গেল না।

৮৭। জিলাপির প্যাঁচ (কূটবুদ্ধি) - করিমের পেটেপেটে জিলাপির প্যাঁচ, তাই সে সবার অপছন্দ।

৮৮। জগাখিচুড়ি (বিশৃঙ্খল) - বইপত্তরগুলো জগাখিচুড়ি করে না রেখে একটু গুছিয়ে রাখতে পার না?

৮৯। জগদ্দল পাথর (গুরুভার) - বাবার মৃত্যুর পর ছেলের ঘাড়েই সংসারের জগদ্দল পাথর চেপে বসেছে।

৯০। জবরজং (জমকালো কিন্তু বেমানান) - তোমাকে ওই জবরজং পোশাকে একটুও মানায়নি।

৯১। জোর-কপাল (সুপ্রসন্ন ভাগ্য) - এমএ পাশ করে বেরোতেই চাকরি, তোমার তো দেখছি জোর-কপাল!

৯২। ঝিকে মেরে বউকে শেখানো (ইশারায় শেখানো) - বড় ছেলের অপরাধে ছোট ছেলেকে পিটিয়ে চেয়ারম্যান সাহেব ঝিকে মেরে বউকে শেখালেন।

৯৩। ঝড়ো কাক (বিপর্যস্ত অবস্থা) - এমন ঝড়ো কাকের মতো অবস্থা কেন? কোনো খারাপ খবর নাকি?

৯৪। ঝাঁকের কই (সমমনা) - একটাকে পিটিয়ে সব কথা বের করা যাবে, ওরা তো সব ঝাঁকের কই।

৯৫। টাকার গরম (বিত্তের অহঙ্কার) - টাকার গরমে ইমরানের মাটিতে পা পড়ে না।

৯৬। টনক নড়া (সচেতন হওয়া) - আমাদের আসার খবর পেয়ে মতিন সাহেবের টনক নড়েছে।

৯৭। টাকার কুমির (অনেক টাকার মালিক) - টাকার কুমির মুত্তালিব সাহেব দানে হাজি মহসিন।

৯৮। টক্কর দেয়া (প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া) - সবার সঙ্গে টক্কর দিতে যেও না।

৯৯। টইটম্বুর (ভরপুর) - একদিনের বৃষ্টিতে খালবিল একেবারে টইটুম্বুর হয়ে গেছে।

১০০। টুপ ভুজঙ্গ (নেশাগ্রস্ত) - বেটা টুপ ভুজঙ্গ, এ পাড়ায় মাতলামি করতে এসো না।

১০১। টানাপোড়েন (বিরক্তিকর যাতায়াত) - ছুটাছুটি করে টানাপোড়েনে প্রাণ যায় যায়।

১০২। ঠোঁটকাটা (স্পষ্টভাষী) - ঠোঁটকাটা ছেলেটা লোকজনের সামনেই ওর বাবার ভুল শুধরে দিল।

১০৩। ডুমুরের ফুল (অদৃশ্য বস্তু) - কি হে, ভালো স্কুলে ভর্তি হয়ে একেবারে ডুমুরের ফুল হয়ে গেলে নাকি? পাত্তাই যে মেলে না।

১০৪। ডাকাবুকো (নির্ভীক) - এমন ডাকাবুকো ছেলে না হলে এমন কাজ সমাধা হতো না।

১০৫। ডান হাতের কারবার/ব্যাপার/ ডান হাতের কাজ (খাওয়া) - দাঁড়াও, ডান হাতের ব্যাপারটা আগে সেরে আসি।

১০৬। ডিমে রোগা (সর্বদা রুগ্ন) - এ তো দেখছি ডিমে রোগা ছেলে, কোনো কাজে আসবে না।

১০৭। ডামাডোল (গোলযোগ) - যুদ্ধের ডামাডোলে সারা দেশটাই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে।

১০৮। ডুব মারা (অদৃশ্য হওয়া) - যখন তখন কোথায় ডুব মারো তুমি?

১০৯। ঢাক ঢাক গুড় গুড় (লুকোচুরি) - ঢাক ঢাক গুড় গুড় করে লাভ নেই, আসল কথাটা বলে ফেল।

১১০। ঢাকঢোল পেটানো (প্রচারণা) - তুমি বিষয়টা চেপে কী করবে; ইতোমধ্যে ঢাকঢোল পেটানো হয়ে গেছে।

১১১। ঢাকের কাঠি (তোষামোদকারী) - তোমার কথায় আস্থা রাখি কী করে? তুমি তো রহিম সাহেবের ঢাকের কাঠি।

১১২। ঢি ঢি পড়া (দুর্নাম রটনা) - তোমার কেলেঙ্কারির কথায় সারা গ্রামে ঢি ঢি পড়ে গেছে।

১১৩। ঢুঁ মারা (অনুসন্ধান/চেষ্টা) - অফিসে অফিসে ঢুঁ মেরে আর পারা যাচ্ছে না, সর্বত্র 'নো ভ্যাকান্সি'।

১১৪। তালপাতার সেপাই (রুণ/ছিপছিপে) - এত যে খাওদাও সেসব যায় কোথায়? দেখতে তো তালপাতার সেপাই।

১১৫। তীর্থের কাক (সাগ্রহে প্রতীক্ষাকারী) - প্রবাসী ছেলের বাড়ি আসার জন্যে বাবা-মা তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করছেন।

১১৬। তালকানা (কাণ্ডজ্ঞানহীন) - তালকানা লোকটার ওপর এমন দায়িত্ব দিলে? সব না পণ্ড হয়!

১১৭। তামার বিষ (অর্থের কুপ্রভাব) - ছাত্রজীবনে তামার বিষে আক্রান্ত হলে লেখাপড়া হয় না।

১১৮। তাসের ঘর (ক্ষণস্থায়ী) - পৃথিবী তো তাসের ঘর, কিসের এত বড়াই কর?

১১৯। তালগোল পাকানো (জটপাকানো) - সেলিমটা কোনো কাজের না, সব কিছুতেই তালগোল পাকিয়ে ফেলে।

১২০। তিলেতিলে (ধীরে ধীরে) - সৎ-মায়ের অত্যাচারে নিরীহ মেয়েটা তিলে তিলে মারা গেল।

১২১। তুর্কি-নাচন (হুলুস্থুল অবস্থা) - আর ধার দিচ্ছি নে, আগের পাওনা আদায়ে যে তুর্কি-নাচন নাচিয়েছ, তা আজ ভুলিনি, বুঝেছ?

১২২। তুলকালাম (হৈ চৈ/সাংঘাতিক ঘটনা) - সামান্য ব্যাপারে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেল?

১২৩। তুষের আগুন (দীর্ঘস্থায়ী ও দুঃসহ যন্ত্রণা) - অপমানের যন্ত্রণা কি ভোলা যায়, তুষের আগুনের মতো এখনো জ্বলছে।

১২৪। তুলসী বনের বাঘ (ভন্ড, শয়তান) - নাম শুভ হলে হবে কী, আসলে ও তুলসী বনের বাঘ।

১২৫। তেল মাখানো (তোষামোদ) - যতই তেল মাখাও কাজের বেলায় ফক্কা।

১২৬। থ মারা/ থ বনে যাওয়া/ থ হয়ে যাওয়া (অবাক হওয়া/ বিস্মিত বা স্তম্ভিত হওয়া) - কর্তার চাকরি গেছে শুনে গিন্নি থ হয়ে গেল।

১২৭। থই পাওয়া (পথ পাওয়া/ অবস্থা নাগালে আসা) - দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসারে থই পাওয়া মুশকিল।

১২৮। দহরম মহরম (অন্তরঙ্গতা) - কী নিয়ে ঝগড়া। সেদিনও দেখলাম খুব দহরম মহরম!

১২৯। দুধের মাছি (সুসময়ের বন্ধু) - টাকা থাকলে দুধের মাছির অভাব হয় না।

১৩০। দা-কুমড়া সম্বন্ধ (শত্রুভাব) - গ্রামের দুই মাতব্বরের মাঝে দা-কুমড়া সম্পর্ক।

১৩১। দক্ষিণ হস্ত (প্রধান সহযোগী) - করিম তো তোমার দক্ষিণ হস্ত।

১৩২। দেঁতো হাসি (কৃত্রিম হাসি) - আমার সফলতায় তুমি খুশি হতে পারনি, তা তোমার দেঁতো হাসি দেখেই বুঝতে পেরেছি।

১৩৩। দাঁত ফোটানো (কঠিন বিষয় আয়ত্ত করা) - অঙ্কের বিষয়ে দাঁত ফোটানো যাচ্ছে না।

১৩৪। দিনকে রাত করা (অসাধ্য সাধন/দুষ্কর্ম করা) - ধুরন্ধর ব্যক্তিদের পাল্লায় পড়ো না, দিনকে রাত করে ছেড়ে দেবে।

১৩৫। দিবাস্বপ্ন (অলীক কল্পনা) - আত্মবিশ্বাস থাকা ভালো, কিন্তু দিবাস্বপ্ন দেখে লাভ হয় না।

১৩৬। দিল্লিকা লাড্ডু (যে জিনিস পেলে অনুতপ্ত হয়, অথচ না পেলেও হতাশ হয়) - দিল্লিকা লাড্ডু, যে খায় সে পস্তায়, যে না খায় সেও পস্তায়।

১৩৭। দুকান কাটা (বেহায়া/নির্লজ্জ) - দুকান কাটাদের বকে-মেরে লাভ নেই।

১৩৮। দুমুখো সাপ (শত্রু-মিত্র উভয়ের পক্ষাবলম্বন) - সতীশকে বিশ্বাস করো না, ও একটা দুমুখো সাপ।

১৩৯। দুধে আলতা রং (রঙের ঔজ্জ্বল্য) - মেয়েটার দুধে আলতা রং, একবার দেখলেই পছন্দ হয়ে যাবে।

১৪০। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো (আসলের অভাব নকলে মেটানো) - কলার পাতে ভাত খাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই।

১৪১। ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির (সত্যবাদিতার ভান করা) - ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠিরের চেয়ে মিথ্যাবাদী অনেক ভালো।

১৪২। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে (সত্য একদিন প্রকাশ পাবেই) - ভেবেছ তোমার চালাকি কেউ ধরতে পারবে না? ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।

১৪৩। ধরাকে সরা জ্ঞান করা (তুচ্ছ জ্ঞান করা) - কাঁচা টাকা হাতে এসেছে কিনা, তাই সাত্তার ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করেছে।

১৪৪। ধামাধরা (তোষামুদে) - নিজের যোগ্যতা থাকতেও লোকটা এমন ধামাধরা কেন বুঝি না।

১৪৫। ধোপে টেকা (সুফল দেওয়া) - তোমার ওই যুক্তি আদালতে গেলে ধোপে টিকবে ভাবছ?

১৪৬। ধোপদুরস্ত (বাবুয়ানি) - লেখাপড়া জানে না, অথচ সব সময় ধোপদুরস্ত হয়ে চলে।

১৪৭। নকড়া ছকড়া করা (তুচ্ছ জ্ঞান করা) - কাজের জিনিস নকড়া ছকড়া করা ঠিক নয়।

১৪৮। নয়-ছয় (অপচয়/বিশৃঙ্খল অবস্থা) - সবগুলো টাকা নয়-ছয় করে উড়িয়ে দিও না, কিছু টাকা অন্তত সঞ্চয় কর।

১৪৯। নদের চাঁদ (সুন্দর ব্যক্তি অথচ অপদার্থ) - তুমি তো বাবা নদের চাঁদ- তোমাকে দিয়ে এ কাজ হবে না।

১৫০। নাক সিঁটকানো (অবজ্ঞা করা) - সব ব্যাপারেই তোমার নাক সিঁটকানো অভ্যাস গেল না।

১৫১। নাড়ির খবর (সকল তথ্য) - নাড়ির খবর হাঁড়ির খবর নিয়েই তবে তোমার দলে ভিড়তে চাই।

১৫২। পটল তোলা (মারা যাওয়া) - দীর্ঘদিন রোগ ভোগের পর ভিক্ষুকটা অবশেষে পটল তুললো।

১৫৩। পুকুর চুরি (বড় ধরনের চুরি) - মালিকের অনুপস্থিতিতে কর্মচারীরা পুকুর চুরি করছে।

১৫৪। পগার পার (ভেগে যাওয়া/ পালানো) - পুলিশ আসার আগেই চোরটা পগার পার।

১৫৫। পথের কাঁটা (প্রতিবন্ধক) - বাড়ির বড় ছেলেটাই সৎ মায়ের পথের কাঁটা।

১৫৬। পথে বসা (সর্বস্বান্ত হওয়া) - তোমার পাল্লায় পড়ে পথে বসতে হলো, এখন আমি কী করব!

১৫৭। পদ্মপাতায় জল (ক্ষণস্থায়ী) - মানুষের আয়ু সে তো পদ্মপাতায় জল।

১৫৮। পায়া ভারী (অহঙ্কার) -ছেলে বৃত্তি পাওয়াতে তোমার তো দেখি ভীষণ পায়াভারী হয়েছে।

১৫৯। পোয়া বারো (অত্যধিক সুবিধে) - ছেলে চাকরি পাওয়ায় হাতেম সাহেবের এখন পোয়া বারো।

১৬০। পৌঁ-ধরা (মোসাহেবি করা) - বড় সাহেবের পোঁ-ধরে থাকায় তার পদোন্নতি হয়েছে।

১৬১। ফোঁপরদালালি (অযাচিত মাতব্বরি করা) - আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপারে তুমি ফোঁপরদালালি করতে এসো না।

১৬২। ফোড়ন কাটা (কথার মাঝে বিদ্রুপ করা) - কথায় কথায় ফোড়ন কেটো না তো।

১৬৩। ব্যাঙের সর্দি (অসম্ভব বস্তু) - দশ বছর যে জেল খাটল তাকে দেখাচ্ছ জেলের ভয়, ব্যাঙের আবার সর্দি?

১৬৪। বিসমিল্লায় গলদ (গোড়ায় ভুল) - অঙ্কটা আবার প্রথম থেকে কষো, এ যে দেখছি বিসমিল্লায় গলদ।

১৬৫। বকধার্মিক (ভন্ড) - তোমার মতো বকধার্মিকের মুখে ধর্মের কাহিনি শোভা পায় না।

১৬৬। বসন্তের কোকিল (সুসময়ের বন্ধু) - পকেটে টাকা থাকলে বসন্তের কোকিলের অভাব হয় না।

১৬৭। বর্ণচোরা (ভন্ড) - বর্ণচোরা লোকের মিষ্টি কথায় ভুললে সমূহ বিপদ।

১৬৮। বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো (অসার আস্ফালন) - কাজের ক্ষমতা নেই, কেবল হম্বিতম্বি, সবই বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো।

১৬৯। বিষবৃক্ষ (অনিষ্টকারী) - চোরের ছেলে বাটপাড় হয়েছে-বিষবৃক্ষের ফল আর কী হবে?

১৭০। বিড়াল তপস্বী (ভণ্ড তপস্বী) - সমাজে বিড়াল তপস্বীর অভাব নেই।

১৭১। বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধা (অসাধ্য সাধন করা) - বড় সাহেবের কাছে দাবি জানাতে যাওয়া আর বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধা একই কথা।

১৭২। বুদ্ধির ঢেঁকি (নির্বোধ) - হুঁকোটি বাড়ায়ে রয়েছে দাঁড়ায়ে বেটা বুদ্ধির ঢেঁকি। (রবীন্দ্রনাথ)।

১৭৩। ভরাডুবি (সর্বনাশ) - ব্যবসায়ে তার ভরাডুবি হয়েছে।

১৭৪। ভাতে মারা (বড় ধরনের ক্ষতি করা) - তোমাকে হাতে না মেরে ভাতে মারব।

১৭৫। ভিজে বেড়াল (সাধু বেশে অসৎ লোক) - ভিজে বেড়াল সেজে এসেছ- ভেবেছ তোমার কথায় ভুলে যাব?

১৭৬। ভিটায় ঘুঘু চরানো (সর্বস্বান্ত) - আমার সঙ্গে লড়তে এলে, ভিটায় ঘুঘু চরিয়ে ছাড়ব।

১৭৭। ভুঁইফোঁড় (অর্বাচীন) - ভূঁইফোঁড় বড়লোকদের অহঙ্কারের শেষ নেই।

১৭৮। ভূশন্ডির কাক (দীর্ঘকালের অভিজ্ঞ ব্যক্তি) - প্রাচীন সংস্কার ওই ভূশণ্ডির কাকেরাই আঁকড়ে ধরে রাখে।

১৭৯। ভেক ধরা (ভান করা) - ভালোভাবে তো পারলে না, এবার ভেক ধরে দেখ কোনো উন্নতি করতে পারো কিনা।

১৮০। মাথার মণি (মহার্ঘ প্রিয় বস্তু) - একমাত্র ছেলেটা বিধবার মাথার মণি।

১৮১। মাথা খাওয়া (নষ্ট করা) - অতি আদর দিয়ে বাপ-মা ছেলেটার মাথা খেয়েছে।

১৮২। মানিকজোড় (প্রগাঢ় সংযোগ বা বন্ধুত্ব) - দু বন্ধু সবকিছুতেই একাত্ম, যেন মানিকজোড়।

১৮৩। মাছের মায়ের পুত্রশোক (কৃত্রিম শোক) - তোমার মুখে দেশপ্রেমের কথা! এ যে মাছের মায়ের পুত্রশোক।

১৮৪। যক্ষের ধন (কৃপণের ধন) - যক্ষের ধনের মতো ধনদৌলত আঁকড়ে থেকো না, ধর্মপথে কিছু খরচ কর।

১৮৫। রাবণের চিতা (চির অশান্তি/নিরন্তর দাহ) - বিধবার বুকে জ্বলে রাবণের চিতা।

১৮৬। রাশভারী (গম্ভীর প্রকৃতি) - ছোট বয়স থেকেই করিম বেশ রাশভারী ছেলে।

১৮৭। লেফাফা দুরস্ত (পরিপাটি) - বাইরে লেফাফা দুরস্ত দেখালে কী হবে, আসলে সে একটা গন্ডমূর্খ।

১৮৮। লঙ্কাকাণ্ড (হুলুস্থূল অবস্থার সৃষ্টি করা) - সামান্য বিষয় নিয়ে এমন লঙ্কাকাণ্ড বাধাচ্ছ কেন?

১৮৯। লেজে খেলানো (চাতুর্যের সঙ্গে বশীভূত করে রাখা) - সাধন বেচারাকে এভাবে লেজে খেলিয়ো না, একটা কিছু ব্যবস্থা কর।

১৯০। শরতের শিশির (ক্ষণস্থায়ী) - আমাদের বন্ধুত্ব কি শরতের শিশির, যে তোর বিপদের দিনে পালিয়ে থাকব?

১৯১। শাক দিয়ে মাছ ঢাকা (অপরাধ গোপন করার ভ্রান্ত পদ্ধতি) - তোমার আয়ের উৎস সবাই জানে, শাক দিয়ে মাছ ঢেকে লাভ হবে না।

১৯২। শাপে বর (অমঙ্গলে মঙ্গল ঘটা) - চাকরি চলে যাওয়ায় তার শাপে বর হয়েছে- ব্যবসায়ে দ্রুত উন্নতি হচ্ছে।

১৯৩। ষোলো কলা (সম্পূর্ণ) - মনের আশা কখনো ষোলো কলায় পূর্ণ হয় না।

১৯৪। সাপে-নেউলে (ভীষণ শত্রুতা) - টাকা পয়সা লেনদেন নিয়ে দু বন্ধুতে এখন সাপে-নেউলে সম্পর্ক চলছে।

১৯৫। সুখের পায়রা (সুদিনের বন্ধু) - টাকা থাকলে সুখের পায়রা জোটে।

১৯৬। সপ্তকাণ্ড রামায়ণ (বৃহৎ বিষয়) - সপ্তকাণ্ড রামায়ণ না আউড়ে আসল কথাটাই বল।

১৯৭। সাক্ষী গোপাল (নিষ্ক্রিয় দর্শক) - সাক্ষী গোপাল হয়ে থাকলে এ সংসারে শুধু ঠকতেই হয়।

১৯৮। হাতেখড়ি (শিক্ষার শুরু) - পয়লা মার্চ গৃহশিক্ষকের কাছে কালামের হাতেখড়ি হলো।

১৯৯। হস্তিমূর্খ (নিরেট মূর্খ) - শিক্ষকের ছেলে যে এমন হস্তিমূর্খ হতে পারে তা আমার জানা ছিল না।

২০০। হাতভারী (ব্যয়কুণ্ঠ/কৃপণ) - এমন হাতভারী লোকের কাছে চাঁদা চেয়ে লাভ নেই।

২০১। হাল ধরা (দায়িত্ব বা নেতৃত্ব গ্রহণ) - আগে সংসারের হাল ধর, দেখবে আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে গেছে।

২০২। হাড়হদ্দ (সবকিছু) - তোমার হাড়হদ্দ সবই আমার জানা আছে।

২০৩। হাড়ে হাড়ে (গভীরভাবে) - তোমাকে আমি হাড়ে হাড়ে চিনি।


প্রবাদ প্রবচন (৩০৫ টি)

১। অতি দর্পে হত লঙ্কা (অহঙ্কার পতনের মূল): বেশি বাড়াবাড়ি করলে নিজেই ধরা পড়বে, জান না অতি দর্পে হত লঙ্কা।

২। অতি লোভে তাঁতি নষ্ট (বেশি লোভে ক্ষতি): অমন চাকরিটা ছেড়ে ব্যবসায় যাওয়া ঠিক হবে' না-কেননা অতি লোভে তাঁতি নষ্ট।

৩। অতি চালাকের গলায় দড়ি (অধিক চালাকিতে বিপদের সম্ভাবনা): ওই ধুরন্ধর লোকের সঙ্গে বুদ্ধির দৌড় দেখাতে যেয়ো না জান তো অতি চালাকের গলায় দড়ি।

8। অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ (অধিক আদিখ্যেতা সন্দেহ ও বিপদের কারণ): ওর মিষ্টি কথায় ভুলে, ফাঁদে পা দিতে যেয়ো না, তোমার বোঝা উচিত অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।

৫। অধিক/অনেক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট (অতিরিক্ত লোকের খবরদারিতে কাজ পণ্ড): সামান্য অনুষ্ঠানের জন্যে বেশি লোক লাগানো ঠিক হবে না-শেষে অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট হবে।

৬। অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী (স্বল্প জ্ঞান নিয়ে বাড়াবাড়ি মূর্খতার পরিচয়): জান না, শোন না অথচ জ্ঞানের বড়াই দেখাতে এসেছ-অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী একেই বলে।

৭। অর্থই অনর্থের মূল (অর্থলোভ কুকর্মের সহায়ক): ছিল সৎ, টাকার পেছনে ছুটে ছুটে হয়েছে পুরোদস্তুর জালিয়াত, আসলে অর্থই যত অনর্থের মূল।

৮। অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর (শোক কম হলে দুঃখ ভারাক্রান্ত এবং অধিক হলে বাকরহিত হতে হয়): একমাত্র সন্তানের মৃত্যুতে শরাফত সাহেব একেবারে বোবা হয়ে গেছেন - কথায় বলে না অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর।

৯। আদার ব্যাপারির জাহাজের খবর (সাধারণ লোকের বিরাট বিষয়ের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ): তোমাদের বড় বড় পরিকল্পনায় আমার কোনোই আগ্রহ নেই; হলাম আদার ব্যাপারি, জাহাজের খবর নিয়ে লাভ কী?

১০। আগুন পোহাতে ধোঁয়ার কষ্ট (কষ্টের মধ্য দিয়েই ফল লাভ): এত রাত জেগে পড়াশোনা করছি তো ফল ভালো করার আশায়, আগুন পোহাতে ধোঁয়ার কষ্ট না সয়ে উপায় কী?

১১। আপনি বাঁচলে বাপের নাম (সবার আগে নিজের স্বার্থই বড়): আগে তো নিজেরটা সারি, তারপরে তোমার বিষয় ভাবব, আপনি বাঁচলে বাপের নাম।

১২। ইটটি (ঢিলটি) মারলে পাটকেলটি খেতে হয় (যেমন কাজ তেমন তার ফল): অপরের ক্ষতি করতে গেলে নিজের ক্ষতি হয় আগে, জান না ইটটি (ঢিলটি) মারলে পাটকেলটি খেতে হয়?

১৩। ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় (ইচ্ছাশক্তিতে কঠিন কাজ করা সম্ভব): এক মাইল রাস্তা হেঁটে যেতে পারবে না, তা কেমন করে হয়? - ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়, যাত্রা শুরু কর।

১৪। উঠন্তি মুলো পত্তনে চেনা যায় (শুরুতে বা ছোট থেকে বোঝা যায় ভবিষ্যতে পরিণতি কী হবে): তোমার পড়াশোনার যা শ্রী, তাতে ফি বছর ফেল করবে - উঠন্তি মুলো পত্তনে চেনা যায়।

১৫। উড়ো খই গোবিন্দায় নমঃ (নাগালের বহির্ভূত জিনিস দানে ব্যবহৃত): অনাদায়ের পাওয়া টাকাটা সমিতিতে দান করে উড়ো খই গোবিন্দায় নমঃ'র ব্যবস্থা করা হলো আর কি।

১৬। উনা ভাতে দুনা বল (স্বল্পাহার স্বাস্থ্যপ্রদ): বেশি খেলে বদহজম হবে, কম করে খাও, উনা ভাতে দুনা বল- বুঝলে?

১৭। উন বর্ষা দুনো শীত (অল্প বর্ষায় বেশি শীত/অল্প কাজে অধিক লাভ): মাত্রা বুঝে খরচ কর, নইলে দারুণ অর্থাভাবে পড়তে হবে; জান না উন বর্ষায় দুনো শীত।

১৮। এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সব সময় থাকে না): আমার এমন বিপদে তুমি একবারও এলে না, মনে রেখো এক মাঘে শীত যায় না।

১৯। এক হাতে তালি বাজে না (এক পক্ষ বিবাদ সৃষ্টি করে না): তোমরা দুজনেই ঝগড়া বাধিয়েছ, কারণ এক হাতে তালি বাজে না।

২০। এক ঢিলে দুই পাখি মারা (এক কৌশলে দুই উদ্দেশ্য সাধন): এসেছ ধার চাইতে, আবার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করছ; এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাও নাকি?

২১। এঁটোপাত না যায় স্বর্গে (পরমুখাপেক্ষীর সমৃদ্ধি সম্ভব হয় না): মালিকের দয়ায় চাকরি পেয়েছ; আবার ধরনা দিচ্ছ পদোন্নতির জন্যে-এঁটোপাত না যায় স্বর্গে।

২২। একে নাচনি বুড়ি তাতে পড়েছে ঢোলের বাড়ি (ইন্ধন যোগানো): একে নাচনি বুড়ি তাতে পড়েছে ঢোলের বাড়ি, এখন কি আর ওঁকে ছেড়ে মেলায় যেতে পারবে?

২৩। ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে (আকস্মিকভাবে বড় বিষয় সম্পন্নের চেষ্টা): কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে বললে কি চলে?

২৪। কাকের বাসায় কোকিলের ছা-জাত স্বভাবে করে রা / রং যায় না ধুলে স্বভাব যায় না মলে (জন্মগত অভ্যাস পরিত্যাগ করা দুঃসাধ্য): যতই চেষ্টা করনা কেন, কারো চোরাস্বভাব সহজে পরিবর্তন করা যায় না, কথায় বলে রং যায় না ধুলে স্বভাব যায় না মলে। / কাকের বাসায় কোকিলের ছা-জাত স্বভাবে করে রা।

২৫। কানা-ছেলের নাম পদ্মলোচন (অযোগ্যের বিপরীত নামকরণ): মা আদর করে তাঁর কানা-ছেলের নাম পদ্মলোচন রেখেছেন, এতে অবাক হওয়ার কী আছে।

২৬। কয়লা ধুলে ময়লা যায় না (স্বভাবের পরিবর্তন সম্ভব নয়): চোরা স্বভাবের পরিবর্তন সম্ভব নয়- কয়লা ধুলে ময়লা যায় না।

২৭। কত ধানে কত চাল (অভিজ্ঞতা দিয়ে জানা): আগে সংসারী হও, তখন বুঝতে পারবে কত ধানে কত চাল।

২৮। কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না (পরিশ্রম না করলে সফলতা আসে না): এত পরিশ্রম কেন করি?- কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না, বুঝেছ?

২৯। কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি (স্বার্থসিদ্ধির পরে গুরুত্ব না দেয়া বা এড়িয়ে চলা): তোমাকে চিনি নে? তুমি তো কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি।

৩০। কাকের মাংস কাকে খায় না (স্বজন বা সগোত্রের প্রতি অনুরাগ): করিম সাহেব তাঁর চাচাতো ভাইকে বিচার করে শাস্তি দেবেন ভেবেছ? জান না কাকের মাংস কাকে খায় না।

৩১। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা (কষ্টের ওপর অধিক কষ্ট): একে তো পরীক্ষায় ফেল করেছে, তার ওপর পাড়াপড়শির কানাকানি- বেচারার কাটা ঘায়ে যেন নুনের ছিটা পড়ছে।

৩২। কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ (যার যেমন ভাগ্য): যাতে হাত দিচ্ছ সোনা ফলছে, আর আমার সবকিছুতেই দুর্ভোগ- কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ, আমি আর কী করব, বল?

৩৩। কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ, পাকলে করে ঠাস ঠাস (ছোটকালে শিক্ষার সময়, বড় বয়সে সম্ভব নয়): সময়মতো লেখাপড়া শেখাওনি, এখন আর চেষ্টা করে কী হবে- কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ পাকলে করে ঠাস ঠাস।

৩৪। কানে দিয়েছি তুলো পিঠে বেঁধেছি কুলো (নিজেকে সংশ্লিষ্ট না করা): তোমাদের ব্যাপারস্যাপারে আমি থাকতে চাই না- কানে দিয়েছি তুলো পিঠে বেঁধেছি কুলো, বুঝেছ?

৩৫। কথায় চিড়ে ভিজে না (ফাঁকা প্রতিশ্রুতি অর্থহীন): তোমার কথায় আর চিঁড়ে ভিজবে না; টাকা ছাড়, তবে কাজ করব।

৩৬। কাঙালের কথা বাসি হলে ফলে (সাধারণের পরামর্শও উপকারে আসে): গরিব বলে আমার কথা না শুনে বড়ো লোকের কথায় কান দিলে, এখন বোঝ-কাঙালের কথা বাসি হলে ফলে।

৩৭। গঙ্গা জলে গঙ্গা পুজো (যার জিনিস তাকেই দান করা): নজরুল জয়ন্তীতে নজরুলের কবিতা পড়ে গঙ্গা জলে গঙ্গা পুজো সারলাম আর কি।

৩৮। গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল/কালনেমির লঙ্কাভাগ (আয়ত্তে না আসতেই আড়ম্বর): খেলা শুরু না হতেই জয়ের চিন্তা করছ, এ যে দেখি গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।

৩৯। গায়ে ফুঁ-দিয়ে বেড়ানো (দায়িত্ব গ্রহণের পরিবর্তে ঘুরে বেড়ানো): খুব তো গায়ে ফুঁ-দিয়ে বেড়াচ্ছ, কাজের চেষ্টা কর, বাপ মরলে খাবে কী?

৪০। গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল (গায়ে পড়ে কর্তৃত্ব জাহির করা): তোমাকে সালিশ করতে কেউ ডাকেনি, মুখ বুজে থাক-গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল এসেছেন।

৪১। গরু মেরে জুতো দান (গুরুতর ক্ষতি করে কিঞ্চিৎ সাহায্য দান): ঘরে আগুন দিয়ে এসেছ সহানুভূতি দেখাতে - একেই বলে গরু মেরে জুতো দান।

৪২। গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না (স্বজন কর্তৃক বা স্বদেশে সম্মান মেলে না): আত্মীয় স্বজনের দ্বারস্থ হয়ে লাভ নেই, গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না।

৪৩। ঘটি ডোবে না নামে তালপুকুর (অক্ষমতা সত্ত্বেও বড়াই করা): দুবেলা ভাত খেতে পায় না, আবার দান করতে চায় - ঘটি ডোবে না, নামে তালপুকুর।

৪৪। ঘরের শত্রু বিভীষণ (অভ্যন্তরীণ শত্রু): আত্মীয়-স্বজনরাই আমার বদনাম ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে, জান না ঘরের শত্রু বিভীষণ।

৪৫। ঘরপোড়া গরু, সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায় (একবার বিপদে পড়লে তার সাদৃশ্য চোখে পড়লে ভীত হয়): তোদের গ্রামের বাড়িতে আবার সন্ত্রাস নেই তো? ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়, তাই জিজ্ঞেস করলাম।

৪৬। ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো (নিজের ক্ষতি করেও অপরের উপকার সাধন): প্রকৃত সমাজসেবী সমাজ-সেবার ব্যাপারে নিজের লাভ লোকসান বিবেচনা করে না, বরং ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোয় আনন্দ পায়।

৪৭। ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া (বড় রকমের বিপদ থেকে উদ্ধার লাভ): মিথ্যে মামলা হতে রেহাই পাওয়ায় নিখিলের ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল।

৪৮। ঘাড়ের ভূত নামানো (দুর্বুদ্ধি ত্যাগ করা): ভদ্রলোকের ছেলে হয়ে জুয়াড়ি দলে ভিড়ো না, ঘাড়ের ভূত নামিয়ে ফেল।

৪৯। ঘুঘু দেখেছ, ঘুঘুর ফাঁদ দেখনি (আনন্দের আড়ালে দুঃখের ইঙ্গিত): পালিয়ে যাবে কোথায়? ঘুঘু দেখেছ, ঘুঘুর ফাঁদ দেখনি - এই পিলু ওকে বেঁধে রাখ।

৫০। ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া (সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এড়িয়ে কাজ হাসিলের চেষ্টা): নিয়ম মেনে চল, ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খেতে গেলে বিপদ আছে।

৫১। চকচক করলেই সোনা হয় না (বাইরে থেকে দেখে বিচারের ফল ঠিক হয় না): বড়লোকের ছেলে, কেতাদুরস্ত চাল-চলন অথচ লেখাপড়ায় একেবারে গোমূর্খ-চকচক করলেই তো সোনা হয় না।

৫২। চাঁদেরও কলঙ্ক আছে (যোগ্য ব্যক্তিরাও ত্রুটিমুক্ত নন): পূর্ণিমার কপালের কাটা দাগের জন্যে ওকে বিয়ে দেয়া যাবে না এমনটি ভাবা ঠিক নয়, চাঁদেরও তো কলঙ্ক আছে।

৫৩। চাচা, আপন পরাণ বাঁচা (সবার আগে নিজের নিরাপত্তা): পরিস্থিতি প্রতিকূল দেখে পালিয়ে এলাম, চাচা আপন পরান বাঁচা ছাড়া উপায় কী?

৫৪। চালুনি বলে ছুঁচ তোর দেখি ছ্যাঁদা (দোষী হয়েও অপরের সামান্য ত্রুটির সমালোচনা করা): নিজে দোষ করে অন্যের বিচার করতে এসেছে - চালুনি বলে ছুঁচ তোর দেখি ছ্যাঁদা।

৫৫। চেনা বামুনের পৈতে লাগে না (মানী ব্যক্তির পরিচয়ের প্রয়োজন পড়ে না): গাঁয়ের মোড়লের আবার বংশপরিচয় কী - চেনা বামুনের পৈতে লাগে না।

৫৬। চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি (অসাধু লোককে উপদেশ অর্থহীন): সন্ত্রাসীদের আবার মানবতা শেখানো, চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি।

৫৭। ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো (অবহেলিত ব্যক্তির প্রয়োজনীয় সাহায্য) : গরিব আত্মীয় বলে অবহেলা করতে নেই, ছাই ফেলতে ভাঙা কুলোও একসময় কাজে লাগে।

৫৮। ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি (ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব থেকে মুক্তি লাভের আকুলতা): লাভের দরকার নেই, আসল পেলেই চলবে-আমার অবস্থা এখন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি।

৫৯। ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ (সামান্য প্রাপ্তির জন্যে বড় ধরনের দুষ্কর্মে লিপ্ত হওয়া): একশ টাকার জন্যে মিথ্যে সাক্ষী দিয়ে ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করো না।

৬০। ছোট মুখে বড় কথা (ছোটদের দ্বারা বা অযোগ্য লোক দ্বারা মানী লোকের প্রতি খারাপ ব্যবহার করা): চুপ কর তো, ছোট মুখে এমন বড় কথা মানায় না।

৬১। জলে কুমির ডাঙায় বাঘ (সর্বত্র বিপদ): বাড়িতে বিবাদ, অফিসে ধমকানি, আমার যেন জলে কুমির ডাঙায় বাঘ, এখন যাব কোথায়।

৬২। ঝড়ে বক মরে ফকিরের কেরামতি বাড়ে (অন্যের কৃতিত্ব পরোক্ষভাবে সপক্ষে ব্যবহার): আবদুল নিজের চেষ্টায় ও মেধায় 'এ-গ্রেড' পেয়েছে অথচ লোকে জানল, সব কৃতিত্ব গৃহশিক্ষকের- ঝড়ে বক মরে ফকিরের কেরামতি বাড়ে আর কি।

৬৩। ঝিকে মেরে বউকে শেখানো (একজনকে শাস্তি দিয়ে অন্যকে শেখানো): অত বড় ছেলেকে সরাসরি বকা ঠিক হবে না, ঝিকে মেরে বউকে শেখানো নীতি ধরতে হবে দেখছি।

৬৪। ঝোপ বুঝে কোপ মারা (অবস্থা বুঝে সুযোগ গ্রহণের চেষ্টা): কোনো কথা বলার দরকার নেই, আগে জিনিসটা বোঝার চেষ্টা কর, পরে ঝোপ বুঝে কোপ মারলে হবে।

৬৫। টোটো কোম্পানির ম্যানেজার (কোনো কাজ না করে বেকার বা ভবঘুরের মতো থাকা): বড়োলোকের ছেলে তো, এম. এ. পাশ করে বাবার খাচ্ছে আর টোটো কোম্পানির ম্যানেজারি করে বেড়াচ্ছে।

৬৬। ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় (মন্দে ভরপুর স্থানে ভালোর আশা করা বৃথা): সাধুতার বড়াই দেখাতে এসো না, পাড়ার সবাইকে তো চিনি - ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে।

৬৭। ঠাকুর ঘরে কে? না, আমি কলা খাইনি (নির্বুদ্ধিতা, চালাকি ধরা পড়া): জিনিসটা তুমি যদি না নেবে, তাহলে এ সম্পর্কে এত কথা জানলে কী করে? - ঠাকুর ঘরে কে? না, আমি কলা খাইনি।

৬৮। ঠেলার নাম বাবাজি (চাপে পড়ে নত হওয়া): মার না লাগালে তুমি মুখ খুলবে না দেখছি - ঠেলার নাম বাবাজি, বুঝলে?

৬৯। ডান হাতের কারবার/ব্যাপার (খাওয়া): দাঁড়াও ডান হাতের কারবারটা/ব্যাপারটা সেরে আসি।

৭০। ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার (যোগ্যতা বা ক্ষমতাহীনের আড়ম্বর): বেটা হাভাতে, দানের মাহাত্ম্য দেখাতে এসেছেন! - ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার।

৭১। ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে (দুর্ভাগ্য সর্বত্রগামী): অফিসেই থাকি আর বাড়িতেই থাকি ভূতের বেগার খাটতেই হবে, জানো তো ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।

৭২। তেলা মাথায় তেল দেয়া (ক্ষমতাবানকে অযথা সাহায্য করা): গরিবের কথা কে শোনে, সবাই তেলা মাথায় তেল দিতে ব্যস্ত।

৭৩। দশ চক্রে ভগবান ভূত (দশ জনের চক্রান্তে ন্যায়কে অন্যায় করা): দল বেঁধে মিথ্যে সাক্ষ্য দিয়ে ভালো লোকটাকে জেলে ঢোকালে? একেই বলে দশ চক্রে ভগবান ভূত।

৭৪। দশের লাঠি একের বোঝা (একতাই শক্তি, একাতে যা অসম্ভব): একসঙ্গে মিলে কাজটা সম্পন্ন করা সহজ হল, নইলে অসম্ভব হতো-আসলে দশের লাঠি একের বোঝা।

৭৫। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা না বোঝা (যথাসময়ে সুযোগের সদ্ব্যবহার না করা): সারা বছর পড়নি, ফেল তো করবেই-দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা না বুঝলে এরকমই হয়।

৭৬। দশদিন চোরের একদিন গৃহীর/সাধুর (কুকর্মের ফল একদিন অনিবার্য ফলে): তোমার চালাকি ধরা পড়বে না ভেবেছ, মনে রেখ দশ দিন চোরের একদিন গৃহীর/সাধুর।

৭৭। দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো (খারাপ জিনিস থাকা অপেক্ষা না থাকাই শ্রেয়): পড়াশোনা না করে সন্ত্রাসী হয়ে ঘুরে বেড়ালে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হবে, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।

৭৮। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো (প্রয়োজনে নিকৃষ্ট জিনিসের ব্যবহার): যা জোটে তাই খেয়ে নাও, প্রয়োজনে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে হয়।

৭৯। ধরি মাছ না ছুঁই পানি (বুদ্ধির জোরে কষ্ট এড়িয়ে কার্যসিদ্ধি): বড় সাহেবকে সরাসরি মোকাবিলা করতে গেলে কাজ হবে না, ধরি মাছ না ছুঁই পানির আশ্রয় নিতে হবে।

৮০। ধরাকে সরা জ্ঞান (সব কিছুকে তুচ্ছ ভাবা): বুঝেসুঝে চলতে শেখ, ধরাকে সরা জ্ঞান করলে ভবিষ্যতে পস্তাতে হবে।

৮১। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে (অধর্ম/অপকর্ম প্রকাশিত হয়ে পড়েই): রোজ রোজ নকল করতে গেলে একদিন না একদিন ধরা পড়তেই হবে - ধর্মের কল বাতাসে নড়ে, বুঝলে?

৮২। ধান ভানতে শিবের গীত/ধেনো হাটে ওল নামানো (অপ্রাসঙ্গিক কাজ করা): জানতে চাচ্ছি কী, আর তুমি বলছ কী, ধান ভানতে শিবের গীত গাইছ কেন?

৮৩। ধারে না হলে ভারে কাটে (কোনো না কোনোভাবে কার্যসিদ্ধি): ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়েছ, জমিজমা রেখে যাচ্ছ, লোকবলও কম নেই, ভাবছ কেন?-ধারে না হলে ভারে কাটবে।

৮৪। নাচতে দাঁড়িয়ে ঘোমটা টানা (কৃত্রিম লজ্জা): যা বলতে চাও সরাসরি বলে ফেল, নাচতে এসে ঘোমটা টানলে চলবে কেন?

৮৫। নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা (নিজের ত্রুটি অন্যের ওপর চাপানো): পরীক্ষায় ফেল করেছ তুমি, অথচ দোষ দিচ্ছ শিক্ষকের-নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা-ই হয়।

৮৬। নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ (অপরের ক্ষতি করার অভিপ্রায়ে নিজের ক্ষতি সাধন): নিজের চরকায় তেল দাও, নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করতে যেয়ো না।

৮৭। নুন আনতে পান্তা ফুরায় (অসচ্ছল অবস্থা): নিম্নবিত্ত সংসারে নিত্যই নুন আনতে পান্তা ফুরায়।

৮৮। নুন খাই যার গুণ গাই তার (উপকারীর উপকার করা): আমার দ্বারা মালিকের কোনো ক্ষতি সাধন সম্ভব নয়, নুন খাই যার গুণ গাই তার।

৮৯। ন্যাড়া বারবার বেল-তলায় যায় না (ভুক্তভোগী কখনো বারবার ঠকতে চায় না): রাজনীতি করে একবার গুলি খেয়েছি, আর নয় - ন্যাড়া বারবার বেল-তলায় যায় না।

৯০। নেই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো (একেবারে না থাকার চেয়ে কিছু থাকা ভালো): পকেটে কোনো টাকা না রাখার চেয়ে দু টাকাই রেখে দিই - নেই মামার চেয়ে কানা মামাই ভালো।

৯১। পড়িয়া বিপাকে গণেশ মাঝি গরু রাখে (বিপদে পড়ে স্বভাববিরুদ্ধ কাজ করতে বাধ্য হওয়া): ভর্তি হব বিজ্ঞানে, সুযোগ মিলল বাণিজ্য বিভাগে, কী আর করা, পড়িয়া বিপাকে গণেশ মাঝি গরু রাখে।

৯২। পড়েছি মোগলের হাতে খানা খেতে হবে সাথে (বিপদে পড়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করা): তোমার কথাই রাখবো, কী আর করা - পড়েছি মোগলের হাতে খানা খেতে হবে সাথে।

৯৩। পাপের ধন প্রায়শ্চিত্তে যায় (অসৎ পথের উপার্জন অকাজে ব্যয় হয়): চোরাকারবারের আয় পুলিশকে দিলে তো, একেই বলে পাপের ধন প্রায়শ্চিত্তে যায়।

৯৪। পায় না তাই খায় না (অভাবী মানুষের কোনো জিনিসের প্রতি কপট অনীহা প্রকাশ): পায় না তাই খায় না, অথচ ভাব দেখলে মনে হয় কোনো কিছুর তার প্রয়োজন নেই।

৯৫। পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে (অভিজ্ঞতা বা প্রবীণত্বের মূল্য বেশি): দাদুর যুক্তিই শেষ পর্যন্ত কাজে লাগল - আসলে পুরোনো চালই ভাতে বাড়ে।

৯৬। পেটে খেলে পিঠে সয় (সুবিধে পেতে হলে কষ্ট স্বীকারে অসুবিধে হয় না): টাকা পেলে দশ মাইল কেন, পঞ্চাশ মাইল ছুটতে রাজি আছি, জানই তো পেটে খেলে পিঠে সয়।

৯৭। পেটে খিদে চোখে লাজ (সংকোচবশত মনের ইচ্ছে প্রকাশ না করা): পেটে খিদে চোখে লাজ নিয়ে চুপচাপ বসে আছ, অথচ তোমার কী অসুবিধে তা তো জানালে না।

৯৮। পিপীলিকার পাখা ওঠে মরিবার তরে (বাড়াবাড়ি পতনের কারণ): ওজন বুঝে চল, মাত্রা ছাড়িয়ো না, জান তো পিপীলিকার পাখা ওঠে মরিবার তরে।

১৯। ফেন দিয়ে ভাত খায় গপ্প মারে দই (মুখে আড়ম্বর): গায়ে কাপড় জোটে না জুতোর গল্প করতে এসেছে, ফেন দিয়ে ভাত খায় গপ্প করে দই।

১০০। ফেল কড়ি মাখ তেল (অর্থের বিনিময়ে ইচ্ছে পূরণ): চাইলেই পাওয়া যাবে না, ফেল কড়ি মাখ তেল।

১০১। বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো (বড় বড় কথা বা পরিকল্পনা): তোমাকে আমি ভালো করেই চিনি, তোমার স্বভাবটাই হল বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো গোছের।

১০২। বরের ঘরের পিসি কনের ঘরের মাসি (উভয় পক্ষের স্বার্থে জড়িত): ছোট মামাকে ধরলে কার্যসিদ্ধি হতে পারে, উনি তো এ ব্যাপারে বরের ঘরের পিসি কনের ঘরের মাসি।

১০৩। বড়র পিরিতি বালির বাঁধ ক্ষণেক হাতে দড়ি, ক্ষণেক চাঁদ (উঁচু স্তরের সঙ্গে সম্মন্ধ ক্ষণস্থায়ী): বলেছিলাম বড়লোকের সঙ্গে সম্মন্ধ কর না, এখন বোঝ, কথায় বলে বড়র পিরিতি বালির বাঁধ, ক্ষণেক হাতে দড়ি, ক্ষণেক চাঁদ।

১০৪। বসতে পেলে শুতে চায় (একবার সুবিধে পেলে পেয়ে বসে): স্কুলের হাজিরা খাতা থেকে ছেলেটার নাম কাটা যাচ্ছিল, স্কুলের বেতন দিয়ে দিলাম, এখন আবার এসেছে পরীক্ষার ফিস চাইতে-এ তো দেখছি বসতে পেলে শুতে চায় অবস্থা।

১০৫। বাইরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট (বাইরে চাকচিক্য ভিতরে ফাঁকা): লোকটার হাবভাব দেখে ভেবেছিলাম সে এই ব্যপারে অভিজ্ঞ, কিন্তু কথা বলা শুরু করার পর বুঝলাম আসলে বাহিরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট।

১০৬। বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা (শত্রুর ঘরে গোপনে অবস্থান): মন্ত্রীর আশ্রয়ে থাকা সন্ত্রাসীকে পুলিশ ধরবে কী করে? বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা যে!

১০৭। বাঘে-গরুতে এক ঘাটে পানি খায় (যোগ্য শাসনে বাদী বিবাদী উভয়ে ভীত): জেলা প্রশাসকের কঠোর শাসনে এখন কারো আর বাড়াবাড়ি করার সাধ্য নেই, বাঘে-গরুতে একঘাটে পানি খেতে শুরু করেছে।

১০৮। বাপকা বেটা সেপাইকা ঘোড়া (পৈতৃক বা পারিবারিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ): ক্রিকেটারের ছেলে ক্রিকেটার হয়েছে, একেই বলে বাপকা বেটা সেপাইকা ঘোড়া।

১০৯। বানরের গলায় মুক্তার মালা (অস্থানে মূল্যবান বস্তুর অবস্থান): কী ছেলের কেমন বউ, যেন বানরের গলায় মুক্তার মালা।

১১০। বামন হয়ে চাঁদে হাত (সাধ্যের অতীত আশা করা): গরিবের ছেলে বড় লোকের মেয়ে খুঁজতে যেয়ো না, বামন হয়ে চাঁদে হাত দিতে যাওয়া ঠিক হবে না।

১১১। বারো মাসে তেরো পার্বণ (সর্বদা অনুষ্ঠানের ঘটা): বাঙালি জাতির বারো মাসে তেরো পার্বণের অভাব নেই।

১১২। বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড় (বয়স্কদের চেয়ে ছোটদের গুরুত্ব): এতটুকুন ছেলের কেমন পাকাপাকা কথা, এ তো দেখছি বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়।

১১৩। বাড়া ভাতে ছাই দেয়া (নিশ্চিত সাফল্য হাতছাড়া করে দেয়া): তোমার তো কোনো ক্ষতি করিনি, তবে কেন তুমি আমার বাড়া ভাতে ছাই দিয়েছ?

১১৪। বিয়ে করতে কড়ি ঘর বাঁধতে দড়ি (প্রয়োজনীয় কাজে যথাযথ খরচ): বিনা পয়সায় কোনো কাজ হয়? বিয়ে করতে কড়ি ঘর বাঁধতে দড়ি, এ তো জানা কথা।

১১৫। বুকের মাঝে ঢেকির পাড় (অন্তর্বেদনা): কথাটা শুনেই আমার কেমন যেন বুকের মাঝে ঢেঁকির পাড় পড়তে শুরু করেছে।

১১৬। বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ (বুড়ো বয়সে অপকর্ম করা): অথর্ব বুড়োটার আবার বিয়ের সাধ জেগেছে-একেই বলে বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।

১১৭। বেল পাকলে কাকের কী (আয়ত্ত বহির্ভূত জিনিসের আকর্ষণ না হওয়া): বড়লোকের রাজসূয় যজ্ঞে গরিবের কী আসে যায়-বেল পাকলে কাকের কী?

১১৮। বোঝার ওপর শাকের আঁটি (ঝামেলার ওপর ঝামেলা): নিজের সংসার চলে না - আবার ভাইয়ের ছেলে এসে বোঝার ওপর শাকের আঁটি চেপেছে।

১১৯। বোকার ফসল পোকায় খায় (নির্বোধেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়): দরজা খোলা রেখে শুয়েছ - চোরে তো নেবেই, বোকার ধন পোকায় খায়।

১২০। ভাগের মা গঙ্গা পায় না (ভাগাভাগিতে সুবিধে হয় না/অধিক ভাগের অংশ লাভজনক হয় না): ওইটুকু জমি ভাগ করে কী হবে বল, ভাগের মা গঙ্গা পায় না।

১২১। ভাঙবে তো মচকাবে না (দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তি ক্ষতির ভয়ে ভীত হয় না): বিপদগ্রস্ত হলেও রহিমকে কোনো কিছুতে দমানো যাবে না, ভাঙবে তো মচকাবে না।

১২২। ভাত ছিটালে/ছড়ালে কাকের অভাব হয় না (অর্থ ব্যয় করলে কাজের লোকের আগমন ঘটে): লোকের জন্যে ভাবনা কী? ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয় না।

১২৩। ভাঙা কপাল জোড়া লাগা (দুর্ভাগ্যের শেষ হওয়া): ব্যবসায় একটু উন্নতি করতে পারলে ভাঙা কপাল জোড়া লাগতে পারে।

১২৪। ভিক্ষের চাল কাঁড়া আর আকাঁড়া (এমনিতে পাওয়া জিনিসের গুণাগুণ বিচার চলে না): যা পাও, তাই নিয়ে সন্তুষ্ট হও, ভিক্ষের চাল কাঁড়া আর আকাঁড়া।

১২৫। ভিমরুলের চাকে ঢিল মারা (নির্বুদ্ধিতায় শত্রুদের সজাগ করা): আজকাল সন্ত্রাসীদের কিছু বলা আর ভিমরুলের চাকে ঢিল মারা সমান।

১২৬। মরা হাতি লাখ টাকা (যোগ্যতার মূল্য সর্বাবস্থায়): জমিদারি চলে গেছে বলে তাকে সভাপতি করা যাবে না, এমনটি ভাবা ঠিক নয়, জান না মরা হাতি লাখ টাকা।

১২৭। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা (মর্মান্তিক আঘাতের ওপর আঘাত): বাপটা এমনিতে গরিব, তার ওপর চাকুরে ছেলের মৃত্যুসংবাদে যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা পড়ল।

১২৮। মশা মারতে কামান দাগা (সামান্য কাজের জন্যে বিরাট আয়োজন): সামান্য কাজটি করতে এত লোকের আয়োজন, এ যে দেখছি, মশা মারতে কামান দাগার শামিল।

১২৯। মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন (লক্ষ্য অর্জনে প্রাণপণ চেষ্টা): মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন - এই হোক জীবনের সাধনা।

১৩০। মহাভারত অশুদ্ধ হওয়া (বড় ধরনের ত্রুটি): একদিন না পড়লে, কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে?

১৩১। মাছের মায়ের পুত্রশোক (গুরুতর অপরাধীর মায়া কান্না): দেশের মাল বিদেশে পাচার করে দেশের জন্যে হা - হুতাশ করা মাছের মায়ের পুত্রশোকের শামিল।

১৩২। মার চেয়ে মাসির দরদ (কপট মমতা): মার চেয়ে মাসির দরদ দেখায় যে, তারে বলে ডাইনি।

১৩৩। মাছি মেরে হাত কালো করা (সামান্য লাভের জন্যে অসম্মানের ভাগি হওয়া): সামান্য কটা টাকার জন্যে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে পারব না-মাছি মেরে হাত কালো করে লাভ কী?

১৩৪। মাথা নেই তার মাথাব্যথা (অহেতুক দুর্ভাবনা পোহানো): বিয়ে-শাদি করোনি তো বাড়ির ভাবনা ভাবছো কেন?-মাথা নেই তার আবার মাথাব্যথা।

১৩৫। মারে আল্লাহ্ রাখে কে/রাখে আল্লাহ মারে কে (বিধি প্রসন্ন হলে বিপদ এড়ানো যায়): সড়ক দুর্ঘটনায় সবাই মারা গেল, আমিই শুধু বেঁচে গেলাম, একেই বলে রাখে আল্লাহ্ মারে কে?

১৩৬। মারে ঠাকুর না মারে কুকুর (সবলকে. সমীহ ও দুর্বলের প্রতি নির্মম): বাসায় এসে মাস্তানি করে গেল, মাথায় হাত বুলিয়ে বিদায় করলে, অথচ এখন আমাকে করছ বকাবকি; যাকে বলে মারে ঠাকুর না মারে কুকুর।

১৩৭। মেও/ম্যাও ধরা (তোষামোদ করা): যার তার ম্যাও ধরতে যাও কেন?

১৩৮। মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত (প্রত্যেকের যোগ্যতা সীমাবদ্ধ): রাগ করে যাবে কতদূর? - মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত।

১৩৯। যত হাসি তত কান্না বলে গেছেন রামশন্না/রামশর্মা (অতি সুখে আহ্লাদিত হলে দুঃখে পড়তে হয়): কোনো ব্যাপারে এত উল্লসিত হতে নেই, জান তো যত হাসি তত কান্না বলে গেছেন রামশন্না/রামশর্মা।

১৪০। যত গর্জে তত বর্ষে না (সামর্থ্যের বেশি সম্পাদিত হয় না): তার কোনো কাজের মুরোদ নেই, শুধু বড় বড় কথা- যত গর্জে তত বর্ষে না।

১৪১। যত দোষ নন্দ ঘোষ (দুর্বলের প্রতি সর্বদা দোষারোপ): বাড়িতে যাই ঘটুক - বদনাম হবে কেষ্টার নামে - যত দোষ নন্দ ঘোষ।

১৪২। যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ (শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল ছেড়ে না দেয়া): যতই বাধা আসুক শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব - যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ।

১৪৩। যম-জামাই-ভাগনা, তিন নয় আপনা (রক্তসূত্রে আত্মীয় না হলে আপন হয় না): ওর ওপর নির্ভর করাটা ঠিক হচ্ছে না, জান তো - যম-জামাই-ভাগনা তিন নয় আপনা।

১৪৪। যথা ধর্ম তথা জয় (ন্যায়ের পথেই সাফল্য আসে): অসৎ পথে থেকো না, মনে রেখো যথা ধর্ম তথা জয়।

১৪৫। যদি হয় সুজন তো তেঁতুল পাতায় নজন (সজ্জন প্রতিবেশীর মধ্যে সুসম্পর্ক বিরাজ করে): আমাদের পাড়ায় গোলমাল নেই, সবার মধ্যে ভাল সম্পর্ক, যদি হয় সুজন তো তেঁতুল পাতায় নজন, বুঝলে?

১৪৬। যা রটে তা ঘটে/যা কিছু রটে তা কিছু তো বটে (রটনা একেবারে মিথ্যে হয় না): তোমার কথা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না, কারণ যা কিছু রটে তা কিছু তো বটে।

১৪৭। যার জন্যে করি চুরি সেই বলে চোর (যার জন্যে হীন কাজ-তারি মুখে তিরস্কার): তোমার জন্যেই মিথ্যে সাক্ষ্য দিতে হলো, অথচ তুমিই সব ফাঁস করে দিলে?-ওমা, যার জন্যে করি চুরি সেই বলে চোর!

১৪৮। যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা (অপছন্দের ভালোমন্দ সবই খারাপ): সতিনের ছেলের সব কিছুই সৎমায়ের অপছন্দ- আসলে যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা আর কি!

১৪৯। যার বিয়ে তার হুঁশ নেই-পাড়াপড়শির ঘুম নেই/হারাম (যার কাজ তার বদলে অন্যের ব্যস্ততা): ব্যবসা করবে তুমি আর ছুটাছুটি আমার? যার বিয়ে তার হুঁশ নেই পাড়াপড়শির ঘুম হারাম?

১৫০। যেমন কুকুর তেমন মুগুর (দুষ্টের যথার্থ শাস্তি): ঘা কতক লাগিয়ে দিলে সোজা হয়ে যাবে- যেমন কুকুর তেমন মুগুর।

১৫১। যেমন বুনো ওল তেমনি বাঘা তেঁতুল (অসৎ ব্যক্তির উপযুক্ত শাস্তি): ধুরন্ধর ব্যক্তির সঙ্গে চালাকি করতে গিয়ে ঘা কতক খেয়ে এসেছ, বেশ হয়েছে-যেমন বুনো ওল তেমনি বাঘা তেঁতুল।

১৫২। যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে (নানা ধরনের কাজ নিয়েই জীবন): শুধু পড়াশোনা নিয়ে থাকলে চলবে কী করে, কিছু কাজকর্মও তো দেখতে হবে, যে রাঁধে সে কি আর চুল বাঁধে না?

১৫৩। যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধে হয় (যেখানে অসুবিধে সেখানেই বিপদ ঘটে): বাবার অবসর গ্রহণের মুহূর্তেই চাকরিতে ছাঁটাই হতে হলো-যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধে হয়।

১৫৪। রথ দেখা ও কলা বেচা (একসঙ্গে একাধিক কাজ সমাধা করা): বাজার থেকে ফেরার পথে রোজ ছেলেকে স্কুল থেকে এনে 'রথ দেখা ও কলা বেচা' একসঙ্গে সারি।

১৫৫। সেই রামও নেই সেই অযোদ্ধাও নেই (যুগের অবসানে বা সুখপ্রদ ঘটনার পরে স্মৃতিচারণ): যা জামানা পড়েছে কোনো আশা করে লাভ নেই, সেই রামও নেই সেই অযোধ্যাও নেই।

১৫৬। লঘু পাপে গুরু দণ্ড (অপরাধের তুলনায় অধিক সাজা): পরীক্ষার হলে সামান্য পেছনে তাকানোয় রঞ্জনকে বহিষ্কৃত হতে হলো-যাকে বলে লঘু পাপে গুরু দণ্ড।

১৫৭। লাল ঘরের ভাত খাওয়া (জেলে অবস্থান): পিস্তলহাতে একবার ধরা পড়লে নির্ঘাত লাল ঘরের ভাত খেতে হবে, বুঝলে?

১৫৮। লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন (বেহিসেবি খরচের জোগানদার): তোমাকে টাকার কথা চিন্তা করতে হবে না - লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন, তুমি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যাও।

১৫৯। লেবু কচলালে তেতো আর মাংস কচলালে শিটে (মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে অকালে অব্যবহার্য হওয়া): সহজে আপস মীমাংসা করাই ভালো, কেননা লেবু কচলালে তেতো আর মাংস কচলালে শিটে হয়ে পড়ে।

১৬০। লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু (মাত্রাতিরিক্ত লোভ ক্ষতির কারণ): বেশি লোভ করা ভালো নয়, লোভে পাপ পাপে মৃত্যু জানো তো?

১৬১। শক্তের ভক্ত নরমের যম (শক্তিমানকে ভয় করা ও দুর্বলকে ভয় দেখানো): ছোটো মামাকে নিরীহ পেয়ে তেড়ে এসেছিলে, এখন বড়ো মামাকে দেখে পালাচ্ছ, তোমরা হচ্ছ-শক্তের ভক্ত নরমের যম।

১৬২। শকুনের দোয়ায় গরু মরে না/ধেড়ের আশীর্বাদে বিল শুকোয় না (লোভী বা স্বার্থান্বেষীর আশা সর্বদা পূরণ হয় না): তোমার অভিশাপের আমি তোয়াক্কা করি না-শকুনের দোয়ায় গরু মরে না/ধেড়ের আশীর্বাদে বিল শুকোয় না বুঝেছ?

১৬৩। শাক দিয়ে মাছ ঢাকা (অপরাধ ঢাকার চেষ্টা): তোমার কুকর্ম সবাই জানে- শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা কর না।

১৬৪। শ্যাম রাখি না কুল রাখি (দোটানায় পড়া): বললে মা তিরস্কৃত হন, না বললে বাবা কষ্ট পান-আমার এখন শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা।

১৬৫। শিব গড়তে বাঁদর (ভালো কাজ করতে গিয়ে খারাপ ফল লাভ): ভালো-মন্দ কিছুই বোঝ না-শিব গড়তে গিয়ে তো বাঁদর গড়ে ফেলেছ?

১৬৬। সবুরে মেওয়া ফলে (ধৈর্যের মাধ্যমে সাফল্য লাভ করা যায়): তাড়াহুড়োর দরকার নেই, সবুরে মেওয়া ফলে।

১৬৭। সস্তার তিন অবস্থা (কম দামের জিনিসে নানা রকম খুঁত থাকে): কম দামের ঘড়িটা দু'মাসেই খারাপ হলো- সস্তার তিন অবস্থা।

১৬৮। সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড় (সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ঝামেলা বা অর্থব্যয় বাড়ে): দেরি না করে সময়ের কাজ সময়ে কর, জান তো সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়।

১৬৯। সব শিয়ালের এক রা (সমগোত্রীয়দের একই মনোভাব বা আচরণ): মিথ্যে কথা তো বলবেই, ওরা যে একই দলের, কথায় বলে না সব শিয়ালের এক রা।

১৭০। সাত ঘাটের কানাকড়ি (অকিঞ্চিৎকর সংগ্রহ): গরিব মানুষ! সাত ঘাটের কানাকড়ি যা জোটাতে পেরেছি ওই একমাত্র সম্বল।

১৭১। সাত ঘাটের জল খাওয়া (নাজেহাল হওয়া): বেশি বাড়াবাড়ি করলে সাত ঘাটের জল খাইয়ে ছাড়ব।

১৭২। সাতেও না পাঁচেও না (নিরাসক্ত থাকা): আমি কারো সাতেও নেই পাঁচেও নেই।

১৭৩। সাপও মরে লাঠিও না ভাঙে (নিজের ক্ষতি না করে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কার্যসিদ্ধি): ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যাতে সাপও মরে লাঠিও না ভাঙে।

১৭৪। সুখে থাকতে ভূতে কিলায় (স্বেচ্ছায় কষ্টভোগের দুর্মতি): সুখে থাকতে ভূতে কিলায়-না হলে বড়লোকের ছেলে বাড়িঘর, জমিজমা ফেলে সামান্য বেতনের চাকরি নেবে কেন?

১৭৫। সোনার কাঠি রুপোর কাঠি (মরা বাঁচার উপায়): শিক্ষাই মানব জীবনের একমাত্র সোনার কাঠি রুপোর কাঠি।

১৭৬। হক কথায় খালু বেজার (স্বার্থের ব্যাপারে সজ্জন বা গুরুজন অখুশি): আজকাল হক কথায় খালু বেজার, অথচ মিথ্যের আশ্রয় নিলে কোনো অসুবিধে নেই।

১৭৭। হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী (মূর্খ বা অযোগ্যের মূর্খ বা অযোগ্য সঙ্গী): একজন করেছ পরীক্ষায় ফেল, অন্যজন দিয়েছ লেখাপড়া ছেড়ে, এখন দুজনেই এসেছ বন্ধুত্ব করতে, এ তো দেখছি হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী।

১৭৮। হাটে হাঁড়ি ভাঙা (গোপন বিষয় প্রকাশ্যে ফাঁস করে দেয়া): আমাকে ঘাঁটালে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেব।

১৭৯। হাতেরও খাবে পাতেরও খাবে (সব সুযোগ ভোগের চেষ্টা): হাতেরও খাবে পাতেরও খাবে, তা হতে দেব না।

১৮০। হাতে না মেরে ভাতে মারা (বড় ধরনের ক্ষতি করা): তোমাকে হাতে না মেরে ভাতে মারব, তখনই বুঝতে পারবে কত ধানে কত চাল।

১৮১। হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলা (হেলায় সুযোগ নষ্ট করা): নির্বোধেরাই হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলে থাকে।

প্রবাদ প্রবচনের অর্থব্যঞ্জনা

১৮২। অতি বাড় বেড়ো না ঝড়ে ভেঙে যাবে, অতি খাটো হয়ো না ছাগলে মুড়ে খাবে (অতি গর্ব বা অতি বিনয় উভয়ই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়) -

১৮৩। অদৃষ্টের ফল খন্ডাবে কে বল? (ভাগ্যে যা থাকে তার আর পরিবর্তন হয় না) -

১৮৪। অভাগা যেদিকে চায়, সাগর শুকায়ে যায় (ভাগ্য যার খারাপ, কোনোদিকেই সে আশা দেখতে পায় না) -

১৮৫। অভাবে স্বভাব নষ্ট (অভাবের কবলে পড়ে সৎ লোকও অসৎ হয়ে যায়) -

১৮৬। অল্প পানির পুঁটি মাছ ফরফর করে (যতটুকু যোগ্যতা নেই তার চেয়ে বেশি জাহির করা) -

১৮৭। অসারের তর্জনগর্জন (অক্ষম লোকের হাঁকডাক বেশি) -

১৮৮। আলো ভালো তো জগৎ ভাল (নিজে ভালো হলে জগতের সবাইকে ভালো মনে হয়) -

১৮৯। আটে-পিঠে দড়, তো ঘোড়ার পিঠে চড় (যোগ্যতা অর্জন করেই কাজে নামা উচিত) -

১৯০। আর কি ন্যাড়া বেলতলায় যায়? (একবার খারাপ অভিজ্ঞতা হলে সবসময় তা নিয়ে ভয় থাকে) -

১৯১। আগে দর্শনদারি, পরে গুণবিচারি (লোকে আগে বাইরের চাকচক্য দেখে, তারপর গুণের বিচার করে) -

১৯২। আগে-পাছে লণ্ঠন, কাজের বেলায় ঠণ্ঠন্ (আড়ম্বর ও আয়োজনে বাড়াবাড়ি, কিন্তু কাজে একেবারে ফাঁকি) -

১৯৩। আঙুল ফুলে কলা গাছ (হঠাৎ বড়োলোক হওয়া) -

১৯৪। আঠারো মাসে বছর (দীর্ঘসূত্রতা) -

১৯৫। আতি চোর পাতি চোর, হতে হতে সিঁদেল চোর (ছোটোখাটো অন্যায় কাজ করতে করতে বড়ো ধরনের অপরাধ করতে শেখা) -

১৯৬। ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয় (অপরের ক্ষতি করলে নিজের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে) -

১৯৭। উঠি উঠি করে শুই, উঠতে লাগে দিন দুই (আলস্যে সময় নষ্ট করা) -

১৯৮। উনো ভাতে দুনো বল, ভরা ভাতে রসাতল (অল্প বা পরিমাণমতো আহার স্বাস্থ্যকর) -

১৯৯। উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে (একজনের দোষ অন্যজনের ওপর চাপিয়ে দেয়া) -

২০০। এক ক্ষুরে মাথা কামানো (একই স্বভাবের দোষে দোষী) -

২০১। এক গোয়ালের গরু (একই দল বা মতের লোক) -

২০২। এক ঝাঁকের কই (একই দল বা মতের লোক) -

২০৩। এক হাতে তালি বাজে না (দুই পক্ষ ছাড়া ঝগড়া হয় না) -

২০৪। এরেন্ডাও গাছ, পুঁটিমাছও মাছ (যোগ্য লোক না থাকলে সামান্য লোকও যোগ্যের মর্যাদা পেতে চায়) -

২০৫। কাঁচা বাঁশে ঘুণ ধরা (অল্প বয়সেই স্বভাব নষ্ট হওয়া) -

২০৬। কড়িতে বাঘের দুধ মেলে (টাকায় সব কিছু হয়) -

২০৭। কাকের বাসায় কোকিলের ছা, জাতস্বভাবে করে রা (নিজের স্বভাব বা বৈশিষ্ট্য কেউ সহজেই বদলাতে পারে না) -

২০৮। কুকুরের পেটে ঘি সয় না (স্বভাববিরুদ্ধ হলে ভালো জিনিসও অপকারের কারণ হয়) -

২০৯। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা (শত্রুর সাহায্যে শত্রুকে বিনাশ করা) -

২১০। কান টানলে মাথা আসে (ছোটো কাজের সূত্রে বড় কাজ আয়ত্তে আনা) -

২১১। কিল খেয়ে কিল হজম (লোকলজ্জার ভয়ে নীরবে অপমান সহ্য করা) -

২১২। কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরুনো (তুচ্ছ ব‍্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়ে বড় ধরনের বিপদে পড়া) -

২১৩। খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি (আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি) -

২১৪। খাল কেটে কুমির আনা (বাইরের বিপদ ঘরে টেনে আনা) -

২১৫। খালি কলসির বাজনা বেশি (অসারের তর্জনগর্জন) -

২১৬। খোদার ওপর খোদকারি (দক্ষ লোকের কাজের ওপর অদক্ষ লোকের অনুচিত হস্তক্ষেপ) -

২১৭। গরিবের ঘোড়া রোগ (অক্ষমের অতিরিক্ত প্রত্যাশা) -

২১৮। গরিবের কথা বাসি হলে ফলে (নগণ্য লোকের পরামর্শও কাজে লাগে) -

২১৯। গোড়া কেটে আগায় পানি ঢালা (সর্বনাশ করে কৃত্রিম সহানুভূতি প্রকাশ করা) -

২২০। গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন (অধ্যবসায়ের ফলে দক্ষতা অর্জন) -

২২১। গাছেরও খায়, তলারও কুড়োয় (সব সুযোগ একাই আত্মসাৎ করা) -

২২২। গোদের ওপরে বিষফোঁড়া (কষ্টের ওপর আরো কষ্ট) -

২২৩। ঘরের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলা (কাম্য বস্তুকে অবহেলা করা) -

২২৪। ঘাটে এসে তরী ডোবানো (কাজ সমাপ্তির পূর্বমুহূর্তে সব পণ্ড করা) -

২২৫। ঘুষের টাকা ফুস (অন্যায় পথে উপার্জিত অর্থ সহজেই খরচ হয়ে যায়) -

২২৬। চোখ থাকতে কানা (দেখেও না দেখা) -

২২৭। চোরকে বলে চুরি করতে, গেরস্তকে বলে সজাগ থাকতে (দুই দিক বজায় রাখে এমন অতি চালাকি) -

২২৮। চেরাগের/প্রদীপের নিচে অন্ধকার (ভালো-মন্দ পাশাপাশি অবস্থান করে) -

২২৯। চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে (কাজের সময় উপস্থিত বুদ্ধির অভাব) -

২৩০। চোরের দশ দিন গৃহস্থের এক দিন (অসাধুতা একদিন না একদিন ধরা পড়ে) -

২৩১। চোরে চোরে মাসতুত ভাই (খারাপ লোকের সঙ্গে খারাপ লোকের সম্পর্ক) -

২৩২। চোরের ওপর বাটপাড়ি (প্রতারককে প্রতারণা) -

২৩৩। ছেলের হাতের মোয়া (ফাঁকি দিয়ে সহজে করায়ত্ত করা যায় এমন জিনিস) -

২৩৪। ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা (অসম্ভব কল্পনা) -

২৩৬। জহুরিই জহর চেনে (গুণীই গুণের কদর বোঝেন) -

২৩৫। জলে বাস করে কুমিরের সঙ্গে বিবাদ (কর্মস্থলে ক্ষমতাবানের বিপক্ষে যাওয়া অশুভ হয়) -

২৩৭। জাতে মাতাল তালে ঠিক (স্বার্থসচেতন) -

২৩৮। জুতো সেলাই থেকে চণ্ডী পাঠ (সব রকম কাজে পটুতা) -

২৩৯। জোঁকের মুখে নুনের ছিটা (দুষ্টুলোকের উপযুক্ত মোকাবেলা) -

২৪০। ঝাঁকের কই ঝাঁকে মেশা (দলছুটের পুনরায় দলে প্রত্যাবর্তন) -

২৪১। ঠেলার নাম বাবাজি (বাধ্য হয়ে নতি স্বীকার করা) -

২৪২। ঢাকঢাক-গুড়গুড় (প্রকৃত অবস্থা গোপন করার চেষ্টা) -

২৪৩। ঠেকে দেখে আর দেখে শেখে (মূর্খ কষ্ট পেয়ে শেখে, বুদ্ধিমান অন্যের অভিজ্ঞতার ফল দেখে শেখে) -

২৪৪। ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয় (কারো ক্ষতি করার চিন্তা করলে নিজের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে) -

২৪৫। তেলে জলে মিশ খায় না (অসমপ্রকৃতি লোকের মধ্যে মিল হয় না) -

২৪৬। তপ্ত ভাতে নুন জোটে না, পান্তা ভাতে ঘি (যার নিত্যনৈমিত্তিক প্রয়োজন মেটানোর সামর্থ্য নেই তার বিলাসিতার প্রশ্নই ওঠে না) -

২৪৭। দশে মিলি করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ (সবাই মিলেমিশে কাজ করলে লাভ-ক্ষতি মুখ্য হয় না) -

২৪৮। দু নৌকায় পা দেওয়া (দু দিক রক্ষা করার বিপজ্জনক চেষ্টা) -

২৪৯। দুধ-কলা দিয়ে কালসাপ পোষা (না জেনে মারাত্মক শত্রুকে লালন) -

২৫০। ধারেও কাটে ভারেও কাটে (স্বাভাবিক ক্ষমতা ও প্রভাবপ্রতিপত্তি- দুইয়ের যে-কোনোটির সাহায্যে কাজ উদ্ধার) -

২৫১। ধন, জন, যৌবন, জোয়ারের জল কতক্ষণ (অর্থ, আত্মীয় ও যৌবন জোয়ারের পানির মতোই ক্ষণস্থায়ী) -

২৫২। নানা মুনির নানা মত (ঐকমত্যের অভাব) -

২৫৩। নাকের বদলে নরুন (মারাত্মক ক্ষতির বদলে তুচ্ছ ক্ষতিপূরণ) -

২৫৪। নুন খাই যার গুণ গাই তার (উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার) -

২৫৫। নিজের কোলে ঝোল টানা (স্বার্থসিদ্ধির ব্যবস্থা) -

২৫৬। নিজের চরকায় তেল দেওয়া (নিজের কাজে মনোযোগী হওয়া) -

২৫৭। নিজের ঢাক নিজে পেটানো (নিজেই নিজের গুণগান করা) -

২৫৮। নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা (নিজেই নিজের অনিষ্ট করা) -

২৫৯। পরের ধনে পোদ্দারি (অন্যের অর্থ খরচ করে বড়োলোকি দেখানো) -

২৬০। পাপের ধন প্রায়শ্চিত্তে যায় (অসৎ পথে উপার্জিত অর্থ অকাজেই খরচ হয়) -

২৬১। পিপীলিকার পাখা ওঠে মরিবার তরে (ধ্বংসের আগে অনেকের বাহ্য উন্নতি দেখা যায়) -

২৬২। পেটে খিদে মুখে লাজ (ভেতরের ইচ্ছা লজ্জাবশত প্রকাশ করতে না পারা) -

২৬৩। পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙা (পরের ক্ষতি করে নিজের কাজ হাসিল করা) -

২৬৪। বিড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়া (হঠাৎ অপ্রত্যাশিত সৌভাগ্য লাভ) -

২৬৫। বেল পাকলে কাকের কী (যে সুখ ভোগ করা যায় না তার জন্যে আপসোস) -

২৬৬। বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান, এবারে তোমার ঘুঘু বধিব পরান (বদমাশিতে বারবার সফল হলেও শেষ পর্যন্ত শাস্তি পেতে হয়) -

২৬৭। বোঝার ওপর শাকের আঁটি (গুরুভারের ওপর হালকা বাড়তি ওজন) -

২৬৮। বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ (বুড়ো বয়সে ফুর্তিবাজ যুবকের মতো আচরণ) -

২৬৯। বোবার শত্রু নেই (যে প্রতিবাদ করে না তার সঙ্গে বিবাদ হয় না) -

২৭০। ব্যাঙের আবার সর্দি (অবিশ্বাস্য ব্যাপার) -

২৭১। ভূতের মুখে রাম নাম (অসম্ভব ব্যাপার) -

২৭২। ভাই ভাই ঠাঁই ঠাঁই (নিকট-আত্মীয়দের মধ্যে নিত্য কোন্দল) -

২৭৩। ভাঙা কপাল জোড়া লাগে না (সৌভাগ্য নষ্ট হলে আর পাওয়া যায় না) -

২৭৪। মধু থাকলেই মৌমাছি (টাকা থাকলে মোসাহেবরা চারপাশে ঘুরঘুর করে) -

২৭৫। মরা হাতি লাখ টাকা (প্রকৃত গুণিজন দুর্দশায় পড়লেও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে) -

২৭৬। মাছের তেলে মাছ ভাজা (কাজের লাভ থেকে কাজের খরচ পুষিয়ে নেয়া) -

২৭৭। মেঘ না চাইতে জল (অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি) -

২৭৮। যতনে রতন মেলে (পরিশ্রমে সাফল্য আসে) -

২৭৯। যে কথা সেই কাজ (কথার সঙ্গে কাজের সঙ্গতি) -

২৮০। যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ (কোনো পদে নিযুক্ত হলে সেই পদসুলভ আচরণ) -

২৮১। যখন যেমন তখন তেমন (সব রকম অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার ক্ষমতা) -

২৮২। যত হাসি তত কান্না, বলে গেছে রামশর্মা (হাসিকান্না মিলিয়েই জীবন) -

২৮৩। যার জন্যে চুরি করি সেই বলে চোর (উপকার করে নিন্দার ভাগিদার হওয়া) -

২৮৪। যার জ্বালা সেই জানে (ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কেউ যন্ত্রণার স্বরূপ বুঝতে পারে না) -

২৮৫। যে সহে সে রহে (সহনশীল লোক শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়) -

২৮৬। যেমন কুকুর তেমন মুগুর (দুর্বৃত্তকে শাসনের উপযুক্ত ব্যবস্থা) -

২৮৭। রতনে রতন চেনে (গুণীই গুণীর কদর বোঝে) -

২৮৮। রাখে হরি মারে কে? (সৌভাগ্যবান হলে মৃত্যুর হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়) -

২৮৯। লাভের অঙ্ক শূন্য (নিষ্ফল পরিশ্রম) -

২৯০। ললাটের লিখন না যায় খণ্ডন (ভাগ্যে যা আছে তা ঘটবেই) -

২৯১। লোম বাছতে কম্বল উজাড় (সকলেই এক দলের) -

২৯২। শিকারি বেড়ালের গোঁফ দেখলে চেনা যায় (ভাবভঙ্গি দেখেই কাজের লোক চেনা যায়) -

২৯৩। শুধু কথায় চিড়ে ভিজে না (শুধু মধুর বাক্যে কাজ উদ্ধার হয় না) -

২৯৪। শকুনের চোখ ভাগাড়ের দিকে (নীচ লোকের নজর নীচ স্বার্থের দিকে থাকে) -

২৯৫। শক্তের ভক্ত নরমের যম (শক্তিমানকে ভয় কিন্তু দুর্বলের ওপর অত্যাচার) -

২৯৬। শূন্য কলসি ঠঠন (বিদ্যাহীন লোকের বাকচাতুরী বেশি) -

২৯৭। সাপের পাঁচ পা দেখা (অহঙ্কারে অসম্ভবকে সম্ভব মনে করা) -

২৯৮। সাবধানের মার নেই (সবসময় সতর্ক থাকলে বিপদ এড়িয়ে চলা যায়) -

২৯৯। সর্বাঙ্গে ব্যথা ওষুধ দেব কোথা (সর্বত্র গলদ থাকলে তা দূর করা যায় না) -

৩০০। সবুরে মেওয়া ফলে (ধৈর্যে সফলতা আসে) -

৩০১। সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড় (সময়ের কাজ সময়ে না করলে ভোগান্তি বাড়ে) -

৩০২। সাপও মরে লাঠিও না ভাঙে (কৌশল ও নিরাপদে কার্য উদ্ধার) -

৩০৩। সোজা আঙুলে ঘি ওঠে না (জটিল কাজ সম্পাদনে কূটকৌশলের প্রয়োজন হয়) -

৩০৪। হাতি কাদায় পড়লে চামচিকায়ও লাথি মারে (বিপদে পড়লে শক্তিশালী লোককেও গঞ্জনা সইতে হয়) -

৩০৫। হাতি ঘোড়া গেল তল, ভেড়া বলে কত জল (অক্ষমের অনর্থক আস্ফালন) -