জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশগ্রহণকালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মায়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও অন্য সংখ্যালঘুদের নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. ইউনূস রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে সাত দফা প্রস্তাব উত্থাপন করে রোহিঙ্গাদের দ্রুত রাখাইনে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মায়ানমার ও আরাকান আর্মির ওপর চাপ সৃষ্টিসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে চিরতরে এই সংকটের সমাধানের আহবান জানান। প্রস্তাবগুলো হচ্ছে:
- রাখাইনে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরি করা।
- মায়ানমার ও আরাকান আর্মির ওপর চাপ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং সম্প্রতি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করা।
- রাখাইনে স্থিতিশীলতা আনতে আন্তর্জাতিক সহায়তার বন্দোবস্ত করা এবং তা পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক বেসামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
- রাখাইনের সমাজ ও শাসনব্যবস্থায় রোহিঙ্গাদের টেকসই অন্তর্ভুক্তির জন্য আস্থা গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া।
- যৌথ পরিকল্পনায় অর্থদাতাদের পূর্ণ সহায়তা নিশ্চিত করা।
- জবাবদিহি ও পুনর্বাসনমূলক ন্যায়বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
- মাদকের অর্থনীতি ধ্বংস করা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন করা।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাঁর লিখিত বক্তব্যে মায়ানমারে দশকের পর দশক ধরে সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন-সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে সংকট সমাধানে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান। পদক্ষেপগুলো হলো:
- সব পক্ষকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা আইন ও মানবাধিকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা অগ্রাধিকারে রাখা।
- মায়ানমারে বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং কোনো সম্প্রদায়কে খাবার, ওষুধ ও জীবনরক্ষাকারী সহায়তা থেকে বঞ্চিত না করা এবং
- মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থায়ন করা।
সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কোটি এবং যুক্তরাজ্যের তিন কোটি ৬০ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা। নিঃসন্দেহে তা বিদ্যমান তহবিল সংকটের সুরাহা ঘটাবে।
রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টির শুরু থেকেই বাংলাদেশ প্রতিবছর জাতিসংঘে সংকট সমাধানের জন্য আবেদন জানিয়ে আসছে, কিন্তু কিছুই ঘটেনি। দুবার তারিখ নির্ধারণ করেও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। শিগগিরই যে যাবে তেমন সম্ভাবনাও কম দেখা যাচ্ছে। তবে আমাদের এবং মায়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোকে, বিশেষ করে চীন ও ভারতকে সম্পৃক্ত করা গেলে প্রত্যাবাসন সম্ভব হতেও পারে।
Original Article: রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধান কিভাবে সম্ভব

0 comments:
Post a Comment