বাংলাদেশের ইতিহাসের ৪ জন মনীষীর বৃত্তান্ত


মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী (১৯১৮ - ১৯৮৪)

ওসমানীর জন্ম ১৯১৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে। তার পৈত্রিক বাড়ি সিলেট জেলার বালাগঞ্জ থানার (বর্তমান ওসমানী নগর উপজেলা) দয়ামীরে। তার পিতা খান বাহাদুর মফিজুর রহমান এবং মাতা জোবেদা খাতুন।

দেশবিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ই অক্টোবর ওসমানী পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এসময় তার পদমর্যাদা ছিল লেফটেন্যান্ট কর্নেল। ১৯৪৯ সালে তিনি চিফ অফ জেনারেল স্টাফের ডেপুটি হন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে তিনি পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধ করেন৷ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ যখন শেষ হয় তখন তার বয়স চল্লিশের উপরে৷ ১৯৬৭ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে কর্নেল পদবীতে অবসর গ্রহণ করেন।

জেনারেল মহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এই দায়িত্ব পালন করেন। 
সংক্ষেপে, আতাউল গণি ওসমানীর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক: ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে মনোনীত হন।

সেনাবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান: তিনি একইসঙ্গে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন।

সামরিক প্রস্তুতি: মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই তিনি সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধের কৌশল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব: ওসমানী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় সামরিক নেতৃত্বের প্রাণপুরুষ এবং তার নেতৃত্বেই মুক্তিবাহিনী যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে।

দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভাজন: রণকৌশলের অংশ হিসেবে তিনি সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করেন এবং প্রতিটি সেক্টরের জন্য দক্ষ সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ দেন।

গেরিলা যুদ্ধের রূপরূপায়ণ: যুদ্ধের শুরুতে নিয়মিত পদ্ধতিতে যুদ্ধ চালালেও পরে সৈন্যসংখ্যার ঘাটতি বুঝে গেরিলা যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেন। ইপিআর, আনসার, পুলিশ ও যুবকদের নিয়ে গঠন করেন গণবাহিনী।

রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়: তিনি সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং বাহিনীগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সংগঠনের কাজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন।

নৌ-কমান্ডো বাহিনী গঠন: নিয়মিত নৌবাহিনী না থাকলেও তিনি প্রাক্তন নৌ-সদস্য ও গেরিলাদের নিয়ে একটি নৌ-কমান্ডো বাহিনী গঠন করেন, যারা নদীপথে শত্রুপক্ষের চলাচল রুদ্ধ করে দেয়।

ছোট বিমান ইউনিট গঠন: যুদ্ধের শেষ দিকে ২টি হেলিকপ্টার, একটি অটার ও একটি ডাকোটার মাধ্যমে একটি ক্ষুদ্র বিমান ইউনিট গঠন করেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ: তিনি প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা, অস্ত্র ও রসদের যোগান নিশ্চিতকরণ এবং যুদ্ধ পরিচালনার সকল দিক তত্ত্বাবধান করেন।

যুদ্ধ শেষে যৌথ বাহিনী পরিচালনা: ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথে যৌথ বাহিনীর সমন্বয় ঘটিয়ে চূড়ান্ত বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে ভূমিকা: স্বাধীনতা অর্জনের পর তিনি জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং সংবিধান প্রণয়ন ও রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন।


শেরে বাংলা এ.কে. (আবুল কাশেম) ফজলুল হক (১৮৭৩ - ১৯৬২)

ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে গণিতে অনার্সসহ স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৪০ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে তিনি একটি ঐতিহাসিক "লাহোর প্রস্তাব" পেশ করেন। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে ভারতবর্ষে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছিল। এই অধিবেশনে তার জ্বালাময়ী ভাষণে মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাবের জনগণ তাকে "শের-ই-বঙ্গাল" উপাধি দেয়, যার অর্থ "বাংলার বাঘ"। পরবর্তীতে এই উপাধিটি "শেরে বাংলা" হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বাঙালি জাতীয়তাবাদ উন্মেষের পেছনে ফজলুল হকের অবদান অনস্বীকার্য।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ উন্মেষে ফজলুল হকের অবদান

প্রথম বাঙালি মুসলমান সচিব ও উচ্চশিক্ষিত নেতাঃ তিনি ছিলেন কলকাতা কর্পোরেশনের প্রথম মুসলমান মেয়র এবং বাংলার প্রথম মুসলমান মন্ত্রিসভার সদস্য। তার উচ্চশিক্ষা ও প্রশাসনিক দক্ষতা মুসলিম সমাজে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে।

১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব পেশঃ ২৩ মার্চ ১৯৪০ সালে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের অধিবেশনে পাকিস্তান গঠনের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত "লাহোর প্রস্তাব" তিনিই উপস্থাপন করেন। এটি পরবর্তীতে পাকিস্তান আন্দোলনের মাইলফলক হয়, যেখানে পূর্ব বাংলার আলাদা পরিচয়ও চিন্তা করা হয়।

কৃষকপ্রজা পার্টি গঠনঃ ১৯৩৬ সালে তিনি কৃষক ও প্রান্তিক জনগণের অধিকার রক্ষায় এই পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রামীণ কৃষকদের স্বার্থে তার ভূমিকা ছিল তৎকালীন জমিদার-নির্ভর রাজনীতির বিরুদ্ধে এক সাহসী অবস্থান।

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পক্ষে অবস্থানঃ ফজলুল হক ছিলেন সংস্কৃতিমনা এবং বাংলা ভাষা ও মুসলমান বাঙালির সামাজিক উন্নয়নের পক্ষে। পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি তৈরিতে তার উদার ও বাস্তববাদী রাজনীতি ভূমিকা রাখে।

ধর্মনিরপেক্ষ ও যুক্তফ্রন্ট রাজনীতিতে নেতৃত্বঃ ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠনে নেতৃত্ব দিয়ে মুসলিম লীগকে পরাজিত করেন। এতে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি আরও শক্ত হয় এবং পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি সংগঠিত কণ্ঠ তৈরি হয়।

শেরে বাংলা উপাধিঃ তার অসামান্য জনকল্যাণমূলক কাজ, কৃষকদের জন্য ভূমিকা এবং শিক্ষাবিস্তারের চেষ্টার কারণে তিনি “শেরে বাংলা” বা “বাঙালির বাঘ” নামে পরিচিত হন।


হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী (১৮৯২ - ১৯৬৩)

১৮৯২ খ্রিষ্টাব্দের ৮ই সেপ্টেম্বর বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম।তিনি উচ্চশিক্ষা লাভ করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। সোহরাওয়ার্দী নিজ উদ্যোগে বাংলা ভাষা শিখেছিলেন এবং বাংলার চর্চা করেন।  ১৯২০ সালে খিলাফত আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ। সোহরাওয়ার্দী ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের শুরুর দিকে স্বাধীন মুসলিম পার্টি নামক দল গঠন করেন যা পরবর্তীতে মুসলিম লীগের সাথে যুক্ত(merge) হয়ে যায়। তিনি সুবাহ-ই-বাংলা (বৃহত্তর বাংলা) গঠনের পক্ষে ছিলেন, যা পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে দেয়। পাকিস্তান গঠনের পর তিনি ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে তিনি আমরণ গণতন্ত্র রক্ষার জন্য চেষ্টা চালিয়ে গেছেন যা তাঁর সমসাময়িক কালে আর কেউ দেখাতে পেরেছেন কিনা সন্দেহ। তাই তাঁকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয়।

বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে সোহরাওয়ার্দীর অবদান:

বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি তৈরি: বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অধিকার প্রশ্নে প্রথম সারির কণ্ঠস্বর ছিলেন।

পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সোচ্চার: পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থায় পূর্ব বাংলার বৈষম্যের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করেন।

ছাত্র রাজনীতিতে প্রভাব: শেখ মুজিবুর রহমান সহ অনেক তরুণ নেতার রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু ছিলেন তিনি।

নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা: সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি পূর্ব বাংলায় গণতান্ত্রিক চেতনা বিস্তার করেন।

আওয়ামী লীগের সহপ্রতিষ্ঠাতা: ১৯৪৯ সালে গঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগ (পরে আওয়ামী লীগ) গঠনে পরোক্ষ অবদান রাখেন। এছাড়া দলটির রাজনৈতিক আদর্শ ও কৌশল নির্ধারণে প্রভাব রাখেন।

মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (১২ ডিসেম্বর ১৮৮০ - ১৭ নভেম্বর ১৯৭৬)

মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ ধানগড়া গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাল্য নাম ছিল চেগা মিয়া। তিনি ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল রাজনীতিবিদ ও গণআন্দোলনের অন্যতম নায়ক ছিলেন। ভাসানী জীবদ্দশায় ১৯৪৭সালে সৃষ্ট পাকিস্তান এবং ১৯৭১সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

শুনো, ধর্ম আর দেশ মিলাইতে যায়ো না। পরে ফুলের নাম কী দিবা, ফাতেমা-চূড়া?ভাসানী

মাওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক জীবনঃ

১৯১৭ সালঃ মাওলানা ভাসানী প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ১৯১৭ সালে। চিত্তরঞ্জন দাশ সেবছর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ময়মনসিংহে আসেন, তখন ভাসানী তাঁর সাহচর্যে আসেন।

১৯২৪ সালঃ আসামের চুবাড়ি জেলার ভাসান চরে তিনি বাঙালি কৃষকদের এক বিশাল জনসমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। এই সম্মেলনের সাফল্য থেকে মূলত সেখানকার লোকেজন তাঁকে ভাসানীর মাওলানা নামে ডাকতে শুরু করেন।

১৯৪৭ সালঃ ১৯৪৭ সালের ১৭ই মার্চ আসাম দিবস উদযাপন করতে গিয়ে ভাসানী প্রথমবারের মতো গ্রেপ্তার হন। মাওলানা জমিদার-জোতদার-মহাজনদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন, ব্রিটিশ শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। এছাড়া তিনি কৃষক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন গড়ে তোলেন।

১৯৫৭ সালঃ ১৯৫৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের সন্তোষে কাগমারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, এই সম্মেলনটি একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সম্মেলন ছিল, যেখানে মুসলিম লীগ, আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলার নেতারা একত্রিত হয়ে পাকিস্তানের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে সম্পর্ক এবং স্বায়ত্তশাসন নিয়ে আলোচনা করেন। এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য মওলানা ভাসানী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রনায়ককে। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু, মিসরের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদুল নাসের, চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ সুকর্নো, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্র রায় ও ব্রিটেনের বিরোধী দলের নেতা। কাগমারী সম্মেলনে মওলানা ভাসানী তার ভাষণের একপর্যায়ে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর উদ্দেশে তার সুপরিচিত ও সুবিখ্যাত ‘আসসালামু আলাইকুম’ উচ্চারণ করেন। এই ‘আসসালামু আলাইকুম’র তাৎপর্য বিশাল। উপস্থিত শ্রোতাদের মতে, ‘এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রথম স্পষ্ট দাবি এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সংগ্রাম ও ত্যাগের সংকল্প এই ধ্বনির মাধ্যমে ঘোষিত হয়েছিল।’ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্যে মওলানা ভাসানী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দুই ধরনের বক্তব্যই রাখেন। উপমহাদেশের হিন্দু-মুসলমানের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপরও দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন তিনি। এছাড়া একই বছর তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে ন্যাপ গঠন করেন এবং বামপন্থী রাজনীতির নেতৃত্ব দেন।

আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনঃ ১৯৫৮-৬৯ পর্যন্ত সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী গণআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

ফারাক্কা লংমার্চঃ ৯১ বছরের বুড়ো শরীর নিয়ে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে ফারাক্কা বাঁধের প্রতিবাদে ভাসানী রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান থেকে ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেন। লক্ষাধিক মানুষ এই লংমার্চে অংশ নেয়, যা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল।

মাওলানা ভাসানীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানঃ

স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থানঃ ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরেই পল্টন ময়দানে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানের দাবি জানান। ১৯৭১ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।

ভারতে আশ্রয় ও সক্রিয়তাঃ ২৫ মার্চ রাতে সন্তোষ থেকে পালিয়ে সিরাজগঞ্জ হয়ে ভারতে চলে যান। বিএসএফের সহায়তায় কলকাতায় কোহিনুর প্যালেসে অবস্থান করেন।

আন্তর্জাতিক প্রচারণাঃ মাও সে তুং, নিক্সন ও ব্রেজনেভের কাছে চিঠি পাঠিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা সম্পর্কে জানিয়ে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ ও বাংলাদেশকে স্বীকৃতির আহ্বান জানান।

সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যানঃ মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ (All party advisory council) এর সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন।

জনমত গঠনে ভূমিকাঃ বিভিন্ন বিবৃতি ও বক্তৃতার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে অবদান রাখেন।

0 comments:

Post a Comment