বিদ্যুৎ ও জ্বালানি একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং নাগরিক জীবনের গতিশীলতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা প্রশাসনিক রূপান্তরের সময়েও এই খাতদুটি যদি সুদৃঢ়ভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে তা কেবল রাষ্ট্রের সক্ষমতাই প্রকাশ করে না, বরং জনগণের আস্থার জায়গাটিকেও দৃঢ় করে। বাংলাদেশের বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার এমন এক সময় দায়িত্ব গ্রহণ করে, যখন দেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে উপনীত। নির্বাচনকালীন চাপ, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে থেকেও এই সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কয়েকটি তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। নিচে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের সফলতা / উদ্যোগ উল্লেখ করা হলো:
১. মোট বরাদ্দ ও খাতভিত্তিক বণ্টন:
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মোট ২২,৫২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের জন্য ২০,৩৪২ কোটি টাকা এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতের জন্য ২,১৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
২. বিতর্কিত আইন বাতিল:
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০১১) বাতিল করা হয়েছে। এই আইনটি টেন্ডার ছাড়াই কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করায় দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক ছিল।
৩. চুক্তি পর্যালোচনায় জাতীয় কমিটি:
বাতিল হওয়া আইনের আওতায় পূর্বে সম্পাদিত সব চুক্তি পর্যালোচনার জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগের অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৪. রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে অগ্রগতি:
রূপপুরে ২,৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা তৈরি করবে।
৫. বিদ্যুৎ মূল্য স্থিতিশীল রাখা:
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিদ্যুতের দাম আপাতত না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে।
৬. ভর্তুকি হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ:
বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে সাশ্রয়ী ও ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে সরকারের আর্থিক চাপ হ্রাসে সহায়ক হবে।
৭. নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সাফল্য:
রমজান মাস ও ঈদ উপলক্ষে দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে জনগণের মধ্যে সন্তুষ্টি তৈরি হয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
৮. গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির পরিকল্পনা:
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে ৬৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট এবং ২০২৮ সালের মধ্যে ১,৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৯. বাপেক্সের মাধ্যমে অনুসন্ধান ও খনন:
সরকারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্স ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৭-২৮ মেয়াদে জরিপ কার্যক্রম চালাবে। এ সময়ের মধ্যে ৬৯টি কূপ খননের পাশাপাশি ৩১টি কূপের ওয়ার্কওভার বা পুনঃউৎপাদন কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

0 comments:
Post a Comment