উত্তরাধুনিকতাবাদ বুঝতে হলে আপনাকে ৩ টা ধাপ (ভিন্ন ভিন্ন সময়) বুঝতে হবে।
- প্রাক-আধুনিক যুগ
- আধুনিক যুগ
- উত্তর-আধুনিক
প্রাক-আধুনিক যুগ
প্রাক-আধুনিক যুগের সময়ের মতবাদ ছিল বেশিরভাগ ধর্মকেন্দ্রিক। এই সময়ে রচিত সাহিত্য গুলাও ধর্মকেন্দ্রিক সাহিত্য। তাদের কাছে যুক্তি অপেক্ষা বিশ্বাস ছিল সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। সেটা অন্ধ বিশ্বাস ও হতে পারে। তারা সব কিছুকে বিচার করত ধর্মকে কেন্দ্র করে। বাস্তবতাকেও ধর্ম দিয়ে বিচার করত।
আধুনিক যুগ
আধুনিক যুগের মতবাদ হল আধুনিকতাবাদ - এই যুগে ধর্মকে বাদ দিয়ে বিভিন্ন দর্শন, জ্ঞান, বিজ্ঞান দিয়ে সত্যকে বিচার করত। জগতে সবকিছুই সত্য, অসত্য বলে কিছু নেই। সবই বাস্তব, অবাস্তব কিছু নেই। এটা ছিল এই যুগের বিশ্বাস৷ এই যুগে তারা ছিল বাস্তববাদী।
উত্তরাধুনিক যুগ
এর পর আসে উত্তরাধুনিক যুগ। এই যুগের মতবাদ আগের মতবাদ থেকে অনেক ভিন্ন। উত্তর আধুনিকতাবাদ হচ্ছে যেটা আপনার কাছে সত্য সেটা আমার কাছে সত্য নাও হতে পারে। আপনার বিশ্বাস আপনার কাছে আমার বিশ্বাস আমার কাছে। শুধু দর্শন, বিজ্ঞান দিয়ে সত্যকে বিচার করা যায় না, এখানে আবেগ আছে, অনুভূতি আছে। সবকিছুই যুক্তি দিয়ে প্রমাণ হয় না।
একটা ঘটনাকে কোন দিক থেকে দেখবেন, সেটার উপর ভিত্তি করে ভিশন একেকরকম হবে। যে আপনার কাছে ভাল সে আমার কাছে ভাল নাও হতে পারে৷ আপনি যুক্তি দিয়ে তাকে ভাল প্রমাণ করলে আমি সেটা প্রত্যাখ্যান করব। কারণ আমার দৃষ্টিতে সে খারাপ। এখানে আপনার যুক্তি আমি মানব না। এই জন্য উত্তরাধুনিক যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য বিশ্বাসী।
এদের মতে, প্রত্যেক মানুষের বৈশিষ্ট্য আলাদা। সবাইকে এক যুক্তি দিয়ে মাপা যায় না। সবকিছুই পরম সত্য নয়, সত্যের আড়ালে মিথ্যাও থাকতে পারে। এজন্য তারা আধুনিক যুগের দর্শন, যুক্তি, বিজ্ঞানকে মানতে চায় না। কারণ, আধুনিক যুগ ছিল যুক্তির ও বাস্তবের যুগ।

0 comments:
Post a Comment