Social Contract Theory হলো রাজনৈতিক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। মানুষ কেন সরকার মানে? কেন সমাজে নিয়মকানুন মানি আমরা? এর উত্তর খুঁজতেই জন্ম হয়েছে Social Contract Theory-র।
ধরেন আপনি একটি ক্লাসে আছেন। ক্লাসের সবাই মিলে ঠিক করলেন, "আমরা ক্লাসে গোলমাল করব না, বিনিময়ে শিক্ষক আমাদের ভালো পড়াবেন।" এটাই একটা ছোট Social Contract!
বাংলাদেশের সংবিধান, ভোটের অধিকার, পুলিশ, আইন, আদালত এই সবকিছুইই Social Contract Theory-র উপর দাঁড়িয়ে আছে।
মূল ধারণাটা কী?
মনে করুন সরকার, পুলিশ, আদালত কিছুই নেই। সবাই যা খুশি তাই করছে। শক্তিশালী দুর্বলকে মারছে, কেউ নিরাপদ না। এই অবস্থাকে বলে State of Nature বা প্রকৃতির রাজ্য। এই অরাজকতা থেকে বাঁচতে মানুষ একটা চুক্তি করল, "আমরা কিছু স্বাধীনতা ছেড়ে দেব, এর বিনিময়ে সরকার আমাদের নিরাপত্তা দেবে।" এটাই হলো Social Contract বা সামাজিক চুক্তি।
তিনজন বড় দার্শনিক, তিনটি আলাদা মত
তিনজন দার্শনিক এই তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছেন, কিন্তু তাদের মত সম্পূর্ণ আলাদা! এই তিনজন হলেন থমাস হবস, জন লক এবং রুশো।
Thomas Hobbes মনে করেন, মানুষ স্বভাবতই খারাপ। সরকার না থাকলে সবাই সবাইকে মারত। তাই একজন শক্তিশালী রাজার দরকার, যে অত্যন্ত কঠোরভাবে শাসন করবে। এই রাজাকেই তিনি বলেছেন Leviathan (বাইবেলের একটি ভয়ংকর দানব)।
অন্যদিকে John Locke এর মতে, মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং তার তিনটি মৌলিক অধিকার আছে: জীবন, স্বাধীনতা এবং সম্পত্তি। সরকার যদি এগুলো রক্ষা না করে, তাহলে জনগণ সরকার বদলে ফেলতে পারে।
এবং Jean-Jacques Rousseau এর মতে, মানুষ ছিল স্বাধীন ও সুখী, সমাজই তাকে নষ্ট করেছে। তার বিখ্যাত উক্তি: "মানুষ স্বাধীনভাবে জন্মায়, কিন্তু সর্বত্র সে শৃঙ্খলিত।" তিনি চাইতেন সবার মিলিত ইচ্ছাই হবে আইন।
সহজ কথায়, Social Contract মানে হলো, মানুষ কিছু স্বাধীনতা ছেড়ে দিবে, আর এর বিনিময়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অধিকার পাবে। আর এই "চুক্তির" শর্ত কী হবে সেটা নিয়েই Hobbes, Locke আর Rousseau তর্ক করেছেন।
0 comments:
Post a Comment