জিএসপি প্লাস (GSP+) সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতি, আইন ও কাঠামোগত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) দেওয়া শর্ত পূরণের লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। নিচে বাংলাদেশের গৃহীত প্রধান পদক্ষেপসমূহ সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো:
১. শ্রম আইন সংশোধন:
- বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ সংশোধন করা হয়েছে (সর্বশেষ ২০২২ সালে)।
- ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে, বিশেষত গার্মেন্টস শিল্পে।
- শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিধান আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
- শ্রম আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। (২৪-১০-২০২৫)
২. ইপিজেড (EPZ) শ্রমিকদের অধিকার বৃদ্ধি:
- পূর্বে ইপিজেডে (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) ইউনিয়ন নিষিদ্ধ ছিল।
- এখন Worker Welfare Association (WWA) গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে শ্রমিকরা সংগঠিত হতে পারে।
- এই অঞ্চলগুলোর জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে - বাংলাদেশ শ্রম আইন (ইপিজেড)।
৩. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সক্রিয়করণ:
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কে আরও কার্যকর করা হয়েছে।
- মানবাধিকার লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্ট প্রদানের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
৪. পরিবেশ সংরক্ষণে পদক্ষেপ:
- শিল্প এলাকায় বর্জ্য শোধনাগার (ETP) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
- জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় জাতীয় নীতিমালা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
৫. সুশাসন ও দুর্নীতি দমনে পদক্ষেপ:
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সক্রিয় হয়েছে।
- সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কিছুটা সংশোধন করা হয়েছে (2023 - 2025)।
৬. আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতি:
- বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ২৭টি আন্তর্জাতিক চুক্তির বেশিরভাগে স্বাক্ষর ও অনুমোদন করেছে।
- এসব চুক্তির বাস্তবায়ন অগ্রগতির রিপোর্ট EU-এর কাছে নিয়মিত পাঠানো হচ্ছে।
- গত ২৯ আগস্ট ২০২৪ গুম বিরোধী কনভেনশনে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে।
৭. আইন ও বিচার ব্যবস্থায় অগ্রগতি:
- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কার্যকর করা হয়েছে।
- বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তিতে কিছুটা গতি আনা হয়েছে।
- বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে (যদিও আরও উন্নয়ন প্রয়োজন)।
৮. ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ:
- EU-Bangladesh Joint Commission এর অধীনে নিয়মিত বৈঠক ও অগ্রগতি পর্যালোচনা হয়।
- বাংলাদেশ সরকার GSP Plus Roadmap অনুযায়ী অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে।
বাংলাদেশ জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জনে অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, বিশেষত শ্রম অধিকার, মানবাধিকার ও পরিবেশ সংরক্ষণে। তবে এখনো আইনের বাস্তবায়ন, বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ে আরও অগ্রগতি দরকার।

0 comments:
Post a Comment