ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) পুনরায় ক্ষমতায় (২০২৫ থেকে) আসার পর NATO-এর বর্তমান প্রেক্ষাপটকে অনিশ্চয়তা, চাপ ও পুনর্গঠন এই তিনটি শব্দ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়।
১. America First নীতি ও NATO-তে আস্থার সংকট
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে NATO-এর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত নেতৃত্বে বিশ্বাসের ঘাটতি।
- ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, যেসব দেশ প্রতিরক্ষা খাতে যথেষ্ট ব্যয় করবে না, তাদের রক্ষা নাও করতে পারেন।
- Article 5 (collective defence)-এর প্রতিও তিনি শর্তসাপেক্ষ সমর্থন দিয়েছেন।
বিশ্লেষণ: NATO-এর মূল ভিত্তি "Collective Security" দুর্বল হয়েছে। Realism-এর দৃষ্টিতে এটি "Transactional Alliance"-এ রূপ নিচ্ছে।
২. Burden Sharing চাপ বৃদ্ধি (Defence Spending Issue)
ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় চাপ ছিল ইউরোপীয় দেশগুলোকে বেশি প্রতিরক্ষা ব্যয় করতে বাধ্য করা।
- ২০২৫ Hague Summit-এ সদস্যরা ৫% GDP পর্যন্ত defence spending বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।
- "৩%+ ব্যয়" নতুন মানদণ্ড হিসেবে উঠে এসেছে।
ফলাফল: ইউরোপে "Rearmament trend" শুরু হয়েছে এবং EU দেশগুলো স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে চাইছে।
৩. Transatlantic সম্পর্কের টানাপোড়েন
ট্রাম্পের নীতির কারণে US-Europe সম্পর্ক অনেকটা দুর্বল হয়েছে।
- ইউরোপীয় নেতারা মার্কিন নীতির, বিশেষত রাশিয়া ও ইরান ইস্যুতে, বিরোধিতা করেছে।
- স্পেনসহ কিছু দেশ উচ্চ defence target প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষণ: Liberal institutionalism দুর্বল হয়েছে এবং Alliance cohesion কমেছে।
৪. NATO-এর সামরিক কাঠামোতে পরিবর্তন
ট্রাম্পের চাপের ফলে NATO ধীরে ধীরে "Europeanized" হচ্ছে।
- ইউরোপীয় বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
- যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে।
ফলাফল: NATO "US-led alliance" থেকে "shared leadership"-এর দিকে যাচ্ছে।
৫. মার্কিন সেনা উপস্থিতি ও কৌশলগত পুনর্বিন্যাস
- জার্মানি থেকে সেনা সরিয়ে অন্যত্র নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।
- যারা বেশি ব্যয় করে তাদের প্রতি বেশি নিরাপত্তা দেওয়ার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণ: Alliance solidarity শর্তসাপেক্ষ (conditional) হয়ে গেছে।
৬. NATO থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি
- ট্রাম্প একাধিকবার NATO ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
- যদিও কংগ্রেস আইন করে এটাকে কঠিন করেছে।
ফলাফল: NATO-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে এবং Strategic autonomy ধারণা শক্তিশালী হয়েছে।
৭. ইউরোপের প্রতিক্রিয়া: Strategic Autonomy
ট্রাম্পের কারণে ইউরোপ এখন নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
এটি "European Strategic Autonomy" ধারণাকে জোরদার করেছে।
৮. দ্বৈত বাস্তবতা (Contradiction)
একদিকে ট্রাম্প NATO-এর সমালোচনা করেন, অন্যদিকে NATO Summit-এ অংশ নিয়ে সমর্থনও দেন।
অর্থাৎ ট্রাম্প একজন "Critic but still indispensable partner" হিসেবে থাকছেন।
উপসংহার
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে NATO এখন একটি রূপান্তরমান জোট (Transforming Alliance)। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ, ইউরোপের ভূমিকা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জোটটি "value-based" থেকে "interest-based" কাঠামোয় রূপ নিচ্ছে।

0 comments:
Post a Comment