বাংলাদেশের অর্থ পাচার এবং ফেরত আনতে করণীয়


প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার করে গত সরকারের (খুন ও স্বৈরাচার হাসিনার সরকার) আমলে ১৭ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ পাচার হয়েছে। এই ভয়ঙ্কর তথ্য শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে।

দেশে বিদ্যমান আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে দেশের বাহিরে অর্থ বা সম্পত্তি প্রেরণ বা রক্ষণকে অর্থ পাচার হিসেবে গণ্য করা হবে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২

অর্থপাচারের উপায়ঃ

  1. ওভার ইনভয়েসিং/আন্ডার ইনভয়েসিং
  2. হুন্ডি
  3. মোবাইল ব্যাংকিং
  4. উচ্চ শিক্ষার ক্রেডিট ট্রান্সফার
  5. পণ্য আমদানির মিথ্যা ঘোষণায় এলসি খোলা

অর্থ পাচারের কারণঃ

  1. এদেশে ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন সহজ
  2. দেশের অর্থনৈতিক ভঙ্গুর অবস্থা, তাই এখানে বিনিয়োগ করে প্রফিট করা খুব কঠিন
  3. সুশাসনের অভাব
  4. আইনের প্রয়োগ নেই
  5. রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীরা তাদের সম্পদ নিয়ে টেনশনে থাকেন

অর্থ পাচার ঠেকাতে যারা কাজ করেঃ

  1. সিআইডি
  2. মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর
  3. বাংলাদেশ কাস্টমস
  4. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)
  5. পরিবেশ অধিদপ্তর
  6. বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন
  7. দুদক

অর্থপাচারের গন্তব্যঃ

বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ সবচেয়ে বেশি যেখানে পাঠানো হয়ঃ
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. কানাডা (বিখ্যাত বেগমপাড়া)
  4. অস্ট্রেলিয়া
  5. সিঙ্গাপুর
  6. হংকং
  7. আরব আমিরাত
  8. মালেশিয়া (বিখ্যাত Second Home)

অর্থপাচার বন্ধের উপায়ঃ

  1. দুর্নীতি বন্ধে প্রযুক্তি ব্যবহারঃ বন্দরে স্ক্যানার বসানো
  2. বিদেশে রাজস্ব দপ্তর স্থাপনঃ ভারত সরকার বিভিন্ন দেশে রাজস্ব দপ্তর স্থাপন করে সংশ্লিষ্ট দেশে ভারতীয় নাগরিকদের অর্থ পাচারের তদন্ত চালাচ্ছে
  3. সক্ষমতা ও সমন্বয় বাড়ানোঃ NBR'র ট্রান্সফার প্রাইসিং সেলের মাধ্যমে বাজারে প্রচলিত পণ্যের মূল্য Over invoicing হচ্ছে কিনা তা চেক করা যায়।
  4. কঠোর আইনি প্রয়োগ ও দৃষ্টান্তঃ
    1. মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২
    2. পাচার করা অর্থের দ্বিগুণ জরিমানার বিধান রয়েছে
    3. জড়িতদের ১২ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে
  5. পাচারকারীদের নাম প্রকাশ
  6. আইন প্রয়োগ ও ল' ফার্ম নিয়োগ
  7. মানি এক্সচেঞ্জে নজরদারিঃ অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জে দৈনিক প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। [Source: Dhaka Post]
  8. অনলাইনে প্রকৃত হিসাব যাচাইঃ সবার বেতন ভাতা প্রভৃতি অনলাইনে করা জরুরি
  9. সোনা চোরাচালান বন্ধঃ সোনা চোরাচালানের মাধ্যমে প্রতি বছর ৭৩ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়। [Source: Prothom Alo]

পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উপায়ঃ

  1. অর্থপাচারের বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনতে হবে।
  2. যে দেশে অর্থ পাচার হয়েছে সে দেশের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (FIU) সাথে পারষ্পরিক তথ্য বিনিময়।
  3. Mutual Legal Assistance এর ব্যবহার।
  4. Egmont Group এর সহযোগিতা নেওয়া, যারা অর্থপাচার রোধ করে।
  5. UNCAC এর সহায়তা নেওয়া।
  6. অন্য কোনো দেশ যারা এধরণের পরিস্থিতিতে টাকা ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছে তাদের সহায়তা নেওয়া। যেমন, ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুর প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার সম্পদ জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।
  7. মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ কে সংশোধিত করে আরো শক্তিশালী করা।
  8. BFIU এর তৎপরতা বাড়ানো এবং আইন সংশোধন করা।
  9. ট্যাক্স হেভেন দেশগুলোর (Tax Heaven Countries) সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা।
  10. দুদক, সিআইডি ও BFIU মিলে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা।
  11. যেসব দেশে টাকা পাচার হয়েছে, সেসব দেশের সাথে ইকোনোমিক ডিপ্লোম্যাসি প্রয়োগ করা।
  12. ট্র্যাক ২ (Track II) ডিপ্লোম্যাসি প্রয়োগ করা, যেন সরকারের সাথে Non-State Actors রাও সহযোগিতা করতে পারে।
  13. যেসব দেশে টাকা পাচার হয়েছে, সেসব দেশের সাথে MoU (Memorandum of Understanding) করা।
  14. Public Diplomacy'র মাধ্যমে জনসমর্থন আদায় করে পাচার হওয়া দেশে চাপ প্রয়োগ করা, যেন টাকা ফেরত দেয়।

অর্থপাচার প্রতিকারঃ

  1. দুদকসহ অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তার দ্বারা সার্ভাইলেন্স ও আন্ডারকাভার অপারেশন চালনার বিধান নেই। এর সমাধানে প্রো-একটিভ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
  2. মানি লন্ডারিং উদ্ঘাটনের ক্ষেত্রে ফরেন্সিক একাউন্টিং টেকনিক ব্যবহার করতে হবে।
  3. ক্রস বর্ডার অপরাধের ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য অন্যান্য আঞ্চলিক সংস্থা, জোটের সাথে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।
  4. মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন।
  5. সরকার কর্তৃক প্রণীত জাতীয় কৌশলপত্রের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন।
  6. Mutual Legal Assistance Request প্রণয়ন, বিদেশি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় সাধনের জন্য বিশেষজ্ঞ লোকবল নিয়োগ করে মানি লন্ডারিং অনুবিভাগ তৈরি করা।
  7. বাংলাদেশ থেকে যেসব দেশে অর্থ পাচার হয়, সেসব দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক আইনি সহযোগিতা চুক্তি করা।

0 comments:

Post a Comment