![]() |
| Figure: Teesta River Comprehensive Management and Restoration Project Map |
প্রকল্পের সারসংক্ষেপ
- প্রকল্পের নাম: তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (Teesta River Comprehensive Management and Restoration Project)
- নদীর মোট দৈর্ঘ্য (বাংলাদেশ অংশে): প্রায় ১১৫ কিলোমিটার
- বিনিয়োগ সহায়তাকারীঃ চীন
![]() |
| চিত্রঃ তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রজেক্ট হাইলাইটস |
প্রকল্পের উদ্দেশ্য
- তিস্তা নদীতে সারা বছর পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা
- বর্ষায় বন্যা ও ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা
- শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য পানি সংরক্ষণ করা
- নদীর দুই তীরের জীবন-জীবিকা ও কৃষি পুনরুদ্ধার করা
- পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষা করা
তিস্তা মহাপরিকল্পনায় যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে
- তিস্তায় সারা বছর পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ রাখার জন্য নদী খনন করে গভীর ও প্রশস্ত করা হবে।
- নদীর পুরনো চ্যানেল পুনরুদ্ধার করা হবে যাতে বর্ষায় পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ে।
- ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে কংক্রিটের বাঁধ তৈরি হবে।
- নদীর দুই তীরে সুরক্ষা দেয়াল ও বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
- শুষ্ক মৌসুমে কৃষির জন্য পানি সংরক্ষণের জলাধার তৈরি হবে।
- আধুনিক সেচ ব্যবস্থা (canal & pipeline network) গড়ে তোলা হবে।
- নদী সংলগ্ন এলাকায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও ফসলের বৈচিত্র্য আনা হবে।
- মৎস্য উৎপাদন ও জলজ জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করা হবে।
- ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পুনর্বাসন কর্মসূচি থাকবে।
- নদীর জীববৈচিত্র্য, পাখি, গাছপালা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা হবে।
- পরিবেশবান্ধব নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
- নদীর পানি, মাটি, প্রবাহ ও বৃষ্টিপাত মনিটর করার জন্য স্মার্ট সেন্সর ও মনিটরিং সিস্টেম বসানো হবে।
- স্যাটেলাইট ও ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নদীর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
- চীন বা অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের থেকে অর্থ ও প্রযুক্তি সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
- প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা তার বেশি ব্যয় হতে পারে।
- প্রকল্প পরিচালনার জন্য বিশেষ কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা গঠন করা হতে পারে।
- পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পের প্রধান বাস্তবায়ন সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।
তিস্তা সমস্যার প্রস্তাবিত সমাধানসমূহ
১। ভারতের সঙ্গে সমঝোতা জরুরিঃ চীন অর্থ ও প্রযুক্তি দিলেও ভারতের সহযোগিতা ছাড়া শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রবাহ বাড়বে না। তাই দ্বিপক্ষীয় বা আঞ্চলিক পানি চুক্তি করা প্রয়োজন।
২। সমন্বিত আঞ্চলিক পানি ব্যবস্থাপনা উদ্যোগঃ সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির প্রস্তাব দিয়েছেন, বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও অন্য প্রতিবেশী দেশগুলো মিলে একটি বৃহত্তর পানি ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ নিতে পারে, যাতে নদীগুলোর প্রবাহ টিকিয়ে রাখা যায়।
৩। কারিগরি ও পরিবেশগতভাবে টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়নঃ বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় প্রযুক্তিগত পরামর্শ, অংশীজনদের মতামত এবং পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করা দরকার।
৪। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও ভাঙন রোধ ব্যবস্থা জোরদারঃ নদীর তীর সংরক্ষণ, পাড় বাঁধ নির্মাণ এবং পানি সংরক্ষণ কাঠামো তৈরি করে ভাঙন ও মরুকরণ রোধের ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫। নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তঃ ভারত শিলিগুড়ি করিডর অঞ্চলে চীনের উপস্থিতি চায় না, তাই বিরোধিতা করতে পারে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নয়, বরং নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত নেওয়াই উত্তম।


0 comments:
Post a Comment