Doctrine of Necessity কী? এর আলোকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধতা সম্পর্কিত আলোচনা


The wellbeing of the people is the supreme law Ivor Jennings

Doctrine of Necessity

এর মূল বক্তব্য হলো, যদি কোনো কাজ সংবিধান দ্বারা অনুমোদিত না হওয়া সত্ত্বেও সদ্বিশ্বাসে এবং সৎ উদ্দেশ্যে সংবিধান, জনগণ ও রাষ্ট্র বা সমাজ রক্ষার উদ্দেশ্যে করা হয়, তবে তা সংবিধানসিদ্ধ হিসেবে গণ্য হবে। এই মতবাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক শৃঙ্খলার উপরে ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো। যেমন সাংবিধানিক সংকট বা সরকার ভেঙে গেলে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবেলা করা। এটি প্রথম জনপ্রিয় হয় পাকিস্তানে, বিচারপতি মুনিরের রায়ে (১৯৫৪)। পরে বিভিন্ন দেশের আদালত ও সরকার বিভিন্ন জরুরি পদক্ষেপকে বৈধতা দিতে এই তত্ত্ব ব্যবহার করেছে। জাতিসংঘের আইন কমিশনে এই তত্ত্বের বৈধতার কথা বলা আছে।

উদাহরণঃ
  • ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারকে অবৈধ করে পরবর্তী সরকার গঠন।
  • ১৯৯০ এ স্বৈরাচার এরশাদ খেদানো পরবর্তী সরকার গঠন।
  • ২০২৪ এর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই তত্ত্বের আলোকে গঠিত হয়েছে।


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধতা

যদি জনগণের আশা-আকাঙ্খা পুরণ না হয় কিংবা আইনের শাসনে সরকার ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণের অধিকার আছে সরকারের কাছে অর্পিত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার। এই ক্ষমতা ফেরত নেয়ার সাধারণত দুইটি পদ্ধতি রয়েছেঃ
  • নির্বাচন প্রক্রিয়া (গণভোট বা জাতীয় নির্বাচন)
  • অভ্যুত্থান বা বিপ্লব
বাংলাদেশে ২৪ এর জুলাইয়ে অভ্যত্থান সংঘটিত হয়েছে যার বাস্তবতায় স্বৈরাচার হাসিনা তার দলবল নিয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। এমতাবস্থায় দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা ও সংকট সৃষ্টি হয়। এমন সংকট মোকাবেলার জন্য রাষ্ট্রপতি বিচারবিভাগের পরামর্শ চান এবং বিচার বিভাগ ডকট্রিন অফ নেসেসিটির আলোকে সরকার গঠনের বৈধতা দেয়। সেই পরামর্শ মোতাবেক ৮ আগস্ট, ২০২৪ ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নের্তৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়।

এছাড়াও, সাংবিধানিক দিক থেকেও এই সরকার বৈধ্য, কারণ এটি একটি অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছে, যার জন্য ১৪০০ এর অধিক নিরীহ জনগণকে প্রাণ দিতে হয়েছে। জনগণ যে লড়াই, ত্যাগ ও সংগ্রাম করেছে, এর মাধ্যমেই এই সরকার তার বৈধতা অর্জন করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা পালানোর সময় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছে নাকি দেয় নাই সেই আলোচনাই এখানে নিষ্প্রয়োজন এবং অপ্রাসঙ্গিক।

0 comments:

Post a Comment