বিসিএস লিখিত পরীক্ষার বিগত বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচন সংকলন


লিখিত বিগত বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচন প্রশ্ন

১০ তম বিসিএস

মাছের মার কান্না (মমতাহীন কান্না): কালোবাজারের কল্যাণে লাখ লাখ টাকা কামিয়েছ, গেলই বা কয়েক'শ টাকা, তাতে কী আসবে যাবে, মাছের মার আবার কান্না।

কান পাতলা (যে সব কথাই বিশ্বাস করে): তোমার মতো কান পাতলা লোক জীবনে উন্নতি করতে পারবে না।

কলির সন্ধ্যা (কষ্টের সূচনা): বন্যা এসে গেছে, জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, আরও যে কত বাড়বে তার ইয়ত্তা নেই, সবে তো কলির সন্ধ্যা।

লম্বা দেওয়া (চম্পট দেওয়া): গতরাতে রেডিওটা নিয়ে চাকর ছেলেটা লম্বা দিয়েছে।

সোনায় সোহাগা (সুন্দর মিলন): যেমন বর তেমন কনে, এ যেন সোনায় সোহাগা।

মিছরির ছুরি (মিষ্টি কথায় তীক্ষ্ণ আঘাত): তার কথাগুলো মিছরির ছুরির মতো বুকে বিঁধে।

মাকাল ফল (আন্তঃসারশূন্য লোক): পোশাকে পরিপাটি হলেও আসলে লোকটি একটি মাকাল ফল।

জিলাপির প্যাঁচ (কূটবুদ্ধি): যার পেটে এত জিলাপির প্যাঁচ, তাকে সব কথা বলা তোমার উচিত হয়নি।

তীর্থের কাক (অধির আগ্রহে প্রতীক্ষা): ভিখারিনীটি একটা শাড়ির আশায় সেই সকাল থেকে তীর্থের কাকের মতো বসে আছে।

তুলকালাম (বিরাট ব্যাপার): দুই পড়শির মধ্যে সামান্য ঘটনা থেকে কী তুলকালাম কাণ্ডই না ঘটে গেল।

 

১১ তম বিসিএস

দুধের মাছি (সুসময়ের বন্ধু): সুদিনে দুধের মাছির অভাব হয় না।

ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ (অপরিমিত অপব্যয়): পরের টাকায় ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ অনেকেই করে।

গোকূলের ষাঁড় (স্বেচ্ছাচারী): ডাক্তার বাবুর ছেলে গোকূলের ষাঁড়ের মতো ঘুরে বেড়ায়।

পাকা ধানে মই (বিপুল ক্ষতি করা): আমি কী তোমার বাড়া ভাতে ছাই দিয়েছিলাম যে, তুমি আমার পাকা ধানে মই দিলে?

ব্যাঙের আধুলি (অতি সামান্য ধন): তোমার এ ব্যাঙের আধুলিতে আমার কোন উপকার হবে না।

মান্ধাতার আমল (পুরনো আমল): তোমার সেই মান্ধাতার আমলের কলম নিয়ে আমি কলেজে যেতে পারব না।

দূর্বা গজানো (অত্যন্ত অলস): ছেলেটিকে কোনো কাজ করতে না দিয়ে হাড়ে দূর্বা গজানোর ব্যবস্থা করেছ।

সাপে নেউলে (শত্রু ভাব): নিজেদের মধ্যে সাপে নেউলে সম্পর্ক থাকলে শত্রুরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে।

রাবণের চিতা (চির অশান্তি): প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকতেই দ্বিতীয় বিয়ে করে সেলিমের সংসারে এখন রাবণের চিতা জ্বলছে।

মাকাল ফল (অন্তঃসারশূন্য): পোশাকে পরিপাটি হলেও আসলে লোকটি একটি মাকাল ফল।

 

১৩ তম বিসিএস

ক অক্ষর গোমাংস (বর্ণপরিচয়হীন): ছেলেটির বিদ্যা তো ক অক্ষর গোমাংস, তাকে নিয়ে এত অহংকারের কী আছে?

গণপিটুনি (প্রচণ্ড মার): গণপিটুনিতে কথিত চোরটা অক্কা পেল।

গোঁফখেজুরে (অত্যন্ত অলস): এমন গোঁফখেজুরে হলে জীবনে উন্নতি করা যায় না।

পর্বতের মূষিক প্রসব (বেশি প্রত্যাশায় সামান্য প্রাপ্তি): নির্বাচনি ওয়াদার প্রেক্ষিতে সরকার কর্তৃক সামান্য বেতন বৃদ্ধি যেন পর্বতের মূষিক প্রসব।

শিরে সংক্রান্তি (আসন্ন বিপদ): কাল আমাদের অনুষ্ঠান, এখন আমার শিরে সংক্রান্তি, তুমি এলে টাকা চাইতে।

চাঁদের হাট (আনন্দ সমাবেশ): বিয়ে বাড়িতে সব আত্মীয়ই এসেছে, যেন চাঁদের হাট বসেছে।

বিদুরের খুদ (শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সামান্য দান): দয়া করে বিদুরের খুদ গ্রহণ করে ধন্য করুন। কি ফেলনাকানার

একাদশে বৃহস্পতি (সুসময়): মুকুলের এখন একাদশে বৃহস্পতি, বন্ধুবান্ধবের যেন অভাব নেই।

 

১৫ তম বিসিএস

আলালের ঘরের দুলাল (আদুরে ছেলে): আদর দিয়ে ছেলেকে আলালের ঘরের দুলাল করে তুললে তার সর্বনাশই করা হয়।

উলুবনে মুক্তা ছড়ানো (অপাত্রে জ্ঞান দেওয়া): তোমার মতো নির্বোধকে উপদেশ দেওয়া আর উলুবনে মুক্তা ছড়ানো এক কথা।

গড্ডলিকা প্রবাহ (অন্ধ অনুকরণ): গড্ডলিকা প্রবাহে ভেসে চললে জীবনে উন্নতির কোনো আশা নেই।

গোড়ায় গলদ (শুরুতেই ভুল): ওহে, তোমার দিন তো খারাপ, তা নইলে কি গোড়ায় গলদ হয়?

উভয়-সংকট (দুই দিকে বিপদ): অফিসার সাহেবের কথা রক্ষা করলেই সত্যের খেলাপ হয় আর না করলে চাকরি রাখা কঠিন, আমার হয়েছে উভয় সংকট।

কড়ায়-গণ্ডায় (পুরাপুরি): আমার পাওনা আমি কড়ায় গণ্ডায় মিটিয়ে নেব।

আদা-জল খেয়ে লাগা (কোমর বেঁধে লাগা): আনোয়ার গতবার পরীক্ষায় ভালো করেনি তাই এবার আদা জল খেয়ে পড়তে লেগেছে।

আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ): আমড়া কাঠের ঢেঁকি কে ভোট দিলে এলাকার উন্নয়ন হবে কী করে?

 

১৭ তম বিসিএস

অহি-নকুল (চরম শত্রুতা): ভাইয়ে ভাইয়ে এরূপ অহি-নকুল সম্পর্ক আমি কখনও দেখিনি।

আকাশ কুসুম (অবাস্তব কল্পনা): বসে বসে আকাশ কুসুম ভেবে লাভ নেই, কাজ করো।

টনক নড়া (সচেতন হওয়া): সারা বছর খালেদ পড়াশোনা করেনি, ফেল করে টনক নড়েছে।

মগের মুল্লুক (অরাজক অবস্থা): একি মগের মুল্লুক পেয়েছ যে তোমার কথায় সবাইকে চলতে হবে।

জিলাপির প্যাঁচ (দুষ্ট বুদ্ধি): তোমার মধ্যে যে এত জিলাপির প্যাঁচ তা আমি জানতাম না।

ডামাডোল (গোলযোগ): যুদ্ধের ডামাডোলে সবাই কিছু না কিছু হারিয়েছে।

ঘোড়া রোগ (সাধ্যের অতিরিক্ত ব্যয় করা): রোজ ভাত জুটে না আবার সিনেমা দেখা, গরিবের যেন ঘোড়া রোগ।

কাষ্ঠ হাসি (কপট হাসি): ভদ্রতার খাতিরে বাদী কাষ্ঠ হাসি হেসে বিবাদীকে নমস্কার করল।

 

১৮ তম বিসিএস

লেজে গোবরে (বিশৃঙ্খলা): সেলিম সামান্য একটা কাজ করতে এক ঘণ্টা সময় নিয়েও শেষপর্যন্ত লেজে গোবরে করে ফেলল।

রাখঢাক (গোপন করা): সত্যকে রাখঢাক করে লাভ নেই, তা একদিন প্রকাশ পাবেই।

গা ছাড়া ভাব (গুরুত্ব না দেওয়া): তোমার সব কিছুতেই যেন একটা গা ছাড়া ভাব, কোন বিষয়ই গুরুত্বসহকারে দেখো না।

ঘাটের মড়া (অতিবৃদ্ধ): ঘাটের মড়া স্বামীকে নিয়ে মহিলাটি খুব বিপদে আছে।

পেট পাতলা (গোপনীয়তা রক্ষা করতে না পারা): পেট পাতলা লোকের কাছে গোপন কথা বলা উচিত নয়।

আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অকর্মণ্য): আসলে তুই একটা আমড়া কাঠের ঢেঁকি, কোনো কিছুই ভালো করে বুঝিস না।

কান পাতলা (সহজেই অন্যের কথায় বিশ্বাস করা): তোমার মতো কান পাতলা লোক খুব কমই চোখে পড়েছে।

 

২০ তম বিসিএস

আকাশ কুসুম (অলীক কল্পনা): বসে বসে আকাশ কুসুম চিন্তা করে লাভ নেই, কাজ করো।

অরণ্যে রোদন (নিষ্ফল আবেদন): মতিন সাহেবের নিকট এ বিষয়ে তোষামোদ করা আর অরণ্যে রোদন একই কথা।

আক্কেল সেলামী (বোকামির শাস্তি): বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ করতে গিয়ে ধরা পড়ে তার পঁচিশ টাকা আক্কেল সেলামী দিতে হলো।

খয়ের খাঁ (চাটুকারী): মীর জাফর ইংরেজদের খয়ের খাঁ গিরি করেও নবাবী টেকাতে পারেনি।

দহরম মহরম (মাখামাখি): দুজনের মধ্যে খুব দহরম মহরম দেখছি, শেষপর্যন্ত তা টিকবে তো?

কই মাছের প্রাণ (অত্যন্ত কষ্টসহিষ্ণু): প্রচণ্ড দারিদ্র্যের মধ্যেও তারা কোন রকমে বেঁচে আছে, এ দেখছি কই মাছের প্রাণ।

রাঘব বোয়াল (পদস্থ): সরকারি চাকুরেদের মধ্যে যারা রাঘব বোয়াল তারাই আজ বাড়ি-গাড়ির মালিক।

কান কাটা (সম্মান যাওয়া): ব্যাংক ডাকাতিতে ছেলে ধরা পড়ায় চেয়ারম্যান সাহেবের কান কাটা গেল।

পায়াভারী (অহংকারী): পায়াভারী স্বভাব পতন ডেকে আনে।

 

২১ তম বিসিএস

অকাল কুষ্মাণ্ড (অপদার্থ): অকাল কুষ্মাণ্ড লোকের কাছে উপকার আশা করা বৃথা।

শিরে সংক্রান্তি (আসন্ন বিপদ বা সমূহ বিপদ): আমার এখন শিরে সংক্রান্তি, রসিকতা ভালো লাগছে না।

আলালের ঘরের দুলাল (অতি আদরের অকর্মা সন্তান): আমরা তো আর আলালের ঘরের দুলাল নই যে পড়াশুনা না করে নবাবী কায়দায় চলতে পারব।

ইঁচড়ে পাকা (অকালপক্ব): ইঁচড়ে পাকা ছেলেদের কথা শুনলে আক্কেল গুড়ুম হয়ে যায়।

কপাল ফেরা (সৌভাগ্য লাভ হওয়া): লটারির পুরস্কার পেয়ে বাবরের কপাল ফিরেছে।

গুড়ে বালি (আশায় নৈরাশ্য): আশা করেছিলাম লটারির পুরস্কার পাব, কিন্তু টিকেট হারিয়ে এখন সে গুড়ে বালি।

কাঠের পুতুল (জড় পদার্থ): কাঠের পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে না থেকে কাজে নেমে পড়ো।

রাবণের চিতা (চির অশান্তি): প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকতেই দ্বিতীয় বিয়ে করে সেলিমের সংসারে এখন রাবণের চিতা জ্বলছে।

গোবর গণেশ (নিরেট মূর্খ): গোবর গণেশ লোককে দিয়ে কোনো কর্ম সাধন করা যায় না। ১২ঙ্গক্সায় ভক টাউ

অমাবস্যার চাঁদ (দুর্লভ বস্তু): কী ব্যাপার! তোমাকে দেখাই যায় না, একেবারে অমাবস্যার চাঁদ হয়ে গেলে যে।

 

২২ তম বিসিএস

কানাকড়ির সম্পর্ক (তুচ্ছ সম্পর্ক): ছেলেটি আমার আত্মীয় হলেও তার সাথে আমার কানাকড়ির সম্পর্কও নেই।

চোখের চামড়া (লজ্জা): অকৃতজ্ঞ লোকের কখনো চোখের চামড়া থাকে না, তারা যে কোন কাজ করতে পারে।

পায়াভারী (অহংকারী): পায়াভারী স্বভাব ছাড়ো, জানো না অহংকার পতনের মূল।

ব্যাঙের সর্দি (অসম্ভব ব্যাপার): জেলেকে দেখাও ঠাণ্ডা লাগার ভয় ব্যাঙের আবার সর্দি।

ষোলআনা (পুরাপুরি): তিনি তার স্বার্থ ষোলআনা উদ্ধার করে নিয়েছেন, এখন বিদায় হতে পারলে বাঁচেন।

কানপাতলা (যে সব কথাই বিশ্বাস করে): তোমার মতো কানপাতলা লোক খুব কমই দেখছি।

ঘোড়া রোগ (বিলাসিতা): দিনে দুবেলা ভাত জুটে না, অথচ গাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখে, গরিবের আবার ঘোড়া রোগ?

তালকানা (কাণ্ডজ্ঞানহীন): তালকানা লোক শুধু অন্ন ধ্বংস করতে পারে, তাকে দিয়ে কোনো ভালো কাজ আশা করা যায় না।

 

২৩ তম বিসিএস

অন্ধের যষ্টি (একমাত্র অবলম্বন): অন্ধের ষষ্টি দুঃখিনী মায়ের এই ছেলেটিই।

অরণ্যে রোদন (নিষ্ফল আবেদন): চৌধুরী সাহেবের নিকট সাহায্য চেয়ে তোষামোদ করা আর অরণ্যে রোদন একই কথা।

আষাঢ়ে গল্প (অবিশ্বাস্য কাহিনি): রাজিব আষাঢ়ে গল্প বলতে ওস্তাদ, তার সব কথা বিশ্বাস করতে নেই।

এলাহি কাণ্ড (বিরাট ব্যাপার): মতিন সাহেবের মেয়ের বিয়েতে যেন এলাহি কাণ্ড শুরু হয়েছে।

ভেজা বিড়াল (নিরীহ কিন্তু কূটবুদ্ধিসম্পন্ন): ভেজা বিড়াল লোকেরা যেকোনো সময় সর্বনাশ করতে পারে।

মগের মুল্লুক (অরাজকতা): তুমি কি মগের মুল্লুক পেয়েছ যে এককাপ চায়ের দাম বিশ টাকা?

মণিহারা ফণী (প্রিয় বস্তু হারানো অস্থির ব্যক্তি): ওসি সাহেব সদ্য চাকরিচ্যুত হয়েছেন, এখন আর তাকে কেউ ভয় পায় না, এ যেন মনিহারা ফণি।

শাপে বর (অকল্যাণ হতে কল্যাণ): কলেজের চাকরি না হয়ে আমার শাপে বর হয়েছে, কলেজটা শেষপর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেল।

সবেধন নীলমণি (একমাত্র অবলম্বন): বিধবার সবেধন নীলমণি ছেলেটি গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে।

 

২৪ তম বিসিএস

কড়ায়-গণ্ডায় (পুরাপুরি): আমার ভাগ আমি কড়ায়-গণ্ডায় চাই, নইলে তোমার বিপদ আছে।

আড়ি পাতা (গোপনে শোনা): টেলিফোনে আড়ি পাতা সংক্রান্ত বিলটি সংসদে পাস হয়েছে।

আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ): তোমার মতো আমড়া কাঠের ঢেঁকি দিয়ে কোনো কাজ হবে না।

কাঠের পুতুল (জড় পদার্থ): বিপদের সময় সাহায্য না করলে তোমার মতো কাঠের পুতুল আমার প্রয়োজন নেই।

উড়নচণ্ডী (অমিতব্যয়ী): বাবা ছিল কৃপণ অথচ তার একমাত্র ছেলে হয়েছে উড়নচণ্ডী।

গুঁড়ে বালি (আশায়-নৈরাশ্য): ভেবেছিলাম, তুমি বিপদে আমাকে সাহায্য করবে, এখন দেখছি সে আশায় গুঁড়ে বালি।

ইতরবিশেষ (পার্থক্য): ইসলাম ধর্মে ধনী-দরিদ্রে কোনো ইতরবিশেষ নেই।

জিলাপির প্যাঁচ (কূটবুদ্ধি): খুব বেশি জিলাপির প্যাঁচ খাটিয়ো না, ভবিষ্যতে পস্তাতে হবে।

 

২৫ তম বিসিএস

আঠারো মাসে বছর (দীর্ঘসূত্রতা): তোমাকে দিয়ে এ কাজ হবে না, তোমার তো আঠারো মাসে বছর।

কালনেমির লঙ্কাভাগ (দুর্লভ বস্তু লাভের আগে তা উপভোগ করার অলীক কল্পনা): এখনও এসএসসি পাসই করোনি, তাতেই ভবিষ্যতে সচিব হবার স্বপ্ন দেখছ, এ যে কালনেমির লঙ্কাভাগ।

ঘর জাত করা (অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করা): আগে নিজের ঘর জাত করো তারপর অন্যের বিষয়ে নাক গলাবে।

ঘাট মানা (দোষ বা ত্রুটি স্বীকার করা): ঘাট মানছি, এমন কাজ আর কখনো করব না।

চড় মেরে গড় (অপমানের পর সম্মান প্রদর্শন): সবার সামনে যাচ্ছেতাই বলে এখন আসছ মাফ চাইতে, তোমার চড় মেরে গড়ের ভণ্ডামি আমি বুঝি না ভেবেছ?

শিয়ালের ডাক (অশুভ লক্ষণ): এমনিতে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি, তার ওপর জঙ্গিবাদ, এ যে শিয়ালের ডাক।

হাড়-হদ্দ (ভালোভাবে জানা): আমি তার হাড়-হদ্দ চিনি, সে একটা বকধার্মিক।

অতি আশা বাঘের বাসা (অতিরিক্ত কোনোকিছুই ভালো না): বিসিএস-এ চাকরি হবে, এ ভরসায় অন্যকোনো চাকরিতে যোগ দিলে না, এ হচ্ছে অতি আশা বাঘের বাসা।

পেট গরম (খাবারে অরুচি হওয়া): এখন পেট গরম আছে, আর কিছুই খাওয়া সম্ভব না।

ছ আঙুলের আঙুল (অতিরিক্ত): ঘরজামাই থাকা মানে ছ আঙুলের আঙুল হয়ে বেঁচে থাকা।

 

২৭ তম বিসিএস

অকাল বোধন (অসময়ে আবির্ভাব): শীতকালেও বাজারে আম পাওয়া যায়, এ যেন অকাল বোধন।

ঈদের চাঁদ (কাঙ্ক্ষিত বস্তু): প্রবাসী ছেলেকে কাছে পেয়ে বৃদ্ধ মা যেন ঈদের চাঁদ হাতে পেলেন।

পাথরের পাঁচ কিল (অদৃষ্ট সুপ্রসন্ন): রফিক হঠাৎ চাকরি পেল। এখন তার পাথরের পাঁচ কিল।

আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ): আমড়া কাঠের ঢেঁকিরা দেশের বোঝা, তাদের মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল (প্রাপ্তির পূর্বেই ভোগের আয়োজন): আজাদ ডিভি লটারি পেলে গ্রামসুদ্ধ দাওয়াত করে খাওয়াবে বলে ঘোষণা দিয়েছে এ যেন গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।

চশমখোর (চক্ষুলজ্জাহীন): তোমার মতো চশমখোর ব্যক্তিই পারে এতিমের টাকা মেরে খেতে।

হাড়ে বাতাস লাগা (স্বস্তিবোধ করা): কুখ্যাত সন্ত্রাসী কালু মিয়া র‍্যাবের ক্রসফায়ারে মারা যাওয়ায় এলাকাবাসীর হাড়ে বাতাস লেগেছে।

রগচটা (বদমেজাজী): অফিসে বসের রগচটা স্বভাব কেউ পছন্দ করে না।

সোনার পাথর বাটি (অসম্ভব বস্তু): স্বপ্নে সোনার পাথর বাটির খোঁজ না করে কাজে নেমে পড় সাফল্য আসবে।

ছেঁড়া চুলে খোঁপা বাঁধা (বৃথা চেষ্টা): দুই নেত্রীকে সংলাপে বসানোর চেষ্টা মানে হলো ছেঁড়া চুলে খোঁপা বাঁধার চেষ্টা করা।

 

২৮ তম বিসিএস

যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ (ক্ষমতার জোরে মানুষের স্বভাব বদলায়): রাজনীতির মঞ্চে উঠলেই বোঝা যায়, যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ, আসলে ক্ষমতা মানুষকে বদলে দেয়।

 

২৯ তম বিসিএস

মাছের মায়ের পুত্রশোক (অবিশ্বাস্য হাহাকার): তোমার মুখে দেশপ্রেমের কথা! এ যে মাছের মায়ের পুত্রশোক।

 

৩০ তম বিসিএস

অতি দর্পে হত লঙ্কা (অহংকারে পতন অবশ্যম্ভাবী): তাঁর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই শেষমেশ তাঁকে ডুবিয়েছে, কথায় বলে অতি দর্পে হত লঙ্কা।

 

৩১ তম বিসিএস

যে সহে সে রহে (বিপদে ধৈর্য ধারণ বিফলে যায় না): শত সমস্যার মুখোমুখি হয়েও সে হাল ছাড়েনি, এইজন্যেই লোকে বলে যে সহে সে রহে।

 

৩২ তম বিসিএস

সে কহে বিস্তর মিছা, যে কহে বিস্তর (মিথ্যাবাদিরা বেশি কথা বলে): যে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কথা বলে, তার কথায় বিশ্বাস রাখা যায় না, কারণ সে কহে বিস্তর মিছা, যে কহে বিস্তর।

 

৩৩ তম বিসিএস

পুষ্প আপনার জন্যে ফোটে না (আত্মোৎসর্গেই ব্যক্তিজীবনের সার্থকতা): জীবনের সত্যিকারের সৌন্দর্য তখনই ধরা দেয়, যখন আমরা নিজেকে অন্যের সেবায় উৎসর্গ করি, কারণ পুষ্প আপনার জন্যে ফোটে না।

 

৩৪ তম বিসিএস

আগে-পিছে লন্ঠন, কাজের বেলা ঠনঠন (আয়োজনে বাড়াবাড়ি, কিন্তু কাজে একেবারে ফাঁকি): দশমিনিট পড়ার জন্য চা-কফি সব নিয়ে বসেছে, একেই বলে আগে-পিছে লণ্ঠন, কাজের বেলায় ঠনঠন।

টনক নড়া (সচেতন/সজাগ হওয়া): এলাকাবাসীর শত আবেদন সত্ত্বেও এবড়ো থেবড়ো রাস্তাটি মেরামত হয়নি। মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে।

ডামাডোল (গোলযোগ): এসব ডামাডোলের মধ্যে তোমার না যাওয়াই ভালো।

কাষ্ঠহাসি (কপট/কৃত্রিম হাসি): চতুর মানুষগুলো নিজেদের কাজ হাসিল করার জন্য কাষ্ঠ হাসি দিয়ে থাকে।

গোড়ায় গলদ (শুরুতেই ভুল): তুমি সফল হবে কীভাবে! তোমার যে গোড়ায় গলদ।

লেফাফা দুরস্ত (বাইরে পরিপাটি): শুধু লেফাফা দুরস্ত হয়ে থাকলে কি কাজ সমাধা হবে?

লেজে গোবরে (বিশৃঙ্খলা): দরিদ্রদের মাঝে শীত-বস্ত্র বিতরণ করতে গিয়ে মন্ত্রী মহোদয়ের লেজে গোবরে অবস্থা।

 

৩৫ তম বিসিএস

হরি ঘোষের গোয়াল (বহু বেকার লোকের আড্ডা): এই দোকানে এত ভিড় যে, মনে হয় হরি ঘোষের গোয়াল।

ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে (নিজের অবশ্যম্ভাবী বিপদ সম্বন্ধে অজ্ঞানতা): সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না বলে বৃদ্ধকে দেখে যেসব যুবক মশকরা করে তারা বোঝে না একদিন তারাও বৃদ্ধ হবে, আসলে ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে – এই সাধারণ কথাটা তারা ভুলে যায়।

চিত্রগুপ্তের খাতা (স্বচ্ছ ও নির্ভুল হিসাব): লোকটি এত কষ্ট পাচ্ছে, কারণ সে জীবনে অনেক খারাপ কাজ করেছে, এ তো চিত্রগুপ্তের খাতার ফল।

ওঝার ব্যাটা বনগরু (জ্ঞানী লোকের মূর্খ সন্তান): এত ভালো বংশের ছেলে, অথচ এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন! একেই বলে ওঝার ব্যাটা বনগরু।

শিখণ্ডী খাড়া করা (আড়ালে থেকে অন্যায় কাজ করা): লোকটা সবসময় অন্যদের শিখণ্ডী খাড়া করে নিজের ফায়দা লোটে।

থোর বড়ি খাড়া খাড়া বড়ি থোর (একঘেয়েমির চূড়ান্ত): প্রতিটি মিটিং-এই তারা একই কথা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বলছে, পুরো ব্যাপারটাই থোর বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোর।

 

৩৬ তম বিসিএস

উড়নচণ্ডী (অমিতব্যয়ী): এমন উড়নচণ্ডী হলে জমিদারি খোয়াতে বেশি দিন লাগবে না।

খণ্ড প্রলয় (তুমুল কাণ্ড): এমন সামান্য ঘটনা নিয়ে এমন খণ্ড প্রলয় হবে তা কখনো ভাবতে পারিনি।

আসলে মুষল নেই ঢেঁকি ঘরে চাঁদোয়া (উপযুক্ত ব্যবস্থা অবলম্বনের অভাব): ঘরে ভাত নেই হাতে স্মার্ট ফোন এ তো দেখছি আসলে মুষল নেই ঢেঁকি ঘরে চাঁদোয়ার মতো অবস্থা।

যার কর্ম তার সাজে অন্য লোকের লাঠি বাজে (পটু বা দক্ষ লোকের পক্ষে যা সহজ অপটু লোকের দ্বারা অসম্ভব): রিকসা চালককে দিয়ে বাস চালকের কাজ করালে ঝামেলা তো লাগবেই একেবারেই অসম্ভব। তাই কথায় বলে যার কর্ম তার সাজে অন্য লোকের লাঠি বাজে।

একাদশে বৃহস্পতি (সৌভাগ্যের বিষয়): লাল মিয়ার এখন একাদশে বৃহস্পতি; ছেলে দুজনই বিসিএস ক্যাডার হলো আবার নিজের পেনশনের টাকাটাও পেয়ে গেল।

আটে-পিঠে দড় তবে ঘোড়ার উপর চড় (প্রস্তুতি নিয়ে কর্মে প্রবৃত্ত হওয়া): রহিম পরীক্ষায় ফেল তো করবেই, কারণ আমি আগে তাকে বলেছিলাম, আটে-পিঠে দড় তবে ঘোড়ার উপর চড়।

 

৩৭ তম বিসিএস

হরিষে বিষাদ (আনন্দে হঠাৎ দুঃখ): বিয়ের অনুষ্ঠানে বরযাত্রীর বাস দুর্ঘটনার খবর শুনে বিয়ে বাড়িতে হরিষে বিষাদ দেখা দেয়।

সুলুক সন্ধান (খোঁজ খবর): ব্যবসার সুলুক সন্ধান তার বেশ ভালোই জানা আছে।

মন না মতি (অস্থির মন): জীবনে ভালো কিছু করতে হলে মন না মতি ভাব পরিত্যাগ করা উচিত।

সোনার কাঠি রূপোর কাঠি (বাঁচা মরার উপায়): সে সহজে আমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, কারণ তার ব্যবসার সোনার কাঠি রূপোর কাঠি যে আমার হাতে।

ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে (নিজের অবশ্যম্ভাবী বিপদ সম্বন্ধে অজ্ঞানতা): একই অফিসে কর্মরত শিহাবের অপমান দেখে নয়ন খিলখিল করে হাসছে অথচ সে জানে না ঘুটির পোড়া দেখে গোবর হাসার পরিণতি সুখকর হয় না।

বিড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়া (ভাগ্যক্রমে ঈপ্সিত সুযোগ মেলা): আমি জিতব লটারিতে, তবেই হয়েছে বিড়ালের ভাগ্যে কি শিকে ছেঁড়ে?

 

৩৮ তম বিসিএস

অক্কা পাওয়া (মারা যাওয়া): ছক্কা মিয়া অক্কা পেল মক্কা যাওয়ার পথে।

তালপাতার সেপাই (অতি কৃষ ও দুর্বল): আজগরের মতো তালপাতার সেপাই যুদ্ধে যাবে শুনে বসাই হেসে উঠল।

চাঁদের হাট (আনন্দ সমাবেশ): সৈয়দ সাহেবের মেয়ের বিয়েতে সব আত্মীয় আসায় বাড়িতে যেন চাঁদের হাট বসেছে।

তাসের ঘর (ক্ষণস্থায়ী): এ দুনিয়াটা তাসের ঘর কী নিয়ে আমরা বড়াই করছি।

সাক্ষী গোপাল (কর্তৃত্বহীন দর্শক মাত্র): ছেলেটা এমন সাক্ষী গোপাল কোনো কাজে পাঠিয়ে শান্তি নেই।

 

৪০ তম বিসিএস

আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ): আমাদের গ্রামের মেম্বার হচ্ছে আমড়া কাঠের ঢেঁকি, ওনাকে দিয়ে ত্রাণ বিতরণ সম্ভব নয়।

শাক দিয়ে মাছ ঢাকা (দোষ গোপনের বৃথা চেষ্টা): পড়ালেখা কর না স্বীকার কর, শাক দিয়ে মাছ ঢাক কেন?

তামার বিষ (অর্থে কু-প্রভাব): রাতারাতি বড় লোক বনে গিয়েছ, তাই তুমি তামার বিষের প্রভাবে প্রভাবিত।

মিছরির ছুরি (মধুর অথচ তীক্ষ্ণ): অনামিকার হাসি যেন মিছরির ছুরি, যাকে পায় তাকেই ঘাঁয়েল করে।

ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় (ভালো ব্যক্তি পাওয়াই মুশকিল): সামনে ইলেকশন মেম্বার প্রতিনিধি খুঁজতে ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়।

ননীর পুতুল (কোমল দেহ): একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর হয়, এ যেন ননীর পুতুল।

 

৪১ তম বিসিএস

জড়ভরত (অকর্মণ্য ব্যক্তি/নিষ্ক্রিয় ব্যক্তি): আলমের মতো জড়ভরত দিয়ে আর যাইহোক নিরাপত্তার কথা ভাবা যায় না।

হাড়হদ্দ (সব তথ্য/নাড়ি নক্ষত্র): আলোচিত রুমানা হত্যার হাড়হদ্দ উদ্ধার করতে তৎপর গোয়েন্দা বিভাগ।

ডাকাবুকো (নির্ভীক/দূরন্ত): সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণে সক্রিয়তা রাখতে পারে ডাকাবুকো যুবক শ্রেণির ছাত্রসমাজ।

সাত ঘাটের কানাকড়ি (অকিঞ্চিতকর সংগ্রহ): যে হারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তাতে সাত ঘাটের কানাকড়ি দিয়ে কোনো কিছু করা অসম্ভব।

উনা ভাতে দুনা বল (অল্প আহার স্বাস্থ্যসম্মত): বয়স চল্লিশ হয়েছে, এবার বুঝে শুনে চল, জানো তো উনা ভাতে দুনা বল।

বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড় (কর্তার চেয়ে কর্মচারীর দাপট বেশি/হুকুমদাতার চেয়ে পেয়াদার প্রভাব ফলানো/বাপের চেয়ে ছেলের তেজ বেশি): বর্তমান সমাজে সব ক্ষেত্রেই বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড় হয়ে উঠেছে।

 

৪৩ তম বিসিএস (০০১)

মাছের মার পুত্রশোক (অস্বাভাবিক ঘটনা): তোমার মুখে দেশপ্রেমের কথা! এ যে মাছের মায়ের পুত্রশোক।

গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল (প্রাপ্তির পূর্বেই ভোগের আয়োজন): খেলা শুরু না হতেই ট্রফির চিন্তা করছ, এ যে দেখি গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।

নাই কাজ তো খই ভাজ (নিষ্কর্মার করা মূল্যহীন কাজ): আজকে তো অফিসের কাজ নেই, তাই চলেন সবাই মিলে তাস খেলি। নাই কাজ তো খই ভাজ।

আপনা মাংসে হরিণা বৈরী (আপন গুণাবলির জন্যই মানুষ নিজে অন্যের শত্রু/নিজের মাংসের জন্যই হরিণ নিজের শত্রু): নিজের অতিরিক্ত পরার্থপরোতার কারণে সে আজ নিঃস্ব, এ যেন আপনা মাংসে হরিণা বৈরী।

অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট (বেশি মাতব্বর থাকলে কাজের উদ্দেশ্য বিফলে যায়): সামান্য অনুষ্ঠানের জন্যে বেশি লোক লাগানো ঠিক হবে না-শেষে অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট হবে।

সাপের হাঁচি বেদেয় চেনে (প্রকৃত লক্ষণ অভিজ্ঞ লোকেই বোঝে): সে যতই লুকানোর চেষ্টা করুক, তার আসল রূপ পুলিশ ঠিকই ধরে ফেলবে, কারণ সাপের হাঁচি তো বেদেয় চেনে।

 

৪৩ তম বিসিএস (০০২)

অষ্টরম্ভা (ফাঁকি): মাহিরের শুধু বড় বড় কথা, এদিকে কাজের বেলায় তো অষ্টরম্ভা।

ইঁদুর কপালে (নিতান্ত মন্দ ভাগ্য): আমার মতো ইঁদুর কপালে লোকের দাম এক কানাকড়িও না।

কচ্ছপের কামড় (যা সহজে ছাড়ে না): হা-ডু-ডু খেলায় সে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কচ্ছপের কামড়ের ন্যায় ধরেছিলো।

তুলসীবনের বাঘ (ভণ্ড): রফিক সাহেবকে সহজ-সরল মনে হলেও তিনি আসলে তুলসীবনের বাঘ।

গয়ংগচ্ছ (ঢিলেমি): গয়ংগচ্ছ ভাব করছ যেন তোমার হাতে এক বছর সময় আছে।

নাটের গুরু (মূল নায়ক): সবেদার এতো বাড়াবাড়ির নাটের গুরু ময়না বেগম ও তার পরিবার।

 

৪৪ তম বিসিএস (০০১)

আটকপালে (হতভাগ্য): আটকপালে যেদিকে চায় সাগর শুকিয়ে যায়।

এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ একবারই আসে না): আমাকে ফাঁকি দিলে, মনে রেখো, এক মাঘে শীত যায় না।

কুলকাঠের আগুন (তীব্র জ্বালা): পার্বতীর বিয়ে দেবদাসের অন্তরে কুল কাঠের আগুন জ্বালিয়ে দিল।

আঠারো মাসে বছর (দীর্ঘসূত্রতা): তসিলদার অফিসের কাজ মানেই আঠারো মাসে বছর, এ বলার অপেক্ষা রাখে না।

অজগরবৃত্তি (আলসেমি): তুমি কোনো বিষয়ই মনোযোগসহকারে নিলে না, সারাদিনই অজগরবৃত্তি করে কাটিয়ে দিলে।

নয়ছয় (অপচয়): বছরের পর বছর স্বামী বিদেশ থেকে টাকা পাঠালো আর বউ নয় ছয় করে শেষ করলো।

 

৪৪ তম বিসিএস (০০২)

কেউকেটা (নগন্য ব্যক্তি): হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার পর থেকে রকিব সাহেব পরিবারের নিকট কেউকেটা হয়ে গেছেন।

ঘরের শত্রু বিভীষণ (যে গৃহ বিবাদ বাঁধায়): ভাইদের মধ্যে ছোটটা ঘরের শত্রু বিভীষণ, তার কারণে সংসার তছনছ হয়ে গেল।

গো-মূর্খ (জড় বুদ্ধি): তোমার মত গো-মূর্খ দিয়ে আর যাই হোক বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়া সম্ভব নয়।

গড্ডলিকা প্রবাহ (অন্ধ অনুকরণ): গড্ডলিকা প্রবাহে যারা গা ভাসিয়ে দেয়, আমি তাদের দলে নেই।

জলে কুমির ডাঙায় বাঘ (উভয় সংকট): জামাই আর ভাগ্নে বাঁধিয়েছে ঝগড়া কারও পক্ষে একটা কথা বলার উপায় নেই, এ যেন জলে কুমির ডাঙায় বাঘ।

সাক্ষী গোপাল (কর্তৃত্বহীন দর্শক মাত্র): ছেলেটা এমন সাক্ষী গোপাল কোনো কাজে পাঠিয়ে শান্তি নেই।

 

৪৫ তম বিসিএস (০০১)

লেজে খেলানো (বশীভূত করে রাখা): আমাকে নিয়ে আর কতো লেজে খেলা খেলবে হিসাব একদিন দিতে হবে।

রথ দেখা কলা বেচা (একসাথে দুই কাজ করা): বাজার থেকে ফেরার পথে রোজ ছেলেকে স্কুল থেকে এনে 'রথ দেখা ও কলা বেচা' একসঙ্গে সারি।

মাছের মায়ের পুত্রশোক (অবিশ্বাস হাহাকার): তোমার মুখে দেশপ্রেমের কথা! এ যে মাছের মায়ের পুত্রশোক।

ভস্মে ঘি ঢালা (নিষ্ফল কাজ করা): লোকটি সারাদিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে অনেক কষ্ট করে ফসল ফলানোর চেষ্টা করলো, কিন্তু ফলন যা হলো, তাতে তার শ্রম যেন ভস্মে ঘি ঢালার মতোই হলো।

কৈয়ের তেলে কৈ ভাজা (অন্যের জিনিস দিয়ে তারই সন্তুষ্টি অর্জন): ছেলের বিয়েতে যৌতুক এনে মেয়ের বিয়েতে যৌতুক প্রদান, এ দেখছি কৈয়ের তেলে কই ভাজা।

নরকগুলজার করা (অসংযত স্ফূর্তিবাজদের আড্ডা বা প্রচুর খারাপ লোকের একত্রে সমাবেশে জমাট বাধা): মেলায় এত ভিড় যে, মনে হচ্ছিল নরক গুলজার করা অবস্থা!

 

৪৫ তম বিসিএস (০০২)

বিষ নেই কুলোপনা চক্কর (ক্ষমতাহীনের মৌখিক আস্ফালন): তোমার ক্ষমতার দৌড় আমার জানা আছে, বিষ নেই তার আবার কুলোপনা চক্কর।

গোদের ওপর বিষফোঁড়া (দুঃসহ বিপদ): গতকাল থেকে সর্দি জ্বর, আজ আবার শুরু হয়েছে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা এ তো দেখছি গোদের ওপর বিষফোঁড়া।

চণ্ডীপাঠ থেকে জুতোসেলাই (ছোট বড় যাবতীয় কাজ করা): নিতাইকে হাবাবোবা মানুষ ভাবলেও সে চণ্ডীপাঠ থেকে জুতোসেলাইতে পারদর্শী।

বানরের গলায় মুক্তোর হার (অপাত্রে মূল্যবান বস্তু): কুলাঙ্গার ছেলের ঘরে এমন রূপবতী শিক্ষিতা বউ যেন বানরের গলায় হার।

সব শেয়ালের এক রা (ঐকমত্য): মোদের দাবি মানতে হবে বলে সব শেয়ালের এক রা শোনা যাচ্ছে।

ত্রিশঙ্কু অবস্থা (অনিশ্চিত অবস্থায় পড়া ব্যক্তির দশা): একদিকে বাবার মৃত্যু অন্যদিকে চাকরির বয়স শেষ হওয়ায় খালেদ ত্রিশঙ্কু অবস্থার মধ্যে পড়েছে।

 

৪৬ তম বিসিএস (০০১)

অসারের তর্জন-গর্জন সার (ক্ষমতাহীন ব্যক্তির আস্ফালন): ওর চিৎকার-চেঁচামেচি দেখে ভয় পেয়ো না, ওর কিছুই করার সাহস নেই অসারের তর্জন-গর্জন সার।

গরিবের ঘোড়া রোগ (সাধ্যের অতিরিক্ত সাধ): শুনলাম আজকাল থিয়েটারে যাচ্ছ? তোমার মতো গরিবের এমন ঘোড়া রোগ হবার কারণ কি?

জুতোসেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ (ছোট বড় যাবতীয় কাজ করা): নিতাইকে সহজ সরল ভাবলেও সে চণ্ডীপাঠ থেকে জুতোসেলাই - সকল কাজে পারদর্শী।

বিড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়া (ভাগ্যক্রমে সুযোগ মেলা): আমি জিতব লটারিতে, তবেই হয়েছে! বিড়ালের ভাগ্যে কি শিকে ছেঁড়ে?

হিসেবের গরু বাঘে খায় না (হিসেব/যত্নে রাখা জিনিস নষ্ট হয় না): আমি সব সময় খরচের হিসেব লিখে রাখি, কারণ হিসেবের গরু বাঘে খায় না।

 

৪৬ তম বিসিএস (০০২)

এক যাত্রার পৃথক ফল (একই কাজের ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল): সবাই একই পরীক্ষা দিলাম, কিন্তু এক যাত্রায় পৃথক ফল হলো। কেউ ভাল নম্বর পেল, আবার কেউ ফেল করলো।

সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড় (সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পস্তাতে হয়): দেরি না করে এখনই পড়তে বসো। কারণ সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়।

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবন (ক্ষমতা লাভ করলে সবার স্বভাব এক রকমই হয়): রতনের মতো ভদ্রলোকও চেয়ারম্যান হবার পর দুর্ব্যবহার শুরু করেছে এ বুঝি, যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ।

শাক দিয়ে মাছ ঢাকা (অপরাধ গোপনের বৃথা চেষ্টা): শাক দিয়ে মাছ ঢেকে লাভ নাই, স্বীকার করে নে তুই চুরি করেছিস।

খালি কলসি বাজে বেশি (অভিজ্ঞতাহীন ব্যক্তি নিজেকে বেশি জাহির করার চেষ্টা করে): রাজনীতির 'র' ও বুঝে না, কিন্তু বড় বড় কথা বলে। এইজন্যেই কথায় বলে খালি কলসি বাজে বেশি।

পর্বতের মূষিক প্রসব (বেশি প্রত্যাশায় সামান্য প্রাপ্তি): নির্বাচনি ওয়াদার প্রেক্ষিতে সরকার কর্তৃক সামান্য বেতন বৃদ্ধি যেন পর্বতের মূষিক প্রসব।

 

৪৭ তম বিসিএস (০০১)

খালি কলসি বাজে বেশি (গুণহীন ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি আস্ফালন করে): ওর চিৎকার-চেঁচামেচি দেখে ভয় পেয়ো না, ওর কিছুই করার সাহস নেই। জানোই তো, খালি কলসি বাজে বেশি।

শাক দিয়ে মাছ ঢাকা (তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে অপরাধ গোপনের চেষ্টা): দুর্নীতির খবর ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা অনেকটা 'শাক দিয়ে মাছ ঢাকা'র মতো, কারণ সত্যিটা সামনে আসবেই।

গরু মেরে জুতো দান (কারো যথেষ্ট ক্ষতি করে পরে তার সামান্য উপকার করা): মোড়ল বিধবার লাখ টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়ে শেষে তাকে দু-মুঠো খেতে দিচ্ছে, এ যেন গরু মেরে জুতা দান।

যতনে রতন মেলে (পরিশ্রম করলে মূল্যবান কিছু অর্জন করা সম্ভব):  ব্যবসায় লস হলেও হাল ছেড়ো না, সততার সাথে কাজ চালিয়ে যাও, কথায় আছে যতনে রতন মেলে।

পচা শামুকে পা কাটা (ক্ষুদ্র বস্তু দ্বারা বড় ধরনের ক্ষতি হওয়া): পরীক্ষায় অনেক কঠিন প্রশ্ন সমাধান করেও অবহেলায় সহজ প্রশ্নের উত্তর ভুল করা, একেবারেই পচা শামুকে পা কাটা।

অনুরোধে ঢেঁকি গেলা (অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু করা): দলের সবার চাপে পড়ে সে এই দায়ভার নিয়েছে, এটা তার জন্য অনুরোধে ঢেঁকি গেলার মতোই।

 

৪৭ তম বিসিএস (০০২)

আমড়া কাঠের ঢেঁকি/অকালকুষ্মান্ড (অপদার্থ): ওকে দিয়ে কোনো কাজই হবে না, ও একটা (কলুর বলদ)।

যেমন কর্ম, তেমন ফল/অতি লোভে তাঁতি নষ্ট/ইট মারলে পাটকেল খাইতে হয় (কাজের ধরন অনুযায়ী ফল ভোগ করা): আমি জানতাম তার এই দুর্গতিই হবে, কথায় বলে না - (আঙুল ফুলে কলাগাছ)।

খোদার খাসি/ধর্মের ষাড় (অলস সময় কাটানো): এভাবে (বসন্তের কোকিল) এর মতো ঘুরো না, সামনেই কিন্তু চুড়ান্ত পরীক্ষা।

কেঁচো খুড়তে সাপ (সামান্য ঘটনার সূত্রে গুরুতর ঘটনা প্রকাশ): ছোট একটা তদন্তে হাত দিয়েছিলাম, এখন দেখছি (সাপের পাঁচ পা) বেরিয়ে এলো।

মুখে মধু অন্তরে বিষ/অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ (কপট ব্যক্তির ভদ্র সাজা): ওর এই বিনয় দেখে ভুলো না, জানোই তো (ধরি মাছ না ছুই পানি)।

বিনা মেঘে বজ্রপাত/মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়া (সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত বিপদ): এমন সময়ে এই সংবাদ শুনবো ভাবতেও পারছি না, ব্যাপারটা (যত গর্জে তত বর্ষে না) এর মতো।

0 comments:

Post a Comment