সৈয়দ শামসুল হকের "নূরলদীনের সারাজীবন" (১৯৮২) একটি মহাকাব্যিক নাটক, যা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক কৃষক বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত।
অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে (১৭৮২–৮৩ খ্রিষ্টাব্দ) রংপুর অঞ্চলে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও জমিদারি শোষণের বিরুদ্ধে নূরলদীন নামক এক কৃষক নেতার নেতৃত্বে যে গণবিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল, তা-ই এই কাব্যনাটকের কেন্দ্রীয় উপাদান। সৈয়দ শামসুল হক এখানে অতীতের বিদ্রোহকে সমকালীন বাংলাদেশের সংগ্রামী চেতনার দর্পণ করে তুলেছেন।
মূল বিষয়বস্তু
১. শোষণ ও বঞ্চনা: ইংরেজ শাসক এবং দেশীয় জমিদারদের অত্যাচারে সাধারণ কৃষক-প্রজার জীবন কীভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
২. প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ: নূরলদীনের নেতৃত্বে নিপীড়িত মানুষের জেগে ওঠা। শোষণের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের চেতনা।
৩. জাতীয় জাগরণ ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা: কাব্যটি কেবল অতীতের কথাই বলে না, বরং এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গেও সংযুক্ত। নূরলদীন হয়ে ওঠেন চিরকালের মুক্তিসংগ্রামীর প্রতীক।
৪. ভালোবাসা ও ব্যক্তিজীবন: নূরলদীনের ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, পরিবার, এসব মানবিক আবেগের মধ্য দিয়ে তাঁকে কেবল নায়ক নয়, মানুষ হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়েছে।
৫. মৃত্যু ও অমরত্ব: নূরলদীনের পরাজয় ও মৃত্যু ঘটে, কিন্তু তাঁর চেতনা অমর। বিদ্রোহী পরাজিত হলেও ইতিহাসে অবিনশ্বর থাকেন।
এ কাব্যের বিখ্যাত উক্তি
জাগো বাহে, কোনঠে সবাই
এই আহ্বানই কাব্যটির মূল সুর, অর্থাৎ ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তোলার ডাক।
0 comments:
Post a Comment