জাতিসংঘ সনদের (UN Charter) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অনুচ্ছেদ সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলোঃ
Article 1 - জাতিসংঘের উদ্দেশ্যসমূহঃ
(১) আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা;
(৩) অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সমস্যার সমাধান, এবং মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা;
Article 2 - জাতিসংঘের মূলনীতিঃ
(১) জাতিসংঘ সকল সদস্যের সার্বভৌম ক্ষমতার স্বীকৃতি এবং সমমর্যাদার নীতিতে বিশ্বাসী;
(২) জাতিসংঘের সকল সদস্যই সনদের আনুগত্যের প্রতি অটল থাকবে;
(৩) সব রাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি করবে;
(৪) বিদ্যমান চুক্তি বা নিরাপত্তা পরিষদের নীতি ব্যতীত অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা যাবে না।
(৫) সদস্য রাষ্ট্রসমূহ জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত কার্যাবলিতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে;
Article 24 - নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্বঃ
(১) আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রধান দায়িত্ব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উপর ন্যস্ত থাকবে।
ব্যাখ্যাঃ
এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, বিশ্বব্যাপী শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য মূল দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের উপর অর্পিত। মানে, যখন কোনো দেশ বা অঞ্চলে যুদ্ধ বা সহিংসতা দেখা দেয়, তখন জাতিসংঘের অন্য অঙ্গগুলোর চেয়ে নিরাপত্তা পরিষদই বেশি ক্ষমতা রাখে তা নিয়ন্ত্রণ ও সমাধান করার।
Article 51 - আত্মরক্ষার অধিকার (Collective Security):
যদি কোনো সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আক্রমণ সংঘটিত হয়, তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত, সেই রাষ্ট্রের একক বা সম্মিলিত আত্মরক্ষার অধিকার থাকবে। তবে এই আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পর, তা নিরাপত্তা পরিষদকে অবিলম্বে জানাতে হবে।
Article 99 - মহাসচিবের দায়িত্বঃ
মহাসচিব যদি মনে করেন, কোনো বিষয় আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে, তাহলে তিনি সেই বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদের নজরে আনতে পারেন।
ব্যাখ্যাঃ
এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমে জাতিসংঘের মহাসচিবকে একটি বিশেষ ও স্বাধীন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তিনি চাইলে নিজের বিবেচনায় এমন কোনো পরিস্থিতি বা বিষয় নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করতে পারেন, যেটি ভবিষ্যতে সংঘাত, যুদ্ধ, সহিংসতা বা অশান্তি তৈরি করতে পারে। এছাড়া,
- মানবিক সংকট,
- গণহত্যা,
- রাজনৈতিক অস্থিরতা,
- মহামারি বা শরণার্থী সংকট
এসবও আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য হুমকি হলে মহাসচিব বিষয়টি তুলতে পারেন।
বাস্তব উদাহরণ:
১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় গণহত্যা সংঘটিত হওয়ার আগেই কিছু কর্মকর্তা এই ধারা ব্যবহার করে সতর্ক করার চেষ্টা করেন। দুর্ভাগ্যবশত, ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হয়।

0 comments:
Post a Comment