যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধবিরতির নতুন পরিকল্পনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ মুসলিম দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ২১ দফার এই প্রস্তাব পেশ করেন তিনি।
১. গাজাকে সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ অঞ্চল হিসাবে গড়ে তোলা হবে। যা তার প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে না।
২. ফিলিস্তিনিদের কল্যাণে গাজা পুনর্গঠন করা হবে।
৩. যদি ইসরাইল ও হামাস এই প্রস্তাবে সম্মত হয়, যুদ্ধ অবিলম্বে শেষ হবে এবং ইসরাইল ধীরে ধীরে সেনা প্রত্যাহার করবে।
৪. ইসরাইল প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত এবং মৃত সব জিম্মিকে ফেরত দেওয়া হবে।
৫. কয়েকশ আজীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দি ও গ্রেফতার হওয়া গাজাবাসীকে মুক্তি দেবে ইসরাইল।
৬. শান্তিপূর্ণ সহঅস্তিত্বে অঙ্গীকার করলে হামাস সদস্যদের ক্ষমা দেওয়া হবে। যারা গাজা ছাড়তে চায় তাদের নিরাপদভাবে অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
৭. গাজায় প্রতিদিন অন্তত ৬০০ ট্রাক ত্রাণ ঢুকবে। অবকাঠামো পুনর্গঠন ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর সরঞ্জাম আনা হবে।
৮. ইসরাইল বা হামাসের হস্তক্ষেপ ছাড়াই জাতিসংঘ, রেড ক্রিসেন্ট ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ত্রাণ বিতরণ করবে।
৯. গাজা শাসন করবে অস্থায়ী ফিলিস্তিনি সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গঠিত আন্তর্জাতিক কমিটি তার তদারকি করবে।
১০. গাজার পুনর্নির্মাণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
১১. অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। অংশীদার দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ও প্রবেশাধিকার নির্ধারণ করবে।
১২. কাউকে জোর করে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না। কেউ স্বেচ্ছায় যেতে চাইলে তাকে যেতে দেওয়া হবে।
১৩. হামাসের কোনো রাজনৈতিক ভূমিকা থাকবে না। টানেলসহ সব আক্রমণাত্মক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।
১৪. আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে। যাতে গাজা ইসরাইলের জন্য হুমকি না হয়।
১৫. যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা অস্থায়ী আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করবে। যারা শৃঙ্খলা রক্ষা করবে।
১৬. ইসরাইল গাজা দখল বা সংযুক্ত করবে না। বরং ধীরে ধীরে সেনা প্রত্যাহার করবে। সুরক্ষা বাহিনী গাজায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করবে।
১৭. হামাস সমঝোতায় না এলেও গাজার সন্ত্রাসমুক্ত অংশগুলো আন্তর্জাতিক বাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হবে।
১৮. ইসরাইল কাতারে ভবিষ্যতে হামলা করবে না এবং গাজা সংঘাতে দোহার মধ্যস্থতার কথা স্বীকার করবে।
১৯. আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, মনোভাব পরিবর্তনের মাধ্যমে গাজাবাসীকে চরমপন্থা থেকে ফেরানোর প্রক্রিয়া চালু হবে।
২০. সংস্কার সম্পন্ন হলে ফিলিন্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ‘বিশ্বাসযোগ্য পথ’ তৈরি হতে পারে।
২১. ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের রাজনৈতিক দিগন্ত নির্ধারণে সংলাপ চালু করবে যুক্তরাষ্ট্র।
অরিজিনাল আর্টিকেলঃ https://www.jugantor.com/tp-ten-horizon/1009453

0 comments:
Post a Comment