হাম হলে কী করবেন? লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিকার এক নজরে

হাম (Measles) কী?

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি Measles virus দ্বারা হয় এবং সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তবে টিকা না নিলে বড়রাও আক্রান্ত হতে পারে। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়।

সংক্রমণ ছড়ানোর প্রধান উপায়:

  • আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ভাইরাস ছড়ায়
  • আক্রান্ত ব্যক্তির নাক বা গলার নিঃসরণে স্পর্শ
  • একই ঘরে থাকা বা কাছাকাছি যোগাযোগ

যাদের ঝুঁকি বেশি:

  • যারা হামের টিকা নেয়নি
  • ৫ বছরের কম শিশু
  • অপুষ্টিতে ভোগা শিশু
  • দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

লক্ষণ (Symptoms)

হামের লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের ১০–১৪ দিন পরে দেখা যায়। এটি প্রথমে মুখে শুরু হয়, এরপরে পুরো শরীরে ছড়ায়। এর প্রধান লক্ষণগুলো:

  • জ্বর (প্রথমে হালকা, পরে বেশি)
  • কাশি
  • নাক দিয়ে পানি পড়া
  • চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া
  • মুখের ভেতরে সাদা দাগ (Koplik spots)
  • লাল ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ

চিকিৎসা (Treatment)

হামের জন্য সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। চিকিৎসা মূলত লক্ষণ অনুযায়ী করা হয়। ডাক্তাররা সাধারণত যেগুলো দেন:

  • জ্বর কমানোর ওষুধ (যেমন প্যারাসিটামল)
  • ভিটামিন A (খুব গুরুত্বপূর্ণ)
  • পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার
  • বিশ্রাম

তবে শ্বাসকষ্ট, খুব বেশি জ্বর, খিঁচুনি বা শিশু খুব দুর্বল হয়ে গেলে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে।

প্রতিকার / প্রতিরোধ (Prevention)

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা (MMR vaccine)।

  • হামের টিকা নেওয়া
  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা
  • হাত ধোয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
  • কাশি-হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখা

0 comments:

Post a Comment